somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহুরে ফোকলোর

২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট একদিন তোরা হবি প্রেসিডেন্ট। তোদের মধ্যে কেউ একজন হবে । আমি খুব আশায় বুক বাধলাম । কিন্তু স্যারের শেষ কথাটাতে আমার একটু খটকা লাগল ।

তোদের মধ্যে কেউ একজন হবে । তখন আমার ক্লাশ ফ্রেন্ড লেলিন, তইদুল, নুর আলম, বিপ্লব কুমার মহন্ত, কালিদাস, শামীম, লিখন, মটু রাজিব বাকীদের নাম মনে নাই । স্যার যেহেতু বল্ল কেউ একজন হবে তার মানে লেলিন, তইদুল, কালিদাস, বিপ্লব, শামীম, লিখন এদের ও চান্স আছে । বা ক্লাশের যাদের সাথে আমার জানাশুনা নাই তারাও হতে পারে ভেবে মনটা খারাপ হল ।
এরমধ্যে আবার সে সময় লেনিনের বাপের গাড়ী ছিল । হুদা পরিবহন মনে হয় নাম ছিল । সব মিলে মনটা বেশ খারাপ হল ।

আমি অপেখ্খায় থাকলাম । আমি বা আমার ক্লাশের কেউ একজন প্রেসিডেন্ট হব । এদিকে স্কুলের মনখারাপের মাঝে নিয়ন ভাইয়ের গল্প যেন আরও এককাঠী সরেস । নিয়ন ভাইয়ের মামার রকেট আছে । সেটা তিনবিঘা জমির উপর নামে মানে ল্যান্ডিং করে । । নিয়ন ভাই ও আমার ফ্রেন্ড চয়ন - নিয়ন ভাইয়ের ছোটভাই তারা দুজনি সেই রকেটে চড়েছে । কেমনটা লাগে ।

আমার মামার ট্রাক ছিল, ট্রাকটর ছিল, বাইক ছিল । নানীর বাড়ী গেলে সেগুলোতে চড়ার বেশ সৌভাগ্য হয়েছে । কিন্তু ট্রাকে, ট্রাকটরে, বাইকে চড়া আর রকেটে চড়া তো এক না । মনের দু:খে একদিন আম্মা কে বল্লাম বড় মামার রকেট নাই কেন ?
আম্মা ঝাড়ি মেরে বল্ল পড়াশুনার খবর নাই ওনি রকেট ওয়ালা হইছে ।

চয়ন কে বল্লাম রকেট টা কি তোমার মামা এদিকে আনবে বা আনলে আমাকে চড়তে নিবা ?
চয়ন বল্ল আনলে তো অবশ্যই নেব । কিন্তু চয়নের ফ্রেন্ড এবং আমার ফ্রেন্ড লিমন, তাজুল, ওরাও যদি চড়তে চায় । একসাথে সবার জায়গা কি হবে ? আচ্ছা অপেখ্খায় থাকি ।

এমন ভাবনা চিন্তার মাঝে মিনু স্যারের প্রেসিডেন্ট বিষয়ক ব্যাপারটা কারও সামনে বলা গেলনা । আবার কে কি বলে । অপেখ্খায় থাকি । বড় হয়ে তো একদিন প্রেসিডেন্ট হবই ।

ওদিকে হলিকপ্টার এলাকার আকাশে এলে সেটার পেছনে দৌড়ানো আমাদের জন্য মহান বীরত্বের বিষয় । এমন বীরত্বের মাঝে পল্লব আমাদের সাথে হেলিকপ্টারের পেছনে দৌড়ে সে হঠাত করে রাস্তার কোথাও একটা বিড়ির মোতা বা টিপস হাতে নিয়ে বলত আল্লাহর কসম এইটা মোতাটা হেলিকপ্টার থেকে পড়ছে । আমরা বিশ্বাস করতাম । আর আপসোস করতাম ইস কেন আমি পাইনা । সব সময় পল্লব ই পায় ।

নাইট রাইডার দেখে বা প্রেসিডেন্ট এরশাদের ভোটের সময় টারজান দেখে পরের দিন বাংলা তরজমা পল্লব করত । যদি আমরা যদি বলতাম- না, তখন নায়ক তো এইটা বলছিল । পল্লব বলত আমি মেজভাইয়ার সংগে বসে দেখছি । মেজভাইয়া বলছে । ভয়ে আর কথা বলা যাইতো না । মেজভাইয়ার সাথে দেখছে সেইটারে তো আর ফেলে দেয়া যায়না । মেজভাইয়া নিশ্চই ইংরেজী অনেক ভাল জানে ।

তারপর শুক্রবারের নামাজ । মকবুল হুযুর বলত কাল কিয়ামতের দিন পাহাড় উড়বে । গাছপালা উড়বে । ঘরবাড়ী উড়বে । আবার টেনশন । রাতে ঘুমের আগে নানাবিধ টেনশন । যদি আমি ঘুমের মধ্যে থাকতে কিয়ামত হয় তাহলে । আমি সহ উড়ব নাকি ? উড়ে কোথায় যাব ? কে কে থাকবে সেখানে । কাউকে বল্লে না আবার কষায় থাপ্পর মারে । ভয়ে বলিনা । তারচেয়ে বরং অপেখ্খায় থাকি কিন্তু মনের ভয় যায়না ।

এই অপেখ্খায় থাকতে থাকতে প্রেসিডেন্ট আমার ক্লাশের কেউ হওয়া তো দুরের কথা আমার সময়ের কেউ হলনা । এরশাদের পর রহমান বিশ্বাস, সাহাবউদি্দন, বদরুদ্দিন, ইয়াজউদ্দিন, হামিদউদ্দিন সাহেবরা প্রেসিডেন্ট হল । আমরা বা আমাদের সময়ের কেউ এখনো হলনা । রকেটে চড়া হলনা । কালকের কিয়ামত হলনা । সিগারেটের টিপস কুড়িয়ে পাওয়া হলনা । যা হল সেটা ভয় পাওয়া ।

রাতের ভয় আর দিনের ভয় । পুরো রাস্ট্র ব্যবস্থা এমন ভয় দিয়ে সাজানো ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৬
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বন্যায় প্লাবিত কুড়িগ্রাম; জনজীবনে দুর্ভোগ

লিখেছেন আরাফাত আবীর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০২

কুড়িগ্রাম; যে জেলাকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা বলা হয়। দেশের আর কোথাও এখন 'মঙ্গা' কার্যক্রম দেখা না গেলেও, এখানে 'মঙ্গা' কার্যক্রম প্রতিবছর চালু থাকে। এখানকার মানুষদের এখনো শুনতে হয়, 'আরে!... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৫১



১। বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে এমন একজন লেখক হচ্ছেন- হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুর কথা মনে পড়লেই কোত্থেকে যেন এতগুলো কষ্ট এসে জমে বুকে। আমার সবচেয়ে প্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্ণবাদকে উসকে দিচ্ছেন আমেরিকায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৪৫



বহুবর্ণের মানুষের দেশ হিসেবে, বর্তমান বিশ্বে, আমেরিকা সবচেয়ে কম বর্ণবাদী সমাজ; ১৯৬০ সালের পর, এই দেশে বর্ণবাদ দ্রুত সহনশীলতার মাঝে আসে, এবং গত ৪০ বছর বর্ণবাদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রেমবন্দির গল্প-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১০

©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
গত এপ্রিল মাসে আম্মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ইসলামিয়া ইস্পাহানী চক্ষু হাসপাতাল চোখ দেখাতে। সেখানে চোখ দেখাতে অনেক ঘুরাঘুরি করতে হয়। ফাইল কাগজপত্র এখান থেকে সেখানে, সেখান থেকে ওখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাহিত্যকর্ম

লিখেছেন এমজেডএফ, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮


দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯ জুলাই, ১৮৬৩ - ১৭ মে, ১৯১৩) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা। তিনি ডি. এল. রায় নামেও পরিচিত ছিলেন। আজ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×