somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের এই অন্তহীন মরুময়তা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি প্রতিনিয়ত অজস্র মানুষকে ডাস্টবিনে আবর্জনা কুড়াতে দেখি, আমি প্রতিনিয়ত কোন না কোন মানুষকে বস্তা মুরি দিয়ে ফুটপাতে শুয়ে পোকামাকরের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর সুনিপুনতা দেখি।আর প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন আমার কাছে মূল্যহীন মনে হতে থাকে। একটি প্রজাপতির ডানাভাঙা দেখ যে আমি অবিরাম কেদেছিলাম লক্ষীপেঁচার মত, আজ সে আমি একজন ছিঁচকে চোরের হাতভাঙা দেখে নির্বাক দাড়িয়ে রই হয়তোবা একটু স্বাভাবিক খারাপ লাগা নিয়েই। আমি একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুক অথবা অদ্ভুত অবয়বের কোন পথশিশুর অসহায় দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমার চিরচেনা জীবনকে চালিয়ে নেই।সকালবেলায় পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় হরফে বর্বরতার খবর দেখেও দিনটি আমার বেশ চলে যায়।এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ার আমার কাছে প্রতারনা মনে হলেও মাঝে মাঝে নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হয়।প্রতিনিয়ত একটু একটু করে ক্ষয় হতে থাকে জীবনের প্রতি আমার ভালোবাসা আমার মূল্যবোধ।আমার নিজের জীবনের এই অন্তহীন মরুময়তা আমাকে এখন আর অতটা দগ্ধ করেনা।হায়রে জীবন!!কৃত্রিম অনুশাসন আর স্ট্যাটাসের মত ক্ল্যাসিকাল অলংকার তোমাকে কোথাও করেছে মূল্যবান আবার কোথাওবা মূল্যহীন।আমি একটু একটু করে শিখে ফেলছি কাদের জীবন কত মূল্যবান, কাদের জীবনের নিরাপত্তা কত প্রয়োজনীয়।আমি সুনিপুন দক্ষতায় সুরম্য প্রাসাদে বাস করা জীবনগুলোর সাথে নোংরা ডাস্টবিনের পাশে শুয়ে থাকা জীবনগুলোর পার্থক্য করে ফেলি, মনে হয় পার্থক্য করার এই অধিকার বুঝি আমার জন্মগত, অন্তত মজ্জাগত!!জীবনে জীবনে তফাত করার এই মানদন্ডের প্রতি দিনে দিনে আমার আস্থা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়। কে জানে একদিন হয়ত ব্যাভিচারের দায়ে একজন নপুংশক স্বামীর স্ত্রীকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলার দৃশ্য দেখে আমার চোখ ছলছল করবেনা, শুধু অস্ফুট উচ্চারনের নপুংশকদের দলে সামিল হব এই একজন আামিও।

The Stoning of Soraya M. (2008) নামের এই বিখ্যাত মুভিটি দেখে আমার মনে হয়েছে জীবনের বোধ হয় আরো অন্তরঙ্গ অনুভব প্রয়োজন।

See
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×