somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (নয়)

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই সিরিজের পোস্টগুলা শুধু বিনুদনের জন্য! এইখানকার কোন ইনফরমেশন লেখকের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যাইবে না।)



(আগের পুস্টের পর............)
একটা অশুভদিন ঠিক করা হইল মাইয়ার আগমনের জন্য! এরেঞ্জমেন্টটা হইল এমন, মাইয়া দিনাজপুরে ফুলবাড়ি টার্মিনালে আসবে ওখান থেকে ওরে আমার বাসায় নিয়ে আস্তে হবে! বাসায় আমি একাই একটা রুম নিয়ে থাকার কারণে কাহারো দেখে ফেলারও সম্ভাবনা কম ছিল! ওনার আগমনের উপলক্ষে ঘর ক্লিন থেকে শুরু কইরা নতুন বেডশিট বিছানোর মতন কত্তো কাজ কাম শেষ করা লাগলো! ব্যাচেলর মানুষের ঘর বলে কথা!

একদিন হঠাত করেই সেই মাচ এন্টিসিপেটেড দিনটা ভুতের মতই সামনে আইসা পড়লো! আর আমার ইডিয়ট গিরি দেখানোর সময়ও সামনে হাজির হইয়া গেল!!! সকাল প্রায় এগারোটা! আমি সাইকেল নিয়া বাস স্ট্যান্ডে মাইয়ারে আনতে গেলাম! আমার তখন এইটাও মাথায় আছিল না যে পিরিত করলে মাইয়ার লগে এক লগে রিক্সায় কইরা যাওয়া-আসা করা লাগে! বোনাস হিসেবে বিড়ালের মাথায় ঘিয়ের শিকে যে মাঝেমাঝেই ছিঁড়ে সেই জিনিসটাও এই কমবখতের মাথায় হান্দে নি!

যাইহোক, ওইখানে কয়েক মিনিট অপেক্ষার পর কল পাইলাম! উনি আসিয়া পড়িয়াছেন! প্রথম কল দুইটা ধরি নাই! আসলে আমি কলটা ধরার আগেই লোকটারে আইডেণ্টিফাই করতে চাইছিলাম! তেমন কাউরে দেখতেছিলাম না আশেপাশে। শুধু হলুদ রঙের কাপড় পড়া এক অ্যান্টির মতো মহিলাকে ছাড়া! উনি আবার যেন কাকে কল করেচ্চেন! তিন নম্বর কলটা গাছের আড়াল থেইকা ধরলাম মেক শিউর করার জন্য যেন মাইয়া আমারে আগে থেইকা চিনতে না পারে! আমারে কয় আমি হলুদ রঙের ড্রেস পরে আসছি! এইবার তো আর মনে কুনো সন্দেহই থাকলো না এই অ্যান্টি সদৃশ মহিলাটাই আমার পিরিতের পাবলিক। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলাম, জান লইয়া পালামু নাকি এনার সাথে কথা বলমু? মাইয়ার স্টাবার্ন নেচারের কথা চিন্তা করিয়া, মনে করলাম দেখা করাটাই উত্তম হইবে। না হইলে কি সিন ক্রিয়েট কইরাবসে কে জানে! মাইয়া যে আমার টেরিটরিতে আইছে আমার লগে দেখা করতে, একটু ঘাটাঘাটি করলেই জিনিসটা বাইর হইয়া যাইবে!অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওনার সামনে যাইয়া কইলাম আপনি কি (নাম রিডাক্টেড)? মাইয়া কয় হ্যাঁ! এইটা শুইনা আমার ফেসের অবস্তা এমন হইছিল যে লোকে দেখলে কইত এই পুলারে কে নিমের পাতা চিবাইতে দিছে? এরে একটু চিনি দাও!!!

কিন্তু আমি ইডিয়ট, পাক্কা ইডিয়টের মত মাইয়ারে কুনো পার্কে ঘুরাই ঘারাই একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়াই বাড়ি না পাঠাই দিয়া আমার রুমে লইয়া গেলাম?
কিন্তু কেনু?

আমি মনে করছিলাম, এর লগে পার্ক টার্কে গেলে লোক দেখে ফেলবে। মান সম্মান বলে তাইলে আর কিচ্ছু থাকপে না! আর রুমের মধ্যে ব্যাপারটা কন্টেইন্ড থাকপে! ইডিয়ট হইলে যা হয় আরকি! এরপর তো মাইয়ারে চুপি-চুপি বাসায় নিয়া বসাইলাম গরিবের একমাত্র সম্বল দুর্বল সিঙ্গেল বিছানায়! বিছানারে আবার ঠেলা দিলেই নড়ত এমুন অবস্তা! একটা পায়ার আবার সমস্যাও ছিল! আমি তো আতঙ্কে আছিলাম ওইটা না আবার ভাইঙ্গা যায়! যাই হোক, অ্যান্টির মতো পিরিতের পাবলিকরে দেইখা তো আর সহজ হইতে পারি না! আর মুখ ফুইটা কইতেও পারি না যে আপনে আন্টির মতন লাগেন ক্যারে? মাইয়ার দিকে তাকানোর আর সাহস হয় না! পরে বুদ্ধি বাহির করিয়া তাহার ঠ্যাঙের দিকে চাইয়া থাকলাম! এর মধ্যে দুই একটা লাইন কথাবার্তা হইল। কুশলাদি বিনিময় করলাম! আর একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, আমি ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ কইরা দিছিলাম যাতে কেউ না দেখে ফেলে! খালি চল্লিশ ওয়াটের টিউব লাইটটা টিম টিম করে জ্বলতেছিল। এইভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হইল!

এইবার হঠাত করে দরজার মধ্যে ঠক!!! ঠক!!! ঠক!!! শব্দ! শুইনা তো ভয়ে আমার আত্মারাম পুরাই খাঁচাছাড়া! আসার সময় কেউ দেখে ফেলে নাই তো? কিছুদিনআগে পাশের মেসে এলাকার লোকজন এক মেসেরই পুলা আর এক মাইয়াকে (পুলার ইয়ে) ধরিয়া গনধোলাই দিয়া পুলিশে সোপর্দ করিয়াছে! তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাহারা নাকি সমাজবিরোধী কর্মে লিপ্ত ছিল! আমারও সন্দেহ সেইম! ব্যাটারা নির্ঘাত আকাম করিতেছিল! আমি নিজে ওনাদের বেশ কয়েকবার আগমন-প্রস্থান করতে দেখিয়াছি!

এখন কি হপে! দরজা খুলতে একটু দেরী দেখিয়া আবার দরজায় ঠক!!! ঠক!!! ঠক!!! মনে হইল এইবার একটু জোরে শুনলাম! কেউ কথাও কয় না! ওই ব্যাটারা না তো? মনে মন এচিন্তা করতেছি উত্তম মধ্যম তাইলে খাইতেই হইল! আবার দেরী করে খুললেও তো সমস্যা। পুরাই ফান্দে পইড়া গেছি! বাধ্য হইয়া মনে মনে আল্লাহর নাম লইতে লইতে কম্পমান হস্তে আস্তে আস্তে কইরা দরজাটা খুললাম!!!

(চলপে.........।)
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×