somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহুরে ফোকলোর

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পিচ্চির কান্নায় ঘুম ভাংল । মসজিদ টা ব্লিডিং এর সাথে লাগানো হওয়ায় আজানের শব্দটা জোরে পাওয়া যায় । মসজিদে ফজরের ওয়াক্তে মুসুল্লি এক কাতার পুরা হয়না কিন্তু মাইকের আওয়াজে দুই চার দশ মাইলে টেকা দায় । চারতল পাচ তলা মসজিদ জুম্মা ছাড়া মুসুল্লী নাই । ওদিকে ফজরের সময়ও ইউভার্সিটির আবাসিক এরিয়ায় কাকের ডাক । সারা রাত থেমে থেমে এই কাক গুলো ডাকে । নি:শব্দ রাতে দুরে চিতকার চেচামেচির আওয়াজ পাওয়া যায় । কিছুখন পর পর দ্রুম দ্রুম করে ককটেল ফাটার আওয়াজ । সারা রাত দুটো বিড়াল ঝগড়া করে পলিটিয়ানদের মত । তারা থামেনা । একটু দরজা খুল্লে আওয়াজ টা তীব্র হয়ে ঘরে ঢোকে ।

সাড়ে সাতটায় বের হলাম হাটতে । ক্যামপাসের দেয়ালে বিখ্যাত নোবেল লেরিয়েট দের বানী ।
শিখ্খা সন্ত্রাস একবারে চলতে পারেনা ।
এখন দারুন মহাকাল দেশ হয়েছে ডিজিটাল ।
শিখ্খা পন্য নয় ।
বিপ্লবে মুক্তি ।
আমরা পাহারী আমরা বাংগালি না ।
৫ই জানুয়ারী শুভদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন ।
যা নাই দুনিয়াতে তা আছে বাংলাদেশে ।

ভাবলাম ফুটপাত ধরেই হাটি । হাটতে হাটতে টিএসসির সামনে দিয়ে চলে গেলাম কার্জন হলের দিকে । হাটা আর হলনা । উন্নয়নের খানা খন্দে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে রিকশা নিতে হল । এর আগে একদিন হোটেল আল রাজ্জাক কে পায়া আনতে গিয়ে পাইনি আজ আনার ইচ্ছা । মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নীচে দিয়ে বংশাল হয়ে গেলাম আল রাজ্জাকে সোয়া আটটা বাজে আজও পায়া শেষ ।

ঘুরে স্টার এ গেলাম সেখানেও একি অবস্থা । সারা শহর পুলিশ, আতংক এর মধ্যে মানুষ এত খাদক হয় কেমনে । সকাল সোয়া আটটায় খাশির পায়া শেষ । আমি না হয় শখে গেছি বাকীরাও কি শখে নাকি ।

স্টার থেকে বের হবার সময় পাশে দেখি গরম গরম জিলাপী । দেখেই লোভ হল কিনলাম । কয়েক ফিট জায়গার মধ্যে দোকান । দোকানদার উর্দু স্পিকিং আমার সাথে বাংলায় পাশের লোকের সাতে উর্দুতে বাতচিত করছে । এরা ৭১ এ পাকিস্তানের বন্ধু ছিল । হোসনি দালান থেকে মিছিল বের করত । মিছিলের স্লোগান থাকত

হাকমে বিড়ি
মৌমমে পান
লড়কে লেংগে পাকিস্তান ।

অনেকটা মানুষ বিহীন রাস্তা । পত্রিকার দোকানে মানুষের ভিড় । যারা আশেপাশের বাসিন্দা তারা যেন দাড়িয়ে শহরটাকে নুতন করে দেখছেন । কেউ দাত ঘষছে । কেউ পেপার পড়ছে । বেশির ভাগ রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ী । গাড়ীর সাথে ঘোড়াগুলো বাধা । রাতের ঠান্ডা থেকে বাচতে ঘোড়াগুলোর গায়ে চট দেয়া হয়েছিল । সকালে ওদের গায়ের চট গলায় ঝুলে আছে । আর আশে পাশে মলমুত্র ত্যাগ করিয়াছে যাহার গন্ধ পথচারিদের নাকে লাগিতেছে । আমার মত অভ্যাসবিহীন মানুষজন নাকে হাত দিয়া যাইতেছেন ।

পাশেই ধুমছে চলছে পিঠা বিক্রী । তেলভাজা পিঠা, চিতাই পিঠা, ভাপা পিঠা । এমনটাই এদেশের সব কিছুর স্টান্ডার্ড । গুয়ের ড্রেন থাকবে তার পাশে খাবার বিক্রী হবে । মানুষ ধুমছে খাবে ।

পুরান ঢাকার আরও কিছুর মধ্যে আছে যেমন এখানকার ইয়াং ছেলেরা কোকের ক্যান খেয়ে রাস্তায় ছুড়ে মারে । ড্রেনের মধ্যে শত শত মানুষের মধ্যে হিসু করে । ভাবাবেগ নেই ।

মুখ দিয়ে ভাব বের হওয়া এমন সকালে ওষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটিভরা ঢাকা মেডিকেলের সামনে ওষধের ফর্দ বের করিয়া বিক্রীর হিসাব কষিতেছে । বন্যা, জলচ্ছাস,ঘুর্নিঝড়, যাই হোক ওষধ বিক্রী করতেই হবে । বিরামহীন এক জীবন ।

বিরস মুখে রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ।

কর্মজীবি মানুষরা আস্তে আস্তে রাস্তায় নামছে । যা কিছুই হোক জীবন জীবিকার তাগিদে ছুটতে হবে । দেশের পাগল রাজনীতিবিদরা সেটা বুঝুক বা না বুঝুক । কেননা রাজনীতিবীদদের সকালের নাসতা, দুপুরের ভাত, রাতের ভাত, বাড়ী,গাড়ী, নারী, সব আসে রাজনীতি থেকে তাই টেনশন নেই । পুলিশের কনস্টেবল হতে ছয়মাসের ট্রেনিং লাগে । কিন্তু রাজনীতিবিদ হতে কিছ্ছু লাগেনা । মাদক ব্যবসায়ী, গুন্ডা, ডাকাত, লুটেরা যেকেউ রাজনীতিবিদ হতে পারে ।

৩০/১২/২০১৩
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×