
১. নিজ দেশে গত ২৫ বছর ধরে নারী নেতৃত্বে চললেও আমি নারী নেতৃত্বের বিরোধী। এক নারী পুরো বিশ্বের মোড়ল হবেন এটা আমি মনে মনে চাইনি। যদিও আমার মনে চাওয়াতে কিছুই যায় আসে না। তবুও হিলারির মত জনপ্রিয় একজন প্রার্থীর পরাজয়ে আমি খুশিই হয়েছিলাম।
২. ট্রাম্প লোকটাকে ভালো লাগা শুরু করে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে। আমাদের দেশের নেতা/নেত্রীরা ভোট কমে যাওয়ার আশংকায় অনেক মনের কথা তাদের প্রচারণায় বলেন না। যেমন - আওয়ামী লীগ চায় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে, কিন্তু তারা সেটা কখনোই নির্বাচনের সময় বলে না। কারণ এতে তাদের ভোট কমতে পারে। আবার ধরা যাক, বি এন পি ক্ষমতায় গেলে ১৫ই আগস্ট শোক দিবস বাতিল করবে বা নোট থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরাবে - এই জাতীয় কথা নির্বাচনের সময় বলে না। অর্থাৎ সচেতন ভাবে নিজেদের মনের কথা এড়িয়ে যায় যাতে ভোটে প্রভাব না পড়ে।
৩. ট্রাম্প যা তার মনের কথা বা নীতি তা তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন। তিনি জানতেন, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বললে অভিবাসী ভোট কমতে পারে, তিনি জানতেন মুসলিমদের(জঙ্গি উৎপাদনকারী) বিরুদ্ধে বললে মুসলিম ভোট কমতে পারে। কিন্তু তিনি পল্টি মারেননি। আর তাঁর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল মেক্সিকান সীমান্তে দেয়াল তোলা যেটার কারণে মেক্সিকান আমেরিকানদের ভোটও কমতে পারে বলেই জানতেন তিনি। তবুও তিনি ভোট বাড়ানোর আশায় এসব নীতি থেকে সরে আসেন নি। এমনকি নারীদের নিয়ে ব্যঙ্গ মন্তব্য বের হওয়ার পরও নারীদের কাছে কোন ক্ষমা চাননি। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন কিনা সেটা পরের ব্যপার। কিন্তু ভোট পাওয়ার জন্য ছল চাতুরি তিনি করেননি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
৪. প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই আমার হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে তাঁর ছবি দেয়া শুরু করি। কিছুদিন পর পর তাঁর এক এক ধরনের ছবি। স্বাভাবিক ভাবেই কন্টাক্ট লিস্টের(আবেগী বিভিন্ন দেশের মুসলমান) অনেকের কৌতুহল এবং শিরোনামের সেই প্রশ্নটি। বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের আপত্তি আমি মুসলিম হয়েও কেন তাঁর ছবি আমার প্রোফাইলে রাখি। অবশ্য আমি নিজেও আশায় থাকি আমাকে এই প্রশ্নটা তারা করুক! তাদেরকে ৩ নং পয়েন্ট টা বলি। আরো বলি, ট্রাম্প কি কখনো বলেছে, আমেরিকান মুসলিমদের বের করে দিবে? না। ট্রাম্প কি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলেছে? না। ট্রাম্প যদি নিজের দেশে সবগুলো মুসলিম দেশ থেকেই মুসলিম আসা বন্ধ করে আমি বা আপনি বা মুসলমানরা বলার কে? কবিরা এখানে নীরব।
৫. ট্রাম্প যদি ইসলামের বিরুদ্ধে যায় তখন তার ছবি প্রোফাইলে রাখবো না। কিন্তু আপাতত ট্রাম্প সৌদি আরব সফর করছেন। ইসলাম নিয়ে বক্তৃতা দিবেন। আরব বিশ্ব ও ইসলাম সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও দাওয়াত পেয়ে সুযোগ নষ্ট না করে সৌদি আরবের পথে...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৭ রাত ৩:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



