somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরী ও প্রজাপতি

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ খুব ভোরে উঠা হলো না পরীর! হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিদিন সকাল ৮টা এর পূর্বেই ঘুম থেকে উঠে
যেতো। নার্সেরা তাকে অতি আদরের সহিত সকালের নাস্তা ও খাওয়া দাওয়া সারিয়ে দিতো । কিন্তু আজ দেরিতে ঘুম
থেকে জাগা সত্ত্বেও কেবিনে কেউই নেই!!
ঘুম থেকে উঠার পর প্রতিদিন নার্সেরা জানালার পর্দা সরিয়ে দিতো কিন্তু আজ কি যেন হলো নার্সের প্রয়োজন
পড়ছে না! নিজেই গিয়ে পর্দা সরিয়ে সকালের মিষ্টি রোদ উপভোগ করা শুরু করলো । কিন্তু মজার বিষয় হলো বিছানা
হতে জানালা পর্যন্ত যেতে পরীকে নিচের মেঝ স্পর্শ করতে প্রয়োজন হয় নি!!
জানালার পাশে গিয়ে দেখলো সেই প্রজাপতিটা! যেইদিন থেকে পরী হাসপাতালে এসেছে তখন থেকে প্রজাপতিটার
সাথে পরিচয়। প্রজাপতিটা আসে জানালার ধারে বসে, ঝিরে ঝিরে সকালের মৃদু নাতাসে সে নিজের ডানা মেলে ধরে ।
রঙ বেরঙের ডানার ছন্দময় নৃত্যে পরী অনেক আনন্দে মতে ওঠে! এই আনন্দ মনে হয় প্রজাপতির হৃদয়ে
আলোড়ন জাগায়, সে বুঝতে পারে ! প্রজাপতির হেলে-দুলে নাচ উপভোগে পরীর মুখ হাসিতে মেতে ওঠে।
পরীর এরূপ আনন্দ দেখে নার্সেরা জানালার কাচগুলো খুলে দেয়। প্রজাপতি উড়ে এসে পরীর হাতে বসে, আর
পরীর কানে কানে কিছু বলার চেষ্টা করে ! দক্ষিণা বাতাস প্রজাপতির শব্দহীন অব্যাক্ত কথা পরীর কানের পর্দা পর্যন্ত
পৌছায়! দুজনেই আড্ডায় মতে উঠে!
কিন্তু কেন যেনো পরীর মনে হলো আজ প্রজাপতিটা তার ডানা মেলে নেচে বেড়াচ্ছে না! জানালার কাচ ভেঙে
ভেতরে ঢুকার চেষ্টা চালাচ্ছে! প্রতিদিন প্রজাপতির চোখ দেখতে অক্ষম হলেও আজ পরী অক্ষম নয়, সে
দেখছে প্রজাপতির মায়াময় চোখ, যেন এই মাত্র কেদে দিবে! দেখে যাচ্ছে প্রজাপতির কাচ ভাঙার চেষ্টা !! প্রজপতির
এই নিরলস চেষ্টা দেখতে দেখতে কখন যেন নিজের অজান্তেই পরী দরজা ছাড়াই কেবিনের দেওয়াল ভেদ করে
জানালার বাইরে চলে আসে ! অনেক্ষণ ব্যর্থ পচেষ্টার পর প্রজাপতি হাপিয়ে উঠে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকে নজর শুধু
কেবিনের বিছানায় পড়ে থাকা সাদা কাপনের ঢাকায় শীর্ণ দেহটার উপর! পরী প্রজাপতির এই দৃষ্টি লক্ষ করে আর মনে
প্রশ্ন জাগে কি দেখছে প্রজাপতিটা!! আমিও দেখিতো!! বাহির থেকে জানালার কাচ দিয়ে উকি দিতেই পরীর নজরে
পড়ে যে বিছানাটাতে পরী এত্ত দিন শয়ন অবস্থায় ছিলো সেই বিছানাতে কে যেন সাদা কাপনে ঢেকে শুয়ে আছে!!
পুরোপুরি দেখতে তার নিজের মতই লাগছে! রহস্যময় জগৎ থেকে বাস্তবতায় আসতেই পরী নিজ চোখে যা
দেখলো তাতেই পুরো হতবম্ভ! একি পরী যে কেবিনের বাইরে দাড়িয়ে আছে, এইদিকে কোন দরজা নেই সে
বের হলো কি করে!! তাছাড়া তার পায়ের নিচে মাটি নেই কেনো! একি রৌদ্রের আলোতে পরীর দেহ যেন মুক্তার
মতো আলো বিকিরণ করছে! তার পিঠে দুটো ডানাও আছে দেখছে!
রহস্যের জট খুলতে পরী আগের মতো দরজা ছাড়া দেওয়াল ভেদ করে কেবিনে ঢুকে সাদা চাদর সরিয়ে দেখে এ
তো আর কেউই নয় সে দুষ্টবতী পরী! এতক্ষণে বুঝতে পারে পরী নিশ্চই তার দেহ ত্যাগ করেছে!! কিছুক্ষণ
সময় পেরিয়ে যাবার পর দরজা খোলার আওয়াজ হয়! ডাক্তার,নার্স ও দুটো ওয়ার্ড বয় আসে তার নিথর দেহটাকে নেবার
জন্য , লক্ষ করে দরজায় দাড়িয়ে আছে পরীর দেশের রাজা আর রাণী !!আছে সকল রাজপুত্র কিন্তু নেই শুধু
রাজকন্যাটা!! সবারই চোখ নোনা জলে সিক্ত!!
বিছানা থেকে দেহটা তুলে নিয়ে যাবার সময় পরী উচ্চস্বরে বলছে সবাইকে," তোমরা কেউ কেদো না আমি আছি !
কোথাও যাই নি তো! " কেউই শুনছে না পরীর মিষ্টি গলার ফাটানো আওয়াজ!
চোখের নজর থেকে সবাই বিলিন হবার পর পরীর মনে পড়ে কিছুদিনের আগের সেই বন্ধু প্রজাপতিটার কথা! জানালার
বাহিরে গিয়ে হাত মেলে ধরে যদি প্রজাপতির একটু স্পর্শ পায়। একি প্রজাপতির ডানা নড়ছে না কেনো! হঠাৎ দমকা হাওয়ার
ঠেলায় নিথর পাথরের মতো প্রজাপতির দেহটা নিচে পড়ে যায়! বুঝতে বাকি নেই প্রজাপতিও তার জীবনের মায়া ত্যাগ
করেছে!!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৬:৪৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×