যারা বিএনপির এই হরতাল অবরোধ এর জন্য মায়া কান্না দেখাচ্ছেন তাদের জন্য!!!
ফিরে দেখা ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ (আওয়ামী কাল)
☛ ২০০২ সালের HSC পরীক্ষার সময় পর পর দুই বার হরতাল দিয়েছিলো হাসিনা।
☛ ২০০৫ সালের HSC পরীক্ষার সময় লাগাতার হরতাল দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।
☛ ১৯৯৫ সালের SSC পরীক্ষার সময়ও ৮ দিন হরতাল দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ।
☛ ১৯৯৬ সালে HSC পরীক্ষার সময় আওয়ামীলীগের অবরোধের কারণে ৩ মাস পরীক্ষা পিছিয়েছিল।
☛ ১৯৯৬ তেই স্কুল-কলেজে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলো হাসিনা বাহিনী, শিক্ষা সচিবদের রাস্তায় উলঙ্গ করে লাঞ্চিত করা হয়েছিল তখন।মনে করে দেখুন......১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর, হাতে তসবিহ এবং মাথায় পট্টি বেধেই জাতির কাছে হরতাল না করার ওয়াদা করে হাসিনা বলেছিলো,- বিরোধী দলে গেলেও আমরা কখনও হরতাল করব না। কিন্তু ২০০১ সালেই তিনি নেন ঐতিহাসিক পাল্টি, হয়ে যান মোনাফেক। পরীক্ষার সময়ই দেন একাধিকবার হরতাল। ১৯৯১ থেকে ৯৬, ১৭৩ দিন এবং২০০১ থেকে ০৭, ১৩০ দিন হরতাল-অবরোধ দিয়েছিলো পীর সাহেবা গোপালী।
দেখুন, হাসিনার ৯৪, ৯৫ ও ৯৬ সালে ডাকা হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগের কিছু চিত্রঃ
→ ১৯৯৪ সাল (৬ দিন হরতাল, ৫ দিন অবরোধ)
★২৬ এপ্রিল হরতাল,
★১০ সেপ্টেম্বর অবরোধ,
★১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর হরতাল,
★২৭ সেপ্টেম্বর অবরোধ,
★৩০ নভেম্বর অবরোধ,
★৭ ও ৮ ডিসেম্বর হরতাল,
★২৪ ডিসেম্বর অবরোধ,
★২৯ ডিসেম্বর অবরোধ।
→ ১৯৯৫ সাল (৩০ দিন হরতাল, ৪ দিন অবরোধ)
★২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি হরতাল,
★১৯ জানুয়ারি অবরোধ,
★২৪ ও ২৫ জানুয়ারি হরতাল,
★১২ ও ১৩ মার্চ লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল,
★২৮ মার্চ ঢাকা অবরোধ,
★৯ এপ্রিল ৫ বিভাগে হরতাল,
★২ ও ৩ সেপ্টেম্বর লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল,
★৬ সেপ্টেম্বর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★১৬, ১৭, ১৮সেপ্টেম্বর লাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল,
★৭, ৮ অক্টোবর পাঁচ বিভাগে লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল,
★১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ অক্টোবর লাগাতার ৯৬ ঘণ্টা হরতাল,
★৬ নভেম্বর ঢাকা অবরোধ,
★১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★৯, ১০ এবং ১১ ডিসেম্বরলাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল,
★১৭ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী অবরোধ।
→ ১৯৯৬ সাল (৮৫ দিন হরতাল, ১ দিন অবরোধ, ২৬দিন অসহযোগ)
★৩ ও ৪ জানুয়ারি লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল,
★৮ ও ৯ জানুয়ারি লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল,
★১৭ জানুয়ারি সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★২৪ জানুয়ারি সিলেটে ১১ ঘণ্টা হরতাল,
★২৭ জানুয়ারি খুলনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★২৮ জানুয়ারি খুলনায় অর্ধদিবস হরতাল,
★২৯ জানুয়ারি ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল,
★১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় (পাবলিক পরীক্ষা) হরতাল,
★৩ ফেব্রুয়ারি অর্ধদিবস হরতাল,
★৭ফেব্রুয়ারি ফেনীতে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত হরতাল,
★৮ ফেব্রুয়ারি ফেনীতে হরতাল,
★১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে হরতাল,
★১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জে হরতাল,
★১৩ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অবরোধ,
★১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল,
★২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অসহযোগ,
★৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত লাগাতার ২২ দিন অসহযোগ।
এই আওয়ামী লীগই ০২, ০৫, ৯৫, ৯৬ তে পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্ষমতা দখল করার পায়তারা করেছিলো, তারাই এখন বলছে-“জামায়াত-শিবির-বিএনপি পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্ষমতা ছিনতাই করতে চায়!”
শেরাটনের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার স্রেফ ক্ষমতার জন্য, তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে মানুষ পুড়ে ১১ জনে গান পাউডার দিয়ে কয়লা করেছীল আওয়ামীলীগ!
====================================
এটা কখনোই বোঝায় না যে তার জন্য বিএনপিরটাকে বৈধ বলছি! বরং এর জন্যেও আওয়ামীলীগ দায়ী শতভাগ। তাদের বাকশালী নীতি, জনসভা করতে না দেয়া, মত প্রকাশ করতে না দেয়া, রাস্তায় দাড়াতে না দেয়া, মানব বন্ধনের মতো নিরীহ গণতান্ত্রিক কর্মসূচীও করতে না দেয়া, গুম, খুন, মন্ত্রীদের উস্কানিমূলক কথাবার্তা, প্ররোচনামূলক টিটকিরী, উপহাস, কোনঠাসা করে ফেলা... দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়ে আজ যখন তারা অস্তিত্বের প্রয়োজনে রুখে দাড়িয়েছে এখন সকলে এক যোগে শুরু করেছে ম্যাৎকার!
আজ হায় হায়, আহা উহু, সব গেল সবগেল রব তুলছে- একবারও বলছে না- জনগণের জানমালের দিকে চেয়ে আমি অনির্বাচিত সরকার স্বৈরাচারী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করছি।
তত্ত্বাবধায়ক/নির্দলীয় নির্বাচনকালীন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছি!
কি জন্যে এইসব তা একবারও বলছে না কথিত সুশীল গং! মিডিয়া! শুধু হায় হায় গেল গেল রব!
অনির্বাচিত স্বৈরচারিতা নিয়ে কারও মূখে কথা নেই। দেশটাতো রাজতান্ত্রিক নয়! দেশটাতো কারো বাপের তালুকদারি নয়!
জনগণের রায়েই সরকার গঠিত হবে।
এই সাধারন কথাটা কেউ বলতে রাজি না। পেচায়া পুচায় দুনিয়ার কাহিনি গাইবে... মাগার রাজা তুই নেংটু.. বলতে কেউ রাজি নয়।
এই মুহুর্তে দেশকে যদি ভালবাসেন, নাগরিকদের যদি ভালবাসেন, নূন্যতম মানুষের প্রতি দায়, দেশের প্রতি দায়, ক্ষমতার প্রতি যদি লোভ না থাকে- তো আপনার একটা ঘৌষনাই দেশে শান্তি আনতে পারে!
আপনি যদি আপনার বলা মতো ক্ষমতার কাঙাল না হয় থাকেন
দেশের স্বার্থে সব ত্যাগ করতে রাজি থাকেন
যদি আমজনতার মৃত্যু সত্যিই আপনাকে ব্যাথিত করে..
যদি গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করেন
যদি জনতার জন্যই সকল কিছু বিশ্বাস করেন
যদি খালেদাকে জনতার আদালতেই রায়ের জন্য পেশ করতে চান...
একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করে- দেশকে সঠিক ভাবে চলতে দিন।
নইলে দমন পীড়ন, হত্যা নির্যাতন, যত কৌশলেই হোক.... খুব বেশি কার্যকরী কখনোই ছিল না নয়ও।....৭২-৭৫ এ ৩০ হাজার জাসদ কর্মীর মৃত্যুও কিন্তু বাকশাল ঠেকাতে পারেনাই। আবার বাকশালের আয়ুও কিন্তু খুব বেশিদিন ছিল না।
তাই যদি দেশটাকে স্বাভাবিক রাখার শতভাগ দায় নিয়ে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করুন। দেশবাসী শ্রদ্ধার চোখে দেখবে।
... অন্যথায় ক্ষমতায় কিন্তু চিরদিন কেউ থাকে না। প্রকৃতির নিয়মে হলেও মরতে হয়....... তখন সেই ভবিষ্যতের মহাকালে আপনার কর্মকান্ড কিন্তু ঘৃণার সাথে ক্ষমতালোভী হিসেবেই চিত্রিত হয়ে থাকবে।
আমরা কি সময়ের আয়নায় নিজেকে দেখব একবার!!!!
@ পরিসংখ্যান তথ্য টুকু ফেবু থেকে শেয়ার পাওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




