somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি হত্যার গল্প

৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

The most painful goodbyes are the ones that are never said and the never explained.
I am deeply sorry for your loss
Dear,
Mahamudul Hasan Chowdhury (Maidul)

প্রিয় মাইদুল,
এ চিঠি, এ লেখা তোর ঠিকানায় কোনদিন পৌছাবে না । তুই বিলিয়ন বছরের পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া মানুষদের সাথে মিশে গেলি । যেখান থেকে কেউ ফেরেনা । তুইও আর ফিরবি না । তোর হাইস্কুল মাঠের আড্ডা, মাদ্রাসা মাঠের আড্ডা, কলেজের পুুকুরে গোসল, ক্রিকেট, ফুটবল খেলা সব আজ স্মৃতি । ঢাকাতে তোর বড় বোনের বাসাতে, তোর আব্বুর কাছে, তোর ভাইয়ার কাছে আর ফিরবিনা তোর ল্যাপটপে আর তোর হাতের আংগুল পড়বেনা । বেতন পেয়ে তোর আব্বুকে টাকা পাঠাবি না । এমআইটিতে পিএইচডি করছে তোর ধীমান দাদা আমাকে ফোন দিয়েছিল । সে দুদিন আগে তোর সাথে কথা বলেছে । তুই এমআইটির কোন এক কনফারেন্সে বা ট্রেনিং এ আসার ইচ্ছা । তোর ঢাকার আপুর বাসাতে হাওরে যাবার আগে ভাত খেয়ে এসছিস সেটাও জানলাম । কিশোরগন্জের হাওর থেকে ফিরে তুই তোর কর্মস্থল ফুলবাড়ী, দিনাজপুরের অফিসে জয়েন করতি । কত কাজ করবার স্বপ্ন ছিল তোর, সেটা আর হলনা ।

সবাই বলছে তুই মারা গেছিস । আমি বলছি তোকে হত্যা করা হয়েছে । তোর নৌকা হাওরের পানিতে হেলে পড়া পল্লী বিদুৎের খুটির তারের সাথে লাগে । তোর পাচজন বন্ধু সেনচলেস হয় । তুই মারা যাস । পল্লী বিদুৎ নামক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে তোর মৃতু হল । হেলে পড়া খুটিতে বিদুৎের সন্চালন ছিল এটা পল্লী বিদুৎের বাবুরা চিহ্নিত করে একটা ব্যবস্থা নিতে পারতেন । কমছে কম একটা লাল পতাকা লাগিয়ে বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতেন । শুনলাম তোর মৃতুর সে একই জায়গাতে এর আগেও মারা গেছে । তবুও কতৃপখ্খের টনক নড়েনি । এদেশে লন্চে এক সাথে চারশ, পাচশ, একহাজার মানুষ মারা গেলে কারও কিছু যায় আসেনা । মৃত পরিবার কে একটি করে ছাগল কখনো দশ হাজার টাকা সন্মানী প্রদান করা হয় । তারপর বলা হয় আল্লার মাল আল্লাহ নিয়া গেছে । মাল থাকে মাটিতে আল্লাহ থাকেন আকাশে ।

কেউ কেউ বলছে হাওরে সন্ধার পরে থাকা নিষেধ । কিশোরগন্জের প্রশাসনের এমন আইন নাকি করা আছে । আমার প্রশ্ন এই আইন করা প্রশাসন কেন জানল না ওখানে একটা মৃতুর ফাদ আছে ? শুনি আমাদের দেশের এই প্রশাসন সবচেয়ে নাকি ভাল জানে কি করে তিনহাজার টাকার পর্দা তিনকোটি টাকায় কেনা যাবে ?

তুই যদি কোন মন্ত্রী হতি আজ তুই বেচে থাকতি । কিশোরগন্জের সরকারী হাসপাতালে তোর ময়না তদন্ত হতনা । তোর উদ্ধার অভিযান করতে তিনঘন্টা লাগত না । এয়ারএমবুলেন্স আসত । বিদেশের ডাক্তার আসত তারপর তোর চিকিৎসা হত সিংগাপুরের মাউন্টএলিজাবেদে । তোর মৃতু নিয়ে কথা বলতে, একজন জানতে চাইল তোরা নৌকায় কতজন ছিল ?
উওরে বল্লাম প্রায় ১৫ থেকে ১৭ জন । ওনি উওরে বল্ল আপনি সোবহান আল্লাহ বলেন । ১৫ বা ১৭ জনে মাত্র একজন মারা গেছে । পুরো পনের বা সতের জন মারা যায়নি ।

জানাশুনা সবাই তোর জান্নাত পাবার বিষয়ে দোয়া করছে । কেউ আমিন আমিন বলছে । আবার অনেকেই তোর মৃতুর সান্তনা পেয়েছে তুই নৌকাতে ছিলি ।
বাংলা বিখ্যাত প্রবাদ আছে যার মরন যেখানে নৌকা ভাড়া করে যায় সেখানে ।
তুই নৌকা ভাড়া করে মৃতুর কাছে গিয়েছিলি । হিসাব একদম বরাবর । এতে কারও কোন গাফিলতি নাই । মাঝে খবরে দেখলাম এক অন্ধ ব্যাক্তি ফুটপাত দিয়ে হাটতে গিয়ে ম্যানহোলে পড়ে মারা গেছে । তারপর সেই যে জিহাদ ছোট্ট ছেলেটা ঢাকাতে খোলা পাইপের মধ্যে পড়ে মারা গেল কতৃপখ্খ, সহ কতিপয় মানুষজন তখনো একই কথা বলছে মরন থাকলে সেখানে মরন হবেই ।
যদি উওরে বলিস পাইপের ভিতরে, লন্চে, বা তোর মত কিশোরগন্জের হাওরে বিদুৎের তার পেচিয়ে তো কোন মন্ত্রীর ছেলে, মেয়ে মরেনা কেন ?
তাহলে বলা হবে তুই নাস্তিক । তুই উন্নয়ন ব্যাহত করছিস । তুই মোসাদ, সিআইয়ের বাংলাদেশ শাখার এজেন্ট ।

আমার ফেসবুকের কত বন্ধুকে দেখেছি এই কিশোরগন্জের মিঠা মইন নিকলি হাওরের ছবি দিয়ে লিখেছে বাংলার সুইজারল্যান্ড । কিন্তু এই সুইজারল্যান্ডে যে কত কত মৃতুফাদ আছে সেখানে কত নিরীহ মাইদুলদের প্রান সংহার হয় তা কেউ লেখেনি । জানিনা তোর বন্ধুরা যারা সেই নৌকা থেকে বেচে ফিরেছে তারা একটি হত্যা মামলা দায়ের করবে কি না ? মামলা দায়ের হোক বা না হোক এটা তোকে হত্যা করা হয়েছে ।

পৃথিবীর কোন সভ্য দেশ হলে এটার বিচার হত

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:৩৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জ ডায়েরি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মানুষের অস্তিত্বের লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৪


২০২৩ সালের নভেম্বর। ঢাকার কোলাহল পেছনে ফেলে আমরা যখন নারায়ণগঞ্জে পা রাখলাম, আমাদের চোখে তখন স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন। ঢাকায় জমি দখল হয়ে গেছে, ফেনীর জমি জোর করে কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×