somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ’ এর স্মরকলিপি : বাস্তবতার সত্যোচ্চারণ

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব কঠিন কিছু সত্য সাহসের সাথে উচ্চারণ করেছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ। যে প্রশ্নগুলো স্বাভাবকি সমাজে করতেই হতো না। এরকম ব্যার্থতা বা অপরাগতার দায় নিয়ে বহু আগেই পদত্যাগ করতেন দায়িত্বশীলগণ।
কিন্তু আমাদের দেশ বলে কথা!
প্রলয় হয়ে গেলেও মৃত্যুর আগে কেউ পদ ছাড়তে রাজী নন। মূখে যাই বলুন না কেন?

সংবাদে বলা হয়েছে -
গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হকের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা৷ এতে নুরুলসহ অন্তত ২৪ জন আহত হন৷ এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন লাউঞ্জে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দেন৷উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপাচার্যের সামনে স্মারকলিপি পড়ে শোনান লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট রাখাল রাহা৷


স্মারকলিপিতে ভিপি নুরুলের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করা হয়, পয়েন্টগুলোর গুরুত্বপূর্ণ
* ‘আক্রান্ত ছাত্ররা আপনার প্রশাসনের সাহায্য প্রার্থনা করেছিল। কিন্তু আপনি ও আপনার প্রশাসন এ ঘটনা বন্ধ করার কোনোপ্রকার উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তাঁদেরই কটুকথা বলে বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে আক্রমণকারীদের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

* অতীতেও এ ধরনের নানা অভিযোগ আপনি ও আপনার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়েছে, আপনি তার একটারও সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করেছেন বলে আমরা দেখতে পাইনি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা হরহামেশাই বিভিন্ন প্রকার নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু তাঁরা আপনার কাছ থেকে কোনা প্রতিকার পাচ্ছেন না।

* বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য হওয়া সত্ত্বেও আপনি সব শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকসুলভ নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আপনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভুক সর্বোচ্চ ও সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা।

* আমাদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আমাদের করের টাকায় আপনার বেতন-ভাতা সম্মানী পরিশোধ করা হয়। আমাদের সন্তানসন্ততির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি আইনত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনেই আমরা আমাদের সন্তানদের আপনার অভিভাবকত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করেছি।

* আপনি রাষ্ট্রীয় তহবিলের টাকায় বেতনভাতাপ্রাপ্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও কেন একটি দলীয় সরকারের কর্মকর্তার মতো আচরণ করছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। দিনের পর দিন আপনার পক্ষপাতমূলক, অমানবিক আচরণে আমরা হতবাক, বিমর্ষ এবং উদ্বিগ্ন। আপনার এই আচরণ অপরাধীদের আরও অপরাধ করতে ধারাবাহিকভাবে উসকানি দিয়ে চলেছে বলে আমরা মনে করছি৷

উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে বলা হয়, আমরা চলমান অবস্থার অবসান চাই এবং কেন আপনি ও আপনার প্রশাসন আমাদের সন্তানদের সঙ্গে এমন অশিক্ষকসুলভ আচরণ করছেন তার কারণ জানতে চাই।

স্মারকলিপি পড়া শেষ হলে উপাচার্যকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন উপস্থিত সাংবাদিকেরা ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন৷ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে৷

সাংবাদিকেরাসহ উপাচার্যের কাছে নানা প্রশ্ন ও অভিমত জানিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক সাঈদ ফেরদৌস, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ৷ উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীসহ অনেকে৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ছিলেন প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী, সহকারী প্রক্টর বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলমসহ কয়েকজন।

ক্যাম্পাসে দল-মত নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর সহাবস্থান নিশ্চিতে প্রশাসনের তৎপরতা কেন নেই- রাখাল রাহা এমন একটি প্রশ্ন করলে উপাচার্য তাঁর কোনো জবাব দেননি বিভিন্ন ঘটনায় ছাত্রলীগের মারমুখী ভূমিকার জন্য সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এক ব্যক্তির এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য প্রথমে ইতস্তত করেন৷ পরে তিনি বলেন,‘আশা করি আমরা সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করব, যে যেখানেই থাকি৷ কোনো সংগঠন বা ব্যক্তিকে দায়ী না করি৷ আমরা যেন নিয়ম-নীতি ও মূল্যবোধের মধ্যে থাকি৷’

উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ’এর প্রশ্ন যেমন চলমান চরম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। অসহায় নাগরিক জীবনের সত্য যা উচ্চারণ করতে সাধারন মানুষ উচ্চকিত কিন্তু সন্ত্রস্ত! অপরদিকে মাননীয় ভিসি মহোদয় শেষ কথাতেও যেন তাদের দাবীকেই সত্য প্রতিপন্ন করলেন কোন সংগঠন বা ভ্যাক্তিকে দায়ী না করার অনুরোধে! কারণ কোন ব্যাক্তি বা সংগঠনইতও এসব করছে- ভিনগ্রহী এলিয়েনরাতো ঘটাচ্ছে না! তাহলে একথার মানে কি?

প্রশ্ন অনেক। উত্তরে অসীম নিরবতা!

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা নিয়ে আমাদের আবেগি বাঙ্গালি মুসলমান

লিখেছেন মোঃ সাকিবুল ইসলাম, ৩১ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩৭

আমদের দেশের আবেগি মুসলমান গুলো খুবই বুদ্ধিমান। সারাজীবন ধর্ম করম করবে না কিন্তু মসজিদে গেলে যে করোনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে এই খবর বললে, বা যুক্তি দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ব্রোকেন অ্যারো’ – আমেরিকা যখন পারমাণবিক বোমা হারিয়েছিল

লিখেছেন মোটা ফ্রেমের চশমা, ৩১ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৭


১৯৫০ সালে একটা আমেরিকান বি-৩৬ বোম্বার প্লেন প্রশিক্ষণ চলাকালীন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। সেসময় বিমানটা একটা মার্ক ফোর পারমাণবিক বোমা বহন করছিল। বিধ্বংসী ক্ষমতার কথা বললে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা ভাইরাসের অশুভ ঠেকাতে কেন মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়?

লিখেছেন রিদওয়ান হাসান, ৩১ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫২

বাংলাদেশে প্রতিবছর ‘বাংলা নববর্ষ’ বা ‘পহেলা বৈশাখ’ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয়, যার মধ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এই মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওমর ইশরাক

লিখেছেন মোহাম্মদ আলী আকন্দ, ৩১ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১০:১০

ওমর ইশরাক
এই মানুষটাকে চিনে রাখুন।



কোন বাংলাদেশিকে যদি প্রশ্ন করা হয়, গুগলের সি ই ও কে? সবাই এক কথায় বলে দিবে ইন্ডিয়ার অমুক।
কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় মেডট্রনিক (Medtronic)... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু ভীতিকে জয় করুন, এক অপার আনন্দের এক সন্ধান পাবেন

লিখেছেন শের শায়রী, ৩১ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:০৯



মৃত্যুকে নিয়ে কেন মানুষ এত ভয় পায়? এই ব্যাপারটা আমার মাথায় কখনো বুঝে আসে না। তবে যাদের অঢেল টাকা পয়সা আছে জীবনের বর্তমান সুখকে উপভোগ করতে পারছে তারাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×