১. যত সমালোচনাই থাকুক না কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র সরানো যাবে না সহজে। অবশ্য বাংলাদেশের কথাই বা বলছি কেন? এই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাই এরকম। এমনকি উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরেও ক্ষমতায় আছে তাদের জাতির জনকের ছেলে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় নেতা এমনকি সামরিক বাহিনীও(১/১১) চেষ্টা করেছিল মূল দুটি দলকে পরিবারতন্ত্র থেকে বের করে নিয়ে আসতে। কিন্তু সবাই ব্যর্থ হয়েছে।
২. নিকট ভবিষ্যতেও এই ধারা ভাঙার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে বি এন পি আর উঠতে পারবে না। সে হিসেবে তারেক রহমানও দেশে আসতে পারবে না। যদি ‘বিদেশী’ কিংবা ‘পোশাকধারী’দের সহায়তায় শেখ হাসিনার পতন হয় তাহলে তারেক রহমান দেশে আসবেন আর দলের দায়িত্ব নিবেন। কারণ, খালেদা জিয়া অলরেডি ক্লান্ত বয়সের ভারে। আর বি চৌধুরী, অলি আহমেদের পরিণতি দেখে কেউ তারেকের বিরুদ্ধে যাবে না। তাই তারেকই পরবর্তী বি এন পি নেতা হতে যাচ্ছে।
৩. আওয়ামী লীগার, নিরপেক্ষ বিশ্লেষক এমনকি অনেক বি এন পি নেতা অনেকদিন ধরে তারেক ফোবিয়াতে ভূগছেন। তাদের মূল কথা হলো -বি এন পি তারেকের হাতে গেলেই ধ্বংস হবে। মাঝে মাঝেই কিছু কলামিস্ট বি এন পিকে ভালো বললেও তারেকের দোষ বের করেন। হাওয়া ভবনের কথা তুলে আনেন। অলি আহমেদ তো দলই ছেড়েছেন তারেকের কারণে অনেকেই বলে। তাদের কথা হলো, তারেক সিনিয়রদের সম্মান করে না, খালি জুনিয়র নেতাদের পরামর্শ মত চলে আর তারাই তাকে ঘিরে রাখে। তারেক দলে এলে ঐক্য থাকবে না, অনেক সিনিয়র নেতা দল ছাড়বেন ইত্যাদি।
৪. ১/১১-তে তারেক আহত না হলে ও লন্ডনে নির্বাসিত না হলে এতদিন তারেকই দলের দায়িত্বে থাকতেন। সময়ের প্রয়োজনে বি এন পি-তে তারেকের আগমন আসন্ন হওয়াতে তাকে নিয়ে এসব নেগেটিভ কথা আরো বেশী বেশী আসছে। টক শো, কলাম, ব্লগ, ফেসবুক সব জায়গায় তারেক ফোবিয়া চলছেই।
৫. তারেক রহমান কখনো সংসদ সদস্য ছিলেন না। এমনকি ছিলেন না জয়ের মত উচ্চ বেতনের কোন সরকারী পোস্টে। তিনি কীভাবে দুর্নীতি করলেন জানি না। আমার কাছে তারেক আর হাওয়া ভবন সংক্রান্ত কথা গুলোকে ‘মিথ’ বা ‘শোনা গল্প’ বলেই মনে হয়। টাকা লেনদেন, চাঁদা এসব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। তার অফিসে তার বন্ধু (গিয়াসউদ্দিন সেলিম) কিংবা চামচারা এসবে জড়িত থাকতেই পারে। আর তিনি নিজেও জেনে না জেনে এসবের অংশীদার হয়েছিলেন হয়তো বা। এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি কিছুই। শেখ হাসিনার নামে চেক বই-এর নম্বর সহ ঘুষ লেনদেনের মামলা ছিল, এখন সব ক্লিয়ার। তাই অনুকূল সময় হলে তারেক জিয়াও ক্লিন হবে।
৬. এবার আসি তারেক আসলে বি এন পি’র ধ্বংস হবে না জনপ্রিয়তা বাড়বে সে প্রসঙ্গে। তারেক আসলে দলে সিনিয়রদের আধিপত্য থাকবেনা। দরকারও নেই। মওদুদ, খোকা, মির্জা আব্বাসদের বি এন পিকে দেয়ার মত আর কিছু নেই। তারেক জিয়া এলে সামনে আসবে আসাদুজ্জামান রিপন, নাসিরউদ্দীন অসীম, দোলন, শ্যামা, পারভেজের মত একদল তরুণ নেতা। সাথে থাকবে মাহী বি চৌধুরী, আন্দালিব রহমানদের মত জনপ্রিয় তরুণ নেতারাও। নতুন সব কিছুই সুন্দর হয়। তারেক রহমান যখন আবার তার পিতার মত দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াবেন স্যুট পরে, মাইক হাতে নিয়ে মঞ্চে হেঁটে হেঁটে বক্তৃতা দিবেন পুরো বি এন পি’র মধ্যেই একটা প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। জিয়া’র জনপ্রিয়তাকে কখনোই হারানো সম্ভব নয়, তবে খালেদার চাইতে তারেক ভালো করবেন বলে মনে হয়। কারণ, অনেক দিন পর একজন পুরুষ দল চালাবেন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




