somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফেলুদার তোপসে
নিষ্পত্তি কি সব সময়ে জয়-পরাজয়ে? ময়দানি ধুলোয় তার বাইরেই যে পড়ে থাকে খেলার আসল-নকল গল্পগুলো৷ ময়দানের ঘাস-ধুলো যাঁর প্রিয়তম বন্ধু, তাঁর কলমে অভিজ্ঞতার দস্তাবেজ৷

তুই কাতুকুতু নিলি কেন!

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি হোস্টেলে থাকতাম। কিছু শিক্ষক আমাদের ওয়ার্ডেন হিসেবে থাকতেন। তাঁদেরই এক জন ছিলেন ‘উপি’। পদবি ‘উপাধ্যায়’ থেকে আমরাই নিকনেম-টা বানিয়ে নিয়েছিলাম। উপি-র জীবনের মোক্ষ ছিল ছাত্রদের নানা ভাবে টর্চার করা। হোস্টেলের ছাত্রদের উনি দু’ভাগ করে নিয়েছিলেন। এক দলের ওপর ওঁর ‘গুড ইম্প্রেশন’, এক দলের ওপর ‘ব্যাড ইম্প্রেশন’। গুড-রা খুন করলেও পার পাবে, আর ব্যাডরা হাঁচলেও নিলডাউন। ব্যাডদের শায়েস্তা করার জন্য উনি নিত্যনতুন ফন্দিও আঁটতেন।
আমাদের নিয়ম ছিল, সব জিনিসের জন্য দুটো করে ঘণ্টা বাজবে। ফার্স্ট বেল-এ তুমি বুঝবে, সময় হয়ে এসেছে, আর সেকেন্ড বেল-এর পর যদি পৌঁছও, তা হলে ‘লেট’। একটি ছেলে পি.টি. করে ফিরল। সে ব্যাডের দলে। উপি তাকে ডেকে হাবিজাবি কারণে ধমকাতে শুরু করলেন। প্রেয়ারের ফার্স্ট বেল পড়ে গেলে, তবে তাকে ছাড়লেন। ছেলেটি পড়িমরি করে পি.টি. ড্রেস ছেড়ে, প্রেয়ারের জন্যে তৈরি হয়ে, প্রেয়ার হল-এ ঢুকতে ঢুকতে, সেকেন্ড বেল পড়ে গেল। উপি ধরলেন, ‘তুই লেট করলি কেন?’ ছেলেটি অবাক হয়ে বলল, ‘স্যর, আপনিই তো...’ সঙ্গে সঙ্গে ঠাস থাপ্পড়। ‘আমার মুখে মুখে কথা? নিলডাউন হ।’ এ বার ছাড়লেন স্টাডি হল-এর ফার্স্ট বেল পড়ার পর। সে বইখাতা গুছিয়ে পড়িমরি ছুটতে ছুটতে সেকেন্ড বেল পড়ে গেল। আবার, ‘তুই লেট করলি কেন?’ এই ভাবে সারা দিন ধরে ছেলেটি থাপ্পড় ও নিল়ডাউনের ওপর থাকল।
শিক্ষকরা খেতে বসতেন আমাদের সামান্য পরে, ওঁরা ভাল ভাল খাবার খেতেন। উপি সেই সময় একটা বিচারসভা বসাতেন। খাবার চিবোতে চিবোতে তারিয়ে তারিয়ে আসামি-ছাত্রদের অপমান করতেন। কেউ হয়তো ভাত ফেলেছে। কেউ হয়তো খেতে খেতে পাশের ছেলেটির সঙ্গে কথা বলেছে। উপি বললেন, ‘এ ছেলেটা একেবারে পচে গেছে!’ সঙ্গে সঙ্গে অন্য শিক্ষকরা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে টিকটিকির মতো সায় দিয়ে উঠলেন। এক জন আরও চিমটি কেটে বললেন, ‘দেখুন, কেমন মিচকের মতো তাকাচ্ছে। অতি ধড়িবাজ। একে রাখলে বাকি ছেলেগুলোও পচে যাবে।’ আর এক জন পোঁ ধরলেন, ‘অঙ্কেও তো সাতাশ পেয়েছিল।’ পুরো সময়টা ছাত্রেরা কাঁপতে কাঁপতে ভাবছে, ক’টা চড় বা বেতের ঘা আজ অপেক্ষা করছে। খাওয়া শেষ হলে, হাতটাত ধুয়ে, মুছে, উপি জম্পেশ করে পেটাতে শুরু করতেন। পেটানোর আগের ওই আধ ঘণ্টা ধীরেসুস্থে ছেলেগুলোকে ভয়ে আধমরা করাটা ছিল ওঁর ইনোভেশন। অন্য শিক্ষকরাও অসহায়দের মজাসে অত্যাচার করাটা প্রবল উপভোগ করতেন।
এক বার প্রেয়ার হল-এ এক জন ছাত্র ফিকফিক করে হেসে ফেলেছে। সাংঘাতিক অপরাধ। উপি ছেলেটিকে ডাকলেন। ‘হাসছিলি কেন?’ সে বলল, ‘স্যর, শুভেন্দু আমায় কাতুকুতু দিয়েছিল।’ উপির ভুরু কুঁচকে গেল। শুভেন্দুর ওপর ওঁর গুড ইম্প্রেশন। ‘ডাক শুভেন্দুকে।’ শুভেন্দু এসে কাঁচুমাচু হয়ে তক্ষুনি স্বীকার করে নিল, ‘হ্যাঁ স্যর, আমিই ওকে কাতুকুতু দিয়েছিলাম।’ সবাই শ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। এ বার তো উপি গুড-কে শাস্তি দিতে বাধ্য! এ দিকে হেসে-ফেলা ছেলেটি ব্যাডের দলে। তা হলে ওকে ছেড়ে দিতেও তো উপির অসম্ভব আপশোস হবে। উপি দু’সেকেন্ডের মধ্যে সামলে নিয়ে, ব্যাড ইম্প্রেশনের ছেলেটিকে চুল ধরে প্রচণ্ড পেটাতে শুরু করলেন। চেঁচাতে লাগলেন, ‘শুভেন্দু নাহয় কাতুকুতু দিয়েছিল। তুই নিয়েছিলি কেন!’
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৬ রাত ২:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×