somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাওয়াফ কি ? মুসলমানরা কেন কাবা কে ঘিরে তাওয়াফ করে ? ক্বাবাকে ঘিরে কেন ৭ বার তাওয়াফ ?

২০ শে মে, ২০১৫ ভোর ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তাওয়াফ কি ? মুসলমানরা কেন কাবা কে ঘিরে তাওয়াফ করে ? ক্বাবাকে ঘিরে কেন ৭ বার তাওয়াফ ?

উত্তর :
তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা, ঘড়ির বিপরীতমুখী ( Counter clock-wise direction) হয়ে । কাবার চারদিকে একত্রে ঘুরে মুসলমানেরা এক আল্লাহ্‌র একাত্মতা প্রকাশ করার জ্বলন্ত উদাহরন । সপ্ত আসমানের উপরে বায়তুল মামুর নামক একটা মসজিদ আছে যেখানে ফেরেশতারা নিয়মিত তাওয়াফ করে। হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম যখন জান্নাতে থাকতেন তখন উনি ফেরেশতাদের তাওয়াফ করার স্থান বায়তুল মামুর কে লক্ষ্য করেছিলেন। দুনিয়াতে আসার পর হযরত আদমের ইচ্ছা হয় এই পৃথিবীর মাটিতেও এরকম একটা বায়তুল মামুর থাকবে যেখানে উনার সন্তানরা নিয়মিত তাওয়াফ করবে। মেরাজ রজনীতে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বায়তুল মামুর কে দেখেছিলেন। -“ এরপর আমাকে বায়তুল মামুরে উঠান হল। বললামঃ হে জিবরাঈল! এ কি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে ‘বায়তুল মামুর’। প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা তাওয়াফের জন্য প্রবেশ করে। তারা একবার তাওয়াফ সেরে বের হলে কখনও আর ফের তাওয়াফের সুযোগ হয় না তাদের। ” গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান হাদিস নাম্বার: 313 ] আর কাবা ঘর হল বায়তুল মামুরের ঠিক সোজাসুজি নিচে। কিন্তু দুনিয়ার জীবনে যেহেতু আমরা আল্লাহর আরশকে সামনে পাবো না ও আল্লাহর আরশের সামনে সিজদা দিতে পারবো না তাই আমরা মুসলমানরা এই কাবা ঘরের চতুর্পাশ্বে একসাথে তাওয়াফ করি। কারন কাবাঘর হচ্ছে দুনিয়ায় বায়তুল মামুরের প্রতিনিধি। ফেরেশতাদের মূল ইবাদতের ক্ষেত্র যেমন বায়তুল মামুর ঠিক তেমনি আমাদের জন্য কাবাঘর। ফেরেশতারা যেমন আল্লাহ্‌র আরশ ও বায়তুল মামুরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করে ঠিক তেমনি আমরাও কাবাঘর কে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করি। কাবা ঘর হচ্ছে আল্লাহর আরশের একদম নিচে। কাবা ঘর হচ্ছে আল্লাহর ঘর। কাবা ঘর হচ্ছে দুনিয়াতে আল্লাহর আরশের প্রতিনিধি। আল্লাহর আরশ কে কেন্দ্র করে যেমন এই মহাবিশ্বের সব গ্রহ নক্ষত্র ঘুরছে ঠিক তেমনি আমরা মুসলমানরা এক সাথে এই কাবা ঘরের চতুর্পাশ্বে ঘুরি। আর এটাকেই তাওয়াফ বলে। আর এই তাওয়াফ করার আমলটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হযরত ইব্রাহিম কে শিখিয়ে দিয়েছেন।






কাবা কে ঘিরে কেন তাওয়াফ করি:

কাবাঘর আমাদের কেবলা বা ইবাদতের কেন্দ্র ভূমি। ঐক্যবদ্ধভাবে ইবাদতের জন্য একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন। কাবাঘর হল আমাদের সেই কেন্দ্র। আর এই কেন্দ্রটিই কারনেই কাবাঘর আমাদের কাছে এত গুরুত্ব পূর্ণ। যদি অন্য কোথাও কাবার সদৃশ বা আরো দারুন ভাবে কাবাঘরের ন্যায় কোন ইবাদত গৃহ বানান হয়, তাইলে আমরা কি সেটিকে কেন্দ্র করে ইবাদত করব না । কারন কাবাঘর কে মুসলমানদের কেন্দ্র রুপে নির্ধারন করেছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা, মানুষ নয়। তাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশেই আমরা কাবাঘর কে কেন্দ্র করে নামায পড়ি ও সালাত আদায় করি।


আল্লাহ বলেছেন : " তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।"- আম্বিয়া ২১ : ৩৩ ।

এই আয়াত মহাবিশ্বের সিস্টেমের একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সত্যতাকে প্রমাণ করে :

চাঁদ প্রতি লুনার মাসে একবার পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে, পৃথিবী বছরে একবার সূর্যের চারিদিকে বৃত্তাকার ঘুরে, এবং সোলার সিস্টেমের অন্যান্য গ্রহ গুলোও নিজস্ব কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে বৃত্তাকার ঘুরে. এছাড়া, যেসব গ্রহের নিজস্ব যে চাঁদ আছে প্রতিটি তাদের কক্ষপথে একই ভাবে ঘুরছে (যার সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৬০ এর ও অধিক ) । ঠিক তেমনি ছায়াপথের ১৩০ বিলিয়ন নক্ষত্র গুলোও একটি কেন্দ্রে ঘুরছে । এমনকি , পরমাণুও একটি কক্ষপথে বৃত্তাকারে ইলেকট্রন দ্বারা বেষ্টিত থাকে । ঠিক তেমনি কোষ এর ভেতর সাইতপ্ল্যাজ্ম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে । সেক্ষেত্রে মহাবিশ্বের সব বিষয়ে এই আইন প্রযোজ্য ( Cosmic law)।





কাবা প্রদক্ষিন করা ইসলামের একটি মৌলিক রীতি । যেটি হজ্ব এবং ওমরাহ্‌ এর সময় মৌলিক ইবাদাত । আল্লাহর ঈমান এনে, তার কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণের জন্য - নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে মুসলমানরা তাওয়াফ কার্যটি করে থাকে ।

যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমরা উপরিল্লিখিত বিষয়বস্তু থেকে বুঝতে পারি । মহাবিশ্বের সবকিছুই প্রদক্ষিন করে বাধ্যতামূলক Laws of Nature এর উপর ভিত্তি করে কিনতু মানুষের ক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য হল - মানুষ করে নিজের ইচ্ছায় ( Free Will - যেটা আল্লাহ্‌ মানুষকে দিয়েছেন ) , নিজস্ব যুক্তি খাটিয়ে তার জ্ঞান-বুদ্ধি , চিন্তা-শক্তি কাজে লাগিয়ে ভাল -মন্দ নির্বাচন করতে পারে । যার মাধ্যমে বিশ্বাসীরা নিজেকে পুরোদস্তুর এক আল্লাহ্‌র কাছে সমর্পণ করে । আর অবিশ্বাসীদের কথা না ই বললাম ...........................



এইসব কিছু এটিই ইঙ্গিত দেয় যে , ইসলামে খোদার ইবাদত এর বাধ্যবাধকতা এবং মহাবিশ্বর প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে যে ঐক্য - দুটোরই ক্ষমতার উৎস এক, সেটি হচ্ছে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা ।

ক্বাবাকে ঘিরে কেন ৭ বার তাওয়াফ :
নামায যেভাবে ৫ ওয়াক্ত ,বাধ্যতামূলক ১৭ রাকাত ফরজ আল্লাহ্‌ দিয়ে দিয়েছেন ঠিক তেমনি তাওয়াফ ও আমাদের জন্য ইবাদত এর শামিল । আল্লাহ্‌ আমাদের সঠিক উপায়টিই বলে দিয়েছেন এবং চান আমরা জেন সেই ভাবে আদায় করি ।
হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) যেভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন আমরা সে ভাবে অনুসরণ করে আসছি ।

…::::: BillBoard::::…….
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×