somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'একুশ'-এর একুশ বছর পর কী হবে?

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১. সেই একটা সময় ছিল। যখন পাশের বাসার কেউ হয়ে উঠতো আত্মীয়ের চেয়েও বেশি কিছু। আমাদের পাশের বাসায় এক পরিবার ছিল। তাদের এক ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলেটা ছিল কারো কাছ থেকে কেনা। আমি জেনেছিলাম অনেক পরিণত বয়সে। আমার পিতা মাতা কখনো বলেনি সে ঐ আংকেল আন্টির সন্তান নয়। একদম নিজের ছেলের মতই সে বড় হয়েছে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে আমার মোটামুটি মানের বন্ধু হওয়ার পরও আমি তাকে কখনোই সত্যটা বলিনি। এর মধ্যে আংকেল মারা গিয়েছে। তারা এতটাই গোপনীয়তা বজায় রেখেছিল যে তাদের গ্রামের আত্মীয় স্বজনরাও জানতো এটা তাদের সন্তান। শুধু কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু আর অতি নিকট আত্মীয় স্বজন জানতো ব্যপারটা। তাই ঐ ছেলে(বর্তমানে যুবক) কখনোই জানতে পারেনি তার জীবনের সত্য কথাটা।

২. গত কয়েকদিন এক কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (যার নাম দেয়া হয়েছে 'একুশ';) কে নিয়ে মিডিয়াতে খুব আলোচনা চলছে। অবশ্য এ আর নতুন কী! অনেক বছর ধরেই এভাবে ডাস্টবিনে বা রাস্তায় বা কোথাও শিশু পাওয়ার খবর আমরা পাই। আবার কারো না কারো কাছে পালিত হওয়ার ব্যবস্থাও হয়ে যায়। একদম কিছু না হলে সরকারী ব্যবস্থাও আছে। এবার আলোচিত হয়েছে এ কারণে যে, এবারই সম্ভবত আদালতের মাধ্যমে এই শিশুটি কার কাছে যাবে সেটা নিস্পত্তি করা হয়েছে। যে কারণেই আমার এই পোস্ট।

৩. আদালত তার রায়ে বলেছে, যদি কোনদিন প্রকৃত পিতা মাতা সন্তানের দাবি করে তাহলে তাদের ফেরত দিতে হবে। তাহলে এখন এই নতুন অভিভাবকের ভূমিকা কী হবে?

ক. তারা কী ছোট থেকেই একুশকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবে যে সে তাদের সন্তান নয়। তাহলে বাচ্চাটার মানসিক অবস্থার কী হবে?
খ. আবার যদি না জানিয়ে বড় করে তাহলে যদি কখনো সত্যিই প্রকৃত মা কিংবা বাবা হাজির হয় তখন একুশের মানসিক অবস্থার কী হবে? তখন বর্তমান অভিভাবকদেরই বা কেমন লাগবে?
গ. যেভাবে মিডিয়াতে এসেছে অল্প কয়দিনেই পাড়া মহল্লা, স্কুলে সবাই একুশ নিয়ে গল্প করবে। স্বাভাবিকভাবেই একুশের কানে পৌঁছাতে সময় লাগবে না। এটাও তো একুশের স্বাভাবিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করবে।
ঘ. একুশের বর্তমান পিতা মাতা কি পারবে পরচর্চায় লিপ্ত আত্মীয় স্বজন থেকে একুশকে দূরে রাখতে?

৪. আমার মনে হয় সমাধান হতে পারে এভাবে -
ক. একুশকে নিয়ে দূরে কোথাও নতুন জীবন শুরু করা। আমাদের মত দেশে আত্মীয় বৎসল সমাজে এটা খুব কঠিন হবে।
খ. যেভাবে আছে সেভাবেই মানুষ করা আর যদি কখনো অভিভাবক ফেরত আসে তাহলে ফিরিয়ে দেয়ার মানসিকতা রাখা।
গ. হয়তো বা ২১ বছর পর শিশু কিশোরদের মানসিকতাও বর্তমানের মত থাকবে না। ডিজিটাল যুগে এনালগ যুগের মত অতি আবেগী নাও হতে পারে। কারণ সমাজ দ্রুত পরিবর্তনশীল।

ব্লগারদের মতামত জানতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:১৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×