somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৪ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্ত ঘটে

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঠাণ্ডা লড়াই’এর আমলের সেই পরাশক্তির ইতিহাসে পরিণত হতে মাত্র দু’দশক সময় লেগেছে৷ অথচ ১৯৯১ সালের সেই ঘটনাবলী বিশ্বকে শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছিল৷
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে অবক্ষয়ের চিহ্ন সুস্পষ্ট৷ শিল্পে উৎপাদন কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে, সেই সঙ্গে আছে লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি৷ জাতিগত বিরোধ বাড়ছে; জর্জিয়া, আজারবাইজানে গুলি চলছে৷ সোভিয়েত গণরাজ্যগুলির মধ্যে লিথুয়ানিয়া প্রথমে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, এবং সেটা ১৯৯০ সালেই৷ ১৯৯১'এর জানুয়ারিতে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে গোয়েন্দা পুলিশ কেজিবি'র বিশেষ কম্যান্ডো পাঠানো হয় মস্কো থেকে৷ সেখানকার টেলিভিশন টাওয়ারে কেজিবি'র অভিযানে ১৪ জন মানুষ প্রাণ হারায়৷ তা সত্ত্বেও লিথুয়ানিয়াকে সোভিয়েত ইউনিয়নে ফেরানো যায়নি৷
সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচভ আজ বলেন: ‘‘সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাঁচানো সম্ভব ছিল এবং তা উচিৎও ছিল৷'' গর্বাচভ চেয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের এক নতুন, আধুনিকতর সংস্করণ, যা তার অঙ্গ গণরাজ্যগুলিকে আরো বেশি সায়ত্তশাসন দেবে৷
১৯৯১'এর মার্চে এই নিয়ে গণভোটও হয়েছিল এবং তা'তে নাকি বিপুল সাড়া পাওয়া গিয়েছিল৷ এই নয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন কেমন হবে, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনায় কিন্তু বিশেষ সুবিধা হয়নি - ১৫টি গণরাজ্যের মধ্যে মাত্র ন'টি তা'তে অংশগ্রহণ করে৷ গর্বাচভ একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করেন ঠিকই৷ সেটা হবার কথা বিশে অগাস্ট৷ কিন্তু তার আগের দিনই ঘটে পশ্চিমে যা আগে থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল: গর্বাচভের বিরুদ্ধে কট্টর সোভিয়েতপন্থিদের অভ্যুত্থান, যাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেজিবি প্রধান ইত্যাদিরা ছিলেন৷
গর্বাচভ অসুস্থ, বলে তাঁকে ক্রিমিয়ায় তাঁর ছুটি কাটানোর বাড়িতে সপরিবারে বন্ধ করে রাখা হয়৷ বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ সোভিয়েত ইউনিয়নে জরুরি অবস্থা জারি করে মস্কোর রাস্তায় ট্যাঙ্ক নামানো হয়৷ এই পন্থায় নাকি সোভিয়েত ইউনিয়নকে ‘‘বিপর্যয়ের'' হাত থেকে রক্ষা করা হবে৷ অভ্যুত্থানকারিদের একমাত্র ভুল ছিল, রাশিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন যে কি ধাতের মানুষ অথবা কোন ধাতু দিয়ে তৈরি, সেটা তারা ঠিক আন্দাজ করতে পারেনি৷
মস্কোয় ইয়েলৎসিন'এর কর্মস্থল সেই সাদা রঙের বহুতল বাড়িটির সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে শুরু করে, অভ্যুত্থানকারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে৷ আশ্চর্য, পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তই থাকে, শুধু মস্কোর পথে রাতে ট্যাঙ্ক বাহিনী যাবার সময় তিনজন মানুষ প্রাণ হারায়৷ তিনদিন পরে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়৷ গর্বাচভ মস্কোয় ফেরেন, তাঁর চেহারায় ধকলের চিহ্ন স্পষ্ট৷ পরিবর্তে বরিস ইয়েলৎসিনের ট্যাঙ্কের উপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়ার ছবি তখন বিশ্বের সব পত্রিকার প্রথম পাতায়৷
অভ্যুত্থানকারিদের সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তাদের মধ্যে কয়েকজন আত্মহত্যাও করে৷ কিন্তু বস্তুত সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তকে আরো এগিয়ে আনে তারাই৷ অগাস্টের সেই টালমাটাল দিনগুলিতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়ে এস্টোনিয়া৷ পরে দলছুট হয় ইউক্রেইন এবং অন্যান্য গণরাজ্য৷ গর্বাচভ তাঁর নতুন চুক্তি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান৷ কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই রাশিয়া, ইউক্রেইন এবং বেলারুশ তাদের নিজেদের স্বাধীন জোট সৃষ্টি করে৷
সরকারিভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়া হয় ১৯৯১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর৷ গর্বাচভ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পদত্যাগ করেন৷

প্রতিবেদন: রোমান গঞ্চারেঙ্কো/অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....



পড়া, টিভি, মুভি এগুলো- এগুলো বেকারদের অবলম্বন। বেশীরভাগ বয়স্কদের পছন্দ- ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি আর্থ ইত্যাদি ইত্যাদি চ্যানেল। আমার হাতে টিভির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×