
১. বাংলাদেশের মানুষ সবচাইতে বিশ্বাস করে যে আর্মির লোকদের। মনে করে তারা কোন অন্যায় করতে পারে না। তারা নীতিবান ব্লা ব্লা ব্লা। আমিও তাই মনে করি। তবে এই আর্মির লোকেরাই বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল। আবার এই আর্মির লোকেরাই জঘন্য ১/১১'র সময় অনেক জঘন্য কাজ করেছিল...
২. আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ পুলিশের চাইতে RAB-কে বিশ্বাস করে বেশী। মনে করে তারা বেশীরভাগ কোন অন্যায় করতে পারে না। আমিও তাই মনে করি। তবে তাদের মধ্যেই আবার কেউ কেউ মাজারের টাকা লুট করে, ৭ খুন করে....
৩. বাংলাদেশের মানুষ সরকারী কর্মচারীদের চাইতেও বেশী অবিশ্বাস করে পুলিশকে। অনেক ভালো কাজ করলেও তারা এখনো পুলিশকে বিশ্বাস করতে পারে না। কারণটা সবাই জানে। তারাও বিশ্বাসজনক কোন উন্নতি ঘটাতে পারেনি তাদের চরিত্রের। যাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে পুলিশ আছে তারা সবসময় হীনমন্যতার মধ্যে থাকে...
৪. আমেরিকার আর্মি যখন ইরাকে ধর্ষণ করেছিল, অত্যাচার করেছিল, আমেরিকার সরকার তাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়েছিল। আমেরিকা বাসীর কাছে লুকানোর চেষ্টা করেনি। তারা তাদের বাহিনীর 'ইমেজ' সংকট নিয়ে ভাবেনি। দোষ করলে শাস্তি দিয়েছে। উন্নত সব দেশই তাদের বাহিনীর কোন অপকর্ম থাকলে সেটা প্রকাশ করতে গড়িমসি করেনি...
৫. RAB-এর গুলিতে লিমনের পা যাওয়ার পর RAB সবসময় চেষ্টা করেছিল লিমনকে অপরাধী প্রমাণ করতে। ভুলতো হতেই পারে। সেটা স্বীকার তো তারা করলোই না বরং লিমনকে গুলি করার পক্ষে সাফাই গেয়েছিল স্বয়ং RAB প্রধান। যেন RAB স্বীকার করলে তাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে...
৬. তনু হত্যাকান্ড আর্মি এরিয়ার মধ্যে হয়েছে বলে আর্মির প্রতি সন্দেহ থাকতেই পারে। যদিও আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি না আর্মির কেউ এই কাজ করতে পারে। কিন্তু আর্মি কেমন যেন একটা লুকোচুরি ভাব নিচ্ছে। যেন তাদের কেউ এই কাজ করলে তাদের বাহিনীর দুর্নাম হবে। আর্মির কার্য্যক্রমে মনে হয় তারাও তাদের ইমেজ খারাপ করতে চায় না...
৭. গত কয়েকদিন বাবুল আক্তার কে নিয়ে প্রথম আলো'র রিপোর্টে একটা ব্যপার বলা হচ্ছে যে, বাবুলের কাছে নাকি দুইটা অপশান। ১. বাবুলকে আসামী করা হতে পারে ২. বাবুলকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে । দুই নম্বর অপশানের উদ্দেশ্য হলো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা। আরো অনেক কর্মকর্তাও নাকি এটাই চান। আবার বাবুলের কাছ থেকে নাকি এরই মধ্যে পদত্যাগপত্র সাইন করিয়ে নেয়া হয়েছে!
৮. কী এক আজব দেশ! কী আজব নীতি। যে বাহিনীকে বেশীর ভাগ মানুষ অবিশ্বাস করে, যে বাহিনী করেনি এমন কোন ঘৃণ্য কাজ নেই। সেই বাহিনীর কর্মকর্তারা এখন বাবুল আক্তারের জন্য নাকি ইমেজ সংকটে ভুগছেন! যদি বাবুল আক্তার এই কাজ করেও থাকেন (আমি মনে করি না) তবুও তো পুলিশের এত চিন্তার কিছু নেই। কারণ, যার লজ্জা শরম অনেক আগেই চলে গিয়েছে, তার আবার নতুন করে লজ্জা পাওয়ার কী আছে?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


