
(আগের পুস্টের পর............)
একটা অশুভদিন ঠিক করা হইল মাইয়ার আগমনের জন্য! এরেঞ্জমেন্টটা হইল এমন, মাইয়া দিনাজপুরে ফুলবাড়ি টার্মিনালে আসবে ওখান থেকে ওরে আমার বাসায় নিয়ে আস্তে হবে! বাসায় আমি একাই একটা রুম নিয়ে থাকার কারণে কাহারো দেখে ফেলারও সম্ভাবনা কম ছিল! ওনার আগমনের উপলক্ষে ঘর ক্লিন থেকে শুরু কইরা নতুন বেডশিট বিছানোর মতন কত্তো কাজ কাম শেষ করা লাগলো! ব্যাচেলর মানুষের ঘর বলে কথা!
একদিন হঠাত করেই সেই মাচ এন্টিসিপেটেড দিনটা ভুতের মতই সামনে আইসা পড়লো! আর আমার ইডিয়ট গিরি দেখানোর সময়ও সামনে হাজির হইয়া গেল!!! সকাল প্রায় এগারোটা! আমি সাইকেল নিয়া বাস স্ট্যান্ডে মাইয়ারে আনতে গেলাম! আমার তখন এইটাও মাথায় আছিল না যে পিরিত করলে মাইয়ার লগে এক লগে রিক্সায় কইরা যাওয়া-আসা করা লাগে! বোনাস হিসেবে বিড়ালের মাথায় ঘিয়ের শিকে যে মাঝেমাঝেই ছিঁড়ে সেই জিনিসটাও এই কমবখতের মাথায় হান্দে নি!
যাইহোক, ওইখানে কয়েক মিনিট অপেক্ষার পর কল পাইলাম! উনি আসিয়া পড়িয়াছেন! প্রথম কল দুইটা ধরি নাই! আসলে আমি কলটা ধরার আগেই লোকটারে আইডেণ্টিফাই করতে চাইছিলাম! তেমন কাউরে দেখতেছিলাম না আশেপাশে। শুধু হলুদ রঙের কাপড় পড়া এক অ্যান্টির মতো মহিলাকে ছাড়া! উনি আবার যেন কাকে কল করেচ্চেন! তিন নম্বর কলটা গাছের আড়াল থেইকা ধরলাম মেক শিউর করার জন্য যেন মাইয়া আমারে আগে থেইকা চিনতে না পারে! আমারে কয় আমি হলুদ রঙের ড্রেস পরে আসছি! এইবার তো আর মনে কুনো সন্দেহই থাকলো না এই অ্যান্টি সদৃশ মহিলাটাই আমার পিরিতের পাবলিক। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলাম, জান লইয়া পালামু নাকি এনার সাথে কথা বলমু? মাইয়ার স্টাবার্ন নেচারের কথা চিন্তা করিয়া, মনে করলাম দেখা করাটাই উত্তম হইবে। না হইলে কি সিন ক্রিয়েট কইরাবসে কে জানে! মাইয়া যে আমার টেরিটরিতে আইছে আমার লগে দেখা করতে, একটু ঘাটাঘাটি করলেই জিনিসটা বাইর হইয়া যাইবে!অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওনার সামনে যাইয়া কইলাম আপনি কি (নাম রিডাক্টেড)? মাইয়া কয় হ্যাঁ! এইটা শুইনা আমার ফেসের অবস্তা এমন হইছিল যে লোকে দেখলে কইত এই পুলারে কে নিমের পাতা চিবাইতে দিছে? এরে একটু চিনি দাও!!!
কিন্তু আমি ইডিয়ট, পাক্কা ইডিয়টের মত মাইয়ারে কুনো পার্কে ঘুরাই ঘারাই একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়াই বাড়ি না পাঠাই দিয়া আমার রুমে লইয়া গেলাম?
কিন্তু কেনু?
আমি মনে করছিলাম, এর লগে পার্ক টার্কে গেলে লোক দেখে ফেলবে। মান সম্মান বলে তাইলে আর কিচ্ছু থাকপে না! আর রুমের মধ্যে ব্যাপারটা কন্টেইন্ড থাকপে! ইডিয়ট হইলে যা হয় আরকি! এরপর তো মাইয়ারে চুপি-চুপি বাসায় নিয়া বসাইলাম গরিবের একমাত্র সম্বল দুর্বল সিঙ্গেল বিছানায়! বিছানারে আবার ঠেলা দিলেই নড়ত এমুন অবস্তা! একটা পায়ার আবার সমস্যাও ছিল! আমি তো আতঙ্কে আছিলাম ওইটা না আবার ভাইঙ্গা যায়! যাই হোক, অ্যান্টির মতো পিরিতের পাবলিকরে দেইখা তো আর সহজ হইতে পারি না! আর মুখ ফুইটা কইতেও পারি না যে আপনে আন্টির মতন লাগেন ক্যারে? মাইয়ার দিকে তাকানোর আর সাহস হয় না! পরে বুদ্ধি বাহির করিয়া তাহার ঠ্যাঙের দিকে চাইয়া থাকলাম! এর মধ্যে দুই একটা লাইন কথাবার্তা হইল। কুশলাদি বিনিময় করলাম! আর একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, আমি ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ কইরা দিছিলাম যাতে কেউ না দেখে ফেলে! খালি চল্লিশ ওয়াটের টিউব লাইটটা টিম টিম করে জ্বলতেছিল। এইভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হইল!
এইবার হঠাত করে দরজার মধ্যে ঠক!!! ঠক!!! ঠক!!! শব্দ! শুইনা তো ভয়ে আমার আত্মারাম পুরাই খাঁচাছাড়া! আসার সময় কেউ দেখে ফেলে নাই তো? কিছুদিনআগে পাশের মেসে এলাকার লোকজন এক মেসেরই পুলা আর এক মাইয়াকে (পুলার ইয়ে) ধরিয়া গনধোলাই দিয়া পুলিশে সোপর্দ করিয়াছে! তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাহারা নাকি সমাজবিরোধী কর্মে লিপ্ত ছিল! আমারও সন্দেহ সেইম! ব্যাটারা নির্ঘাত আকাম করিতেছিল! আমি নিজে ওনাদের বেশ কয়েকবার আগমন-প্রস্থান করতে দেখিয়াছি!
এখন কি হপে! দরজা খুলতে একটু দেরী দেখিয়া আবার দরজায় ঠক!!! ঠক!!! ঠক!!! মনে হইল এইবার একটু জোরে শুনলাম! কেউ কথাও কয় না! ওই ব্যাটারা না তো? মনে মন এচিন্তা করতেছি উত্তম মধ্যম তাইলে খাইতেই হইল! আবার দেরী করে খুললেও তো সমস্যা। পুরাই ফান্দে পইড়া গেছি! বাধ্য হইয়া মনে মনে আল্লাহর নাম লইতে লইতে কম্পমান হস্তে আস্তে আস্তে কইরা দরজাটা খুললাম!!!
(চলপে.........।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

