বেশ ইন্টারেস্টিং এই সায়েন্টিফিক ব্যাপারটা বাংলায় সহজ করে লেখার চেষ্টা করতেছি। আমি সিউর অনেকের কাছে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হবে। ।
গত বছরের থার্টি ফার্স্ট নাইটে কয়েকজন মিলে রোড ট্রিপে গেছিলাম। বহুত রকমের আলাপ আলোচনার মধ্যে এক নতুন ফ্রেন্ড কয় যে, তুমি যদি বিয়া কর আর তুমার ওয়াইফ যদি আগে কারো লগে আকাম করে তাইলে বাচ্চা আসলে তুমার হইলেও দেখতে তার পিরিতের পাবলিকের মত হইতে পারে। আমি তো পারলে তারে ধমক দিয়া চুপ করাই দিই। এইটা ক্যেমতে হয়? তাইলে কি বায়োলজি কি আমাগোরে ভুল শিখাইতেছে নাকি? তাছাড়া "লাইক ফাদার লাইক সান" কথাগুলা তো এমনে এমনে আসে নাই। তারপর সে কয় সে নাকি প্রমাণ দিতে পারবে। আমিও কইলাম ঠিক আছে, তাইলে মাইনা নিমু।
এরপরদিন দেখি হ্যায় আমারে ফেসবুকে একটা নিউজের পোস্টে ট্যাগ দিছে। দেখি অকি!!! ব্যাপারটারে সত্যই মনে হইতেছে। মাগার সায়েন্সের নিউজগুলা মাঝে মাঝে ভুয়া টাইপ হয়। হয়ত জার্নালের আর্টিকেলে স্টিফেন হকিং লিখছে যে, খোদা যে নাই সেইটা আমরা একশ ভাগ সিউর না কিন্তু পেপারগুলার হেডলাইন হবে “স্টিফেন হকিং খোদার অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন”। আর হাজার হোক ব্যাপারটারে ভুল প্রমাণ করতে পারলে আমি অরে বুক ফুলাই কইতে পারমু যে নাহ এইটা স্টিল ভুয়া। সুতরাং খুঁজাখুঁজি করতে করতে আমি নিউজের ইনফরমেশনগুলা দিয়া অরিজিনাল আর্টিকেলটা বাইর কইরা লাইলাম। পইড়াতো আমি তব্দা খাইয়া গেলাম। দেখি ঘটনা আসলে সইত্য।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ সাউথ ওয়েলসএর এক বিজ্ঞানী গবেষণা কইরা এইটা আসলেই বাইর করছেন। উনারা প্রথমে একই জাতের কিছু পুরুষবাচ্চা মাছিরে দুই ভাগ করছেন। এক ভাগরে ভাল ভাল খাবার দিয়া বড় করছে আর এক ভাগরে খারাপখাবার দিয়া বড় করছে। রেজাল্ট হইল, যারা ভাল খাইছে তারা সাইজে বড় হইছে আর যারা খারাপখাইছে তারা সাইজে ছোট হইছে। আর একটা ব্যাপার হইল মাইয়া মাছির ডিম এক সপ্তাহ বয়সে ম্যাচিউরহয় না, তিন সপ্তাহ বয়সে হয়।
তারপর আমাদের সায়েন্টিস্ট মশাই এক সপ্তাহ বয়সের মাইয়া মাছিরে এক গ্রুপের (সাইজে বড়) পুরুষ মাছি দিয়া আকাম করাইছে তারপর তিন সপ্তাহ বয়সে অন্য গ্রুপের (সাইজে ছোট) পুরুষ মাছিরে দিয়া আকাম করাইছে। সেইম কামটা রিপিট করছে সাইজে ছোটরে আগে দিয়া আর সাইজে বড়রে পরে দিয়া। তারপর ওরা দুই গ্রুপের নতুন জন্ম হওয়া মাছিগুলার সাইজ মাপছে।

এক্সপেরিমেন্টাল ডিজাইন (উপ্রে)
মজার ব্যাপার হইল ওরা দেখছে যে মাইয়া মাছির ডিম ম্যাচিউর নাহইলেও প্রথমে যেই গ্রুপের পুরুষ মাছিরে দিয়া আকামটা করানো হইছে বাচ্চাগুলার সাইজ সেই গ্রুপের মতনই হইছে। আর বাচ্চাগুলারে সবাইরেসেইম খাবার দেওয়া হইছে।

এইটা হইল রেজাল্ট High:ভাল খাবার। Low: খারাপ খাবার
এখন মাথার মধ্যে একটা ব্যাপার আইতে পারে সেইটা হইল, “এহহ... আগের গ্রুপের মাছিগুলাই যদি আসল বাপ হয় তাইলে বাচ্চা গুলা তো বাপের মতন হবেই”। মজার ব্যাপার হইল, এই সায়েন্টিস্ট শালারা ব্যাপারটা চিন্তা কইরা সবগুলা মাছির ডীএনএ টেস্ট কইরা কনফার্ম করছে যে পরের গ্রুপের পুরুষ মাছিগুলাই আসল বাপ মাগার খালি সাইজগুলা হইছে আগের গ্রুপের মাছিগুলার মতন।
তাইলে ব্যাপারটা কি দাড়াইল? আর ক্যামনেই বা কি হইল?
উত্তরঃ ওই সায়েন্টিস্টগুলাও ঠিক জানে না ক্যেমতে কি হইছে!!! তবে হ্যারা মনে করতেছে সেমিনাল ফ্লুইডের (সিমেন) মধ্যে এমন কিছু আছে যেইটা এই আকামটা করাইতেছে। হ্যারা ব্যাপারটারে আরও ঘাঁটাইয়া দেখতেছে।
*** অনেকের কাছে মনে হইতে পারে ব্যাপারটা তো মাছিতে, আমরা কি মাছি নাকি? আপনি এই দলের হইলে আপনার একটু বেশি পড়াশুনা করা লাগবে।
আসল আর্টিকেলের লিঙ্ক
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৫ ভোর ৪:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



