somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজশাহীতে নারী চক্র সক্রিয়: প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণা

৩০ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজশাহী মহানগরীতে তিন শ্রেণীর নারী চক্র প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে একশ্রেণী হচ্ছে, স্বামী পরিত্যক্তা, অপর শ্রেণী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কিছু ছাত্রী এবং তৃতীয় শ্রেণীটি দরিদ্র পরিবারে কিছু যুবতী নারী। এদের সকলের টার্গেট বিত্তশালী ও বিবাহিত নারী আসক্ত কিছু পূরষদের। তবে এ সকল ঘটনার আড়ালে মুল হোতা হিসাবে সহযোগীতা করছে এক শ্রেণীর অসাধু পুরুষ চক্র।

পুলিশ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, শিৰিত কিছু ছাত্রী বিত্তশালীদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলেন। মডার্ণ পোশাক-আশাক, মিষ্টি ভাষী ও সুদর্শনী হওয়ায় এক শ্রেণীর নারী আসক্ত বৃত্তশালীরা অল্প দিনের মধ্যেই তাদের প্রেমে পড়ে যান। এরপর আন্তরিকতা থেকে ‘বিশেষ সর্ম্পক’ গড়ে উঠে। এ ধরণের ঘটনা মহানগরীতে প্রায় ঘটছে। এদের মূল টার্গেট হচ্ছে বৃত্তশালী ও বিবাহিত পুরম্নষরা। এরপর থেকে চাইনিজ, ফাস্টফুড, দামী-দামী পোশাক, উন্নতমানের কসমেটিকস সামগ্রী বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে।

অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বামী পরিত্যক্তা শিক্ষিত কিছু নারী পরিবারের অগোচরে নারী আসক্ত কিছু বিবাহিত পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করছে। এরা দেখতে সুদর্শনী, তবে কারো সাথে এরা দৈহিক কোন সম্পর্ক ঘটান না। তবে প্রেমের নাটক করে চাইনিজ ফাষ্টফুডে খাওয়া-দাওয়া, দামী পোশাক-আশাক, উন্নতমানের কসমেটিকস সামগ্রী ক্রয় সহ নগদ অর্থ নিয়ে থাকে।

জানা গেছে, এ সম্পর্ক ৬ মাস থেকে এক বছরের বেশী তারা স্থায়ী করেন না। এ সকল নারীদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবারের লোকজন অত্যানৱ ভদ্র, উক্ত নারীদের বিয়েও হয়েছিল বিত্তশালী পরিবারে এবং কারো কারো দু’টি বা একটি সনৱান রয়েছে। কিন্তু কোন কারণে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় পিতৃলয়ে অবস্থান করছে। কিন্তু জনসমাজে লোকলজ্জার কারণে তারা স্বামী ছাড়াছাড়ির বিষয়টি কাউকে জানাতে চান না এবং স্বামী বিদেশে আছেন বলে কাটিয়ে দেন। এ সকল প্রতারণার শিকার প্রেমিকরা মান-সম্মান ও লোকলজ্জার ভয়ে কারো কাছে মুখ খুলেন না। তবে এ ধরণের ঘটনায় দেখা গেছে আড়ালে কোন না কোন পুরম্নষের হাত রয়েছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীতে দরিদ্র পরিবারের কিছু নারী দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যাতায়াত রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ লোকাল মডেলিং এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করে থাকেন। এছাড়াও কিছু কিছু কলেজ ছাত্রীর সর্ম্পকে জানা গেছে, এরা দেখতে সুদর্শনী এবং দরিদ্র। এরা কলেজে একাধিক বন্ধু পাতায় এবং তাদের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম ও শারীরিক মেলামেশা করে থাকেন এবং আর্থিক বিষয়টি বন্ধুরা পুরণ করে। এ ধরণের ঘটনা নগরীতে প্রায় ঘটতে দেখা গেছে। সমপ্রতি বন্ধুর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করতে গিয়ে এরকম একটি জুটি থানায় ধরা পড়ে। তিনি নগরীর একটি ছাত্রি নিবাসে থাকেন এবং স্বনামধন্য একটি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী। অবশেষে পুলিশ মানবিক কারনে তাঁর অভিভাবককে সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

অপরদিকে, কিছু সুদর্শনী নারীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের ঠিকাদারী ও ফাইল সই করার কাছে ব্যবহার করছে কিছু বিত্তশালী আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী এবং মহানগরীর স্বনামধণ্য কিছু অসাধু ঠিকাদার। বেশীর ভাগ ৰেত্রেই দেখা গেছে এ সকল ঘটনার আড়ালে মুল খল নায়ক হচ্ছে কোন না কোন পুরম্নষ। রাজশাহীতে ২০১৪ থেকে ২০১৫ মার্চ-এর গতকাল পর্যন্ত পুরুষ কর্তৃক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২০১ জন। এরমধ্যে নারী হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯টি, আত্মহত্যা ৪৮টি, আত্মহত্যার চেষ্টা ২২টি, যৌন নির্যাতন ২৯টি, ধর্ষণ ১০টি, নির্যাতন ৪৮টি, হত্যার চেষ্টা ৬টি, নিখোঁজ ৭টি ও অপহরণের ঘটনার শিকার হয়েছে ১২ জন নারী।

এ ব্যাপারে মহাগরনগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (আরএমিপ পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র) ইফতেখায়ের আলম এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ধরণের ঘটনা প্রায় ঘটছে। এ ব্যাপারে মানুষের সচেতন হওয়া উচিত। এছাড়াও তিনি জানান, যারা এ ধরনের ঘটনায় ধরা পড়ে তাদের অনেককেই মানবিক কারণে পরিবারের অভিভাবককে ডেকে সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিতে হয়। এছাড়াও যারা পেশাগতভাবে দেহ ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরম্নদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। সূত্র : প্রথমবার্তা
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×