somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন সংহিতা - দুই দুয়ারী

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচন্ড চীৎকারের সাথে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল অন্তুর। সারা গা ঘামে ভিজে জবজবে। মাথার উপরে পূর্ন গতিতে ঘুরছে বৈদুতিন পাখা! তবু ঘেমে নেয়ে এক সা’।

বেশ ক’ মাস হলো ঘটনাগুলো ঘটছে। সে যেন আর নিজের মাঝে নিজে থাকে না। বিশেষ করে ঘুমিয়ে পড়লে। স্বপ্নের সিকুয়াল হয় কিনা জানা নেই। তবে তার জীবনে যেন তাই ঘটছে। আগের রাতে দেখা স্বপ্নের শেষে থেকেই পরের রাতে স্বপ্ন শুরু হয়।
প্রথম প্রথম বেশ মজা লাগছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে কেমন যেন এক অদৃশ জগতে ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে মনে হলো। তাই এখন এড়াতে চায়। কিন্তু পারে না। এই যেমন গতকালই প্রায় হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এলো আমার রুমে। বসতে বলেই আগে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দিলাম। ধীরে সুস্থে খেয়ে নে। পরে শুনছি। অন্তু এক নি:শ্বাসে ঢক ঢক করে খেয়ে নিল জল । নিরবে চেয়ে রইলাম। খানিকটা সুস্থির হয়েই বলা শুরু করলো -



একটা নৌকা। অনেক উঁচু। নীচে তাকালে ভয় করে এতটা গভীর। অথচ নদী বা সাগর যাই হোক সুগভীর তলদেশ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। নৌকাটার কিনার থেকে ভয় পেয়ে সরে আসি । তখনই এক অদ্ভুত দর্শন জীবের সাথে দেখা। কেমন বিভৎস! এটাই কি শয়তান! ইন্দ্রিয়গুলো আপনাতেই সতর্ক হয়ে ওঠে। গায়ের রোম গুলো কাটা দিয়ে ওঠে।

ঠিক তখনই ঝাপিয়ে পড়ে শয়তানটা।

এ এক অসম অদ্ভুত যুদ্ধ। কোত্থেকে যেন হাতে একটা তরবারী চলে আসে। প্রাণপণে লড়ে যাই। কিন্তু শয়তানটা ভারী অদ্ভুত ক্ষমতাধর। মাথা কেটে ফেললে আবার মাথা তুলে লাগিয়ে নেয়। ঠিক হয়ে যায়! দম আটকে আসা অসম লড়াই চলছে।

নৌকোটার কিনারে একবার বাগে পেয়ে গেলাম। শরীরের সমস্ত শক্তি এক করে দিলাম কোপ। পুরো দেহটা দ্বি-খন্ডিত হয়ে নীচে পড়ছে। যাক বাবা! বাঁচা গেল ভেবে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলার আগেই দেখি নৌকার কিনারে শুন্যে দাড়িয়ে ভাসমান শয়তান, বিটকেলে হাসি হাসছে!
হঠাৎ একটা আলোর ঝলকানিতে যেন সব অদ্ভুত ভাবে বদলে গেল! চেতনার জগতে বিস্ময়কর আলোড়নের সাথে সাথে অবাক হয়ে দেখি নিজের দেহের ভেতরে নিজের হাত ঢুকে যাচ্ছে! একদম পেটের গভীরে গিয়ে নিজের নাভিমূলটা যেন ছিড়ে নিয়ে আসতে চাইছে।

অদ্ভুত ভয় আর আতংক মনে। কিন্তু সবচে অবাক বিষয় পুরো ঘটনায় কোন ব্যাথার অনুভব নেই । এক সময় নিজেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখি আমার হাতেই ঝুলছে আমার নাভিমূল! নৌকার কিনারায় পাটাতনে শোয়াতেই শয়তানের চেহারা বিস্ময়কর ভাবে বদলে যেতে লাগলো।

আমি কি করতে যাচ্ছি সে যেন বুঝে ফেলেছে। তার চেহারায় আতংক। যেন শক্তিহীন আকুলতা চোখে। না না । তুমি এটা করো না।

ঠিক তখনই গায়ে যেন অসুরের বল এলো। চকচকে ধারালো তরবারীটা একহাতে তুলে ধরে এক কোপে কেটে দিলাম নাভিমূল! সংগে সংগে ঘটলো অবাক ঘটনা। শয়তান নীচে পড়ছে তো পড়ছেই ! পড়তে পড়তে পড়তে... একদম অতলে যেন হারিয়ে গেল!

সারা দেহ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এলো। আহ! কি প্রশান্তি- অনুভবের সাথে সাথে দু’চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। কল কল শব্দে জোয়ারের জলে ভরে উঠছে শুকনো সাগর! পলকে থই থই জলে ভাসতে লাগলো নৌকা!

প্রশান্তির শীতল এক মৃদু মন্দ বাতাস জুড়িয়ে দিলো গা। পালে সেই হালকা বাতাস লাগতেই গতি বাড়ছে তরতর করে। এক অদ্ভুত জগতে ঢুকে যাচ্ছি। দুই দিকেই যেন দুয়ার খোলা। মহাবিশ্বের বহুমাত্রিকতার বহু দুয়ারের সারি যেন।
দুই দুয়ারীর মাঝ দিয়ে বয়ে চলছে -দেহের এ নৌকা খানি।


(স্বপ্ন সংহিতা - ছোট গল্প সিরিজ । প্রতি পর্বে ভিন্ন ভিন্ন ছোট গল্প থাকবে।
স্বপ্নের কথকতা। স্বপ্ন। ভাবনা। সব মিলিয়ে চলবে সিরিজ যদি পাঠক পছন্দ করেন।)

ছবি কৃতজ্ঞতা: গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১০
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×