মর্মাহত জাতি অতি দ্রুত বিশ্বজিত হত্যার বিচার পেয়ে অবশ্যই স্বস্তি পেয়েছে। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এমনটা বলতে হয়নি। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়-জ্ঞান বাক্যের এমন বাস্তবতা বরং জাতি চোখে দেখল। বিশ্বজিতের রক্তের দাগ না শুকাতেই -নারায়নগঞ্জের সাত খুন জাতির প্রতি অসভ্যতার নৃশংস আক্রমনের আরেকটি রক্তক্ষরণ। আশা করি সরকার সহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক ব্যবস্থায় অতি দ্রুত প্রকৃত খনুীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবে। ফলে আইনি শাসনের প্রতি জাতির বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পাবে। মনে রাখা দরকার ঐ সাত খুন নিয়ে রাজনীতি করা আত্মঘাতি হবে। যাই হউক জাতি আশান্বিত এ জন্য যে -সাত খুন মামলার বিচারিক ব্যবস্থাটির সূচনা মন্দ নয়। বিশ্বজিত হত্যার অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির উদ্যেগ গ্রহনে সরকার ও আমাদের বিচার বিভাগের প্রশংসা না করাটা অবশ্যই অকৃতজ্ঞতা। এমনি ভাবে -সকল অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা দেখে জাতি কৃতজ্ঞ হতে চায়। বিশেষ করে যে অপরাধগুলো জাতিকে ছদ্মবেশে ছোঁবল মেরে লাশে পরিনত করছে। আজকাল এদিক-সেদিক তাকালেই চোখে পরবে বড়-বড় ব্যানার। যাতে লিখা রয়েছে ১০০% কেমিক্যাল মুক্ত আম । দেখেতো খুশিতে আত্মহারা..! আর ভয় নেই...! টাকার জোরে ৫/১০ কেজি একেবারে সাহেবের গাড়িতে। কেমিক্যাল মুক্ত ঘোষনার মধ্যে সততার পরিমান কতগ্রাম ? ক্রেতা ভাই- ভেবে দেখার সময আপনার আছে কী । ব্যানারে এ মিথ্যা কথন সংযোজন বিংশ শতাব্দির ব্যবসায়িদের অপকৌশলি চাতুরি মাত্র । নৈতিক পচনের প্রভাবে খাদ্য-দ্রব্যের বড় উপাদান আজ এই কেমিক্যাল কিংবা ফরমালিন । যা গিলে-গিলে জীবন নাশক গড ফাদার ক্যান্সার সহ অন্য সব মরণ ব্যাধির কারখানায় পরিনত হয়েছে আমাদের সোহাগের এই মানব দেহ। চিকিৎসক বলছেন- থেরাপি দিন, আরতো কিছু করার নেই, যা খেতে চায় খেতে দিন..! অতঃপর শুরু হয় রোগীর অধ্যাত্ম জীবন , ঈশ্বরের মন্ত্র জপেন, সবার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চান । পরকালে গমনের প্রস্তুতি হিসাবে শেষ সম্বল বিক্রি করে ক্রয় করেন- কাফনের কাপড়...! সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রপরিচালিকা শক্তির কাছে তাই আজ গগণ বিদারি প্রশ্ন-বাঙালী আর কতকাল কাফনের কাপড় কিনবে ? খাদ্য-দ্রব্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রনে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রতিষ্ঠানের আইন প্রয়োগের মাধ্যমে করনীয় সব কিছু অতি দ্রুত বাস্তবায়ন ব্যতিত অন্য কোন গত্যান্তর আছে কী ? ভেবে দেখুন- পাতাল রেল কিংবা সাধের পদ্মা সেতু র্নিমিত হলেও , অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে সেই সেতুতে- অসুস্থ মানুষেরা পারাপার হচ্ছে । মনে রাখা দরকার- পদ্মা সেতুর জন্য মানুষ নয় বরং মানুষের জন্যই পদ্মা সেতু । ফরমালিনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা বিকলাঙ্গ হয়ে -চেয়ে চেয়ে দেশের যে উন্নতি দেখবে, সেই উন্নতির কোন প্রয়োজন আছে কী ? সুতরাং বিশ্বজিত হত্যার বিচারের মত গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য-দ্রব্যে কেমিক্যাল কিংবা ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক অনুধাবন করে -বাঁচাতে হবে গর্ভবতী মায়েদের সহ আপামর জনগণকে । জনগণের দেহকে এনালগ রেখে দেশের দেহকে ডিজিটাল করা হলে কার কি লাভ হবে ? বরং আমরা চাইবো ডিজিটাল বাংলাদেশ হউক সুস্থ- স্বাভাবিক বাঙালির নিরাপদ আবাস ভূমি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



