হাতের মুঠি সকলের জন্য খোলে না ,
সকলের জন্য লেখা হয় না নীল চিঠি ,
সবার জন্য শিশির কিংবা
আগুন হওয়া যায় না । ” ... ...
ইতস্ততঃ অনেক হাতই
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চারপাশে ---
রোমশ , নির্লোম , রুক্ষ্ম , পেলব ।
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতও আছে অনেক
রাতারাতি দিন বদলের
মৌখিক প্রতিশ্রুতি যাতে সর্বত বন্দী।
এসবের মধ্য থেকে কেউ কেউ এসে
আমার পথ আগলে দাঁড়ায় । বলে ,
“ওহে সুজন ! তোমার মুঠোয় বারুদ আছে জানি ।
জানো তো , আমরা দিন বদলের পথে হাঁটি ?
তোমাকে খুব দরকার । রাতের পথে
মশাল জ্বালতে হবে ।”
বলতে পারিনা --- মুঠোর বারুদ সকলের জন্য
প্রজ্জ্বলিত হয় না ।
আমার মুঠোয় বারুদই নয় শুধু ,
এক টুকরো নির্মল আকাশও আছে তাতে ,
রয়েছে কিছু সামুদ্রিক উচ্ছ্বাস ,
রেখেছি গোটাকয় স্বরচিত পঙ্ক্তিও সযত্নে ।
এসব জেনে চলেও আসে কোন কোন মানবী
কবিতার অন্তর্বর্তী চোরাপথ ধরে ,
“ওগো কবি ! ভালো ক’রে চেয়ে দেখো ,
আমিই তোমার মনোমিতা !
লেখো দেখি আমাকে নীল খামের চিঠি !
আর দাও দেখি তোমার পুরুষ-হাত
আমার কম্পিত হাতের তালুতে বিছিয়ে ! ”
বলতে পারিনি ---
সব ‘মেয়ে’ যেমন ‘নারী’ হয় না
তেমনি সব ‘নারী’ মনোমিতা হতে পারে না ।
কিছুই বলতে পারিনি ।
আমার তাই হাঁটা হয়নি দিন বদলের পথে ,
হাতের পরশ বিছিয়ে দেওয়া হয়নি
কোন মানবীর হাতে ।
আজ এই পড়ন্ত বিকেলের কিনারায়
যখন দূরাগত অন্ধকার
ধেয়ে আসছে আমার সম্মুখে ,
যখন আর কোন পথ খোলা নেই কোনদিকে
মুঠোর পঙ্ক্তিগুলো সাজিয়ে লিখেই ফেললাম
নীল চিঠি , তারপর তাকে
ভাসিয়ে দিলাম আমারই মুঠোর আকাশে
আমারই মুঠোর বারুদে জ্বালিয়ে ,
যেসব আগ্নেয় অক্ষরভস্ম
উড়ে বেড়াচ্ছে চারদিকে
তাদের ঠিক শুষে নেবে জানি
আমারই মুঠোর সমুদ্র ।
আসল কথা হল ---
হাতের মুঠি আমি খুলে রেখেছিলাম চিরকালই ,
সবাই যে যার নিজের মত ক’রে
আমাকে পাবার তাড়াহুড়োয়
কেউ সেটা খেয়ালই করল না !!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




