somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে কথা বললো!!

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টানা সতের দিন বিছানায়। পক্সের সংক্রমনে সারা দেহ প্রিন্টেড শাড়ীর মতো ফোসকায় ভরে ছিল। ডান থেকে বামে কাত হ্ওয়া যেত না। বাম থেকে ডানে যেতে গেলেও ব্যাথায় ত্রাহি চিৎকার! চরম ভোগান্তি শেষে উনারা বিদায় নিলেন। রেখে গেলেন গা ভরা চিকেন স্পট!তখন একটু একটু হাটাচলা করতে পারি



সেদিন সন্ধ্যা থেকে আকাশ কালো করে প্রচন্ড কালেবোশেখির ঘনঘটা। দমকা বাতাস ক্ষনে ক্ষনে। বাসা তখন গুলবাগে। সন্ধ্যার পর থেকেই বাতাসের তীব্রতা বাড়ছে। সবাই বেশ আগে ভাগেই খেয়ে দেয়ে শোয়ার আয়োজনে ব্যাস্ত। আমি একা একা টিভিতে চোখ রেখে বসে আছি আনমনে।

রাত সাড়ে দশটার ঘন্টাটা বেজে থেমেছে কেবল। টিভিটা বন্ধ করে আমি ধীরে ধীরে বারান্দায় এসে দাড়ালাম। একটু পর পর ঝড় পূর্ব শীতল বাতাসের হালকা দমকা ঝটকায় বেশ আরাম বোধ হচ্ছিল। রাস্তায় লোকচলাচলও কমে এসেছে। আশেপাশের বাসায়ও দু এক রুমে মিটমিটে আলো। অনেকদিন বিছানায় থাকায় পরিবেশটা দারুন এন্জয় করছিলাম।

হঠাৎ আমার বোনের কন্ঠ শুনে চমকে গেলাম। বেশ জোরে জোরে বলছে- এখানে দাড়িয়ে আছিস! মরার ভয় নাই? কিছু একটা হলেতো আমাদেরই কাঁদতে হবে।
আমার মনে হলো আম্মা বুঝি বাইরে দাড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছে। আর বোন তাকে ঘরে নেবার জন্য এমন কথা বলছে। আমার খুব রাগ হলো। আমারও যেহেতু খুবই ভাললাগছিল বাতাস খেতে! মায়েরও ভাল লাগতেই পারে। রাগে বেশ দ্রুত হেটে গেলাম । বোনকে বকা দেব ভেবে। একটু বাইরে দাড়ালে কি অমন মহাক্ষতি হয়ে যাবে। যে মাকে অমন করে বকতে হবে?

অমা! বাইরের খোলা ঝুল বারান্দার দরজাটা বন্ধ। নেড়ে চেড়ে দেখলাম। নাহ। ছিটকিনি শক্ত করেই লাগানো। ঘুরে গেলাম ভেতরের রুমের দিকে। ভাইরা সব ঘুমিয়ে মশারীও টাইট করে গোঁজা। মায়ের রুমে গেলাম। মা বোন দুজনেই অঘোর ঘুমুচ্ছে। মশারী চেক করলাম- উঠা নামার কোন চিহ্ণ আছে কিনা? নাই!!! এবার সত্যি চমকে গেলাম। তাহলে কথা বললো কে? কাজের মেয়েটাকে ডেকে তুললাম। তোর খালা নানী কেউ বাইরে গেছিল? বললো- নাতো।

এবার আমার চমক বিস্ময়ে বদলে গেল। গা শিরশির করে উঠলো। স্পষ্ট শোনা। কথাগুলো পরিষ্কার। কোন দ্বিধা নেই। অথচ তারা ঘুমুচ্ছে। তাহলে কথা গুলো বললো কে?


# অতিপ্রাকৃত ঘটনা সিরিজ




সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৮
৩০টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×