শিক্ষক। শিক্ষাগুরু।
পিতা জন্ম দেন শারিরীক ভাবে। আর শিক্ষাগুরু জন্মদেন সার্বিক ভাবে।
যে জন্য যুগে যুগে কালে কালে শিক্ষকের মর্যাদা অতি উচ্চ। যারা জাতি হিসাবে বড় হয়েছে তারাই সেই আসনেই রেখেছে শিক্ষকদের।
যারা রাখেনি তারা পিছিয়ে পড়েছে। বাহ্যিক উন্নয়নে আত্মিক উন্নয়নে সকল ক্ষেত্রেই।
আমাদের চলমান শিক্ষক আন্দোলন নিয়ে অনেক রকম কথা হচ্ছে। প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে কীভাবে শিক্ষকগণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, কীভাবে তাদের পদায়ন করে নিচে নামানো হচ্ছে তা নিয়ে সরকারের দুয়েকজন দায়িত্বশীল সচিব বেশ কয়েকবার সংবাদপত্রে বলেছেন যে, ‘শিক্ষকরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। না-বুঝে আন্দোলন করছেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ‘প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো’ বুঝেন না বিষয়টি হাস্যকর বটে। শিক্ষকদের ছাত্ররা সেই রকমই বলছে। সব কি গুরু মারা শিষ্য নাকি?
এই বিষয়ক সাম্প্রতিক সংবাদ:
অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ ও অন্যান্য অসঙ্গতি দূর করার দাবিতে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
শিক্ষকদের এই নজিরবিহীন কর্মবিরতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায়। দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষার মাঝপথে এই কর্মবিরতি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ডাক দেয় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি। দেশের সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা,রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগরসহ সারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মবিরতি চলাকালে সান্ধ্যকালীন কোর্সসহ সব ধরনের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে সেমিস্টার ফাইনাল বা কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
সংবাদ সূত্র
আমাদের শিক্ষকরা যখন কঠোর আন্দোলন করেন, পিপার স্প্রে খেয়ে আহত হন নিহত হন আন্দোলনে, সড়কে দিনের পর দিন অবস্থান করেন দাবী আদায়ের জন্য .. তখন উন্নত বিশ্বে দেখুন শিক্ষকদের সম্মাননা কেমন।
এক নজরে চলুন দেখি বিশ্বে টপ টেন শিক্ষকের মর্যাদা দানকারী দেশ এবং তাদের অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং নিশ্চয়তার পরিমান
১০. স্পেন
$২৯,৪৭৫ = ২৩৫৮০০০/- বাংলা টাকা (১ ডলার = ৭৯.৩৬ ধরে)

০৯. ইসরাইল
$৩২৪৪৭= ২৫৭৪৯৩৩/-

০৮. ইউকে
$ ৩৩৩৭৭ = ২৬৪৮৭৯৮/-

০৭. নেদারল্যান্ডস
$৩৭২১৮ = ২৯৫৩৬২০/-

০৬. সুইজারল্যান্ড
$ ৩৯৩২৬ = ৩১২০৯১১/-

০৫. জার্মানী
$ ৪২২৫৪ = ৩৩৫৩২৭৭/-

০৪. জাপান
$৪৩৭৭৫ = ৩৪৭৩৯৮৪/-

০৩. দক্ষিন কোরিয়া
$ ৪৩৮৭৪= ৩১৮১৮৪০/-

০২. ইউএসএ
$ ৪৪৯১৭ = ৩৫৬৪৬১৩/-

০১. সিঙ্গাপুর
$ ৪৫৭৫৫ = ৩৬৩১১১৬/-

আমাদের শিক্ষকদের মান ভাবতেও কষ্ট হয়। কি প্রাইমারিতে, কি হাইস্কুলে, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়। অধুনা বেতন কিঞ্চিত বাড়লেও সার্বিক জীবন যাপন ব্যায় বিবেচনায় তা অকিঞ্চিতকরই বটে!
তার উপর আজেকর ভাষনে কথাটাতো তেতোই মনে হয়- আপনাদের কি মনে হয় দেখূনতো ..
শিক্ষকদের বেতন ১২৩ ভাগ বাড়ানোর পরও কেন তাদের এই আন্দোলন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করবেন না। এটি কেউ মেনে নেবে না।
অষ্টম পে-স্কেলকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য বৈষম্য উল্লেখ এবং তাদের জন্য স্বতন্ত্র স্কেলে পাঁচ দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, শিক্ষকের মর্যাদা অনেক ওপরে। একজন শিক্ষক যদি সচিবের মর্যাদা চান, তাহলে তো হলো না।
--
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশ কখনো ১২৩ ভাগ বেতন বাড়াতে পারে নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছে। প্রত্যেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতন পেয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত আর নেই। তারপরও দেখি কেউ কেউ অসন্তোষ। তাদের অসন্তোষ যায় না। কেন অসন্তোষ এটা আমার কাছে বোধগম্য না। পেটে যখন খাবারের টান থাকে, তখন পেটের খাবারের কথা চিন্তা থাকে। সেই পেটের খাবারের চিন্তা আমরা দূর করে দিয়েছি বলে, এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি- এটাই বাঙালির স্বভাব।’ "
নো কমেন্টস। ভাবুকেরা ভাবুক। চিন্তকেরা চিন্তা করুক।
সবশেষে মহান শিক্ষদের প্রতি অনুরোধ আপনারা দয়া করে লাল নীল রং ধারন করবেন না। এই একটা জায়গা যদি শুধু শিক্ষকের রঙ্গে রঙিন থাকেন জাতি অচিরেই একটা দারুন প্রজন্ম পাবে যারা দেশটাকে দলান্ধতার অন্ধকার থেকে বের করে আনতে পারবে।
একজন মহান শিক্ষকই একটা দারুন উন্নত সুশিক্ষিত জাতির জন্ম দিতে সক্ষম।
লেখার তথ্য সূত্র :
শিক্ষক সম্মাননার তালিকা সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





