somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাব্বির যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিল

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েক ঘন্টা লোকটাকে ফলো করতে করতে এইমাত্র লোকটাকে একটা গলির ভিতর একা পেল সাব্বির।
এই সুযোগ এখনই যা করার করে ফেলতে হবে। রাত সবেমাত্র ৮ টা কিন্তু কেমন যেন থমথমে একটা অবস্থা চারিদিকে বিরোধী দলের ডাকা অবরোধের জন্য। মানুষজন কেউ নেই। এই মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় ছিল সাব্বির। রাস্তা হতে বড় একটা ইট কুড়িয়ে নিয়ে পিছন হতে লোকটার মাথায় সজোরে আঘাত করল। লোকটা শুধু একবার মাগো করে চিৎকার করে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লো। ঝাপসা সোডিয়াম আলোয় লোকটার রক্তাক্ত মাথাটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। চোখে মুখে একটা ভয়। বাঁচার জন্য প্রানপন আকুতি করছে তাঁর দুটি চোখ। ধীরে ধীরে চাঁদরের ভিতর হতে পেট্রোলের বোতলটা বাম হাতে বের করে আনলো আর ডান হাতে ধরল লাইটার।
তারপর ধরিয়ে দিল আগুন তাঁর গায়ে। লোকটা চিৎকার করতে পারছে না শুধু গুন গুন আওয়াজ করছে আর কাঁটা মুরগীর মত তাঁর জলন্ত পুরো শরীর একস্থান হতে আরেকস্থানে গড়াগড়ি করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নিথর হয়ে গেলো দগ্ধ দেহ। পড়ে রইলো শুধু কুন্ডলী পাকানো ছাই। তখনও ধোঁয়া উড়ছিল। সাব্বিরের দুচোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে তখনও কাঁপছে। শীতে নয়... ভয়ে।। সেকি সত্যি কাউকে হত্যা করে ফেললো?

পূর্বকথাঃ অসুস্থ বাবাকে নিয়ে মিরপুর হতে পিজি হাসপাতালে যাচ্ছিল সাব্বির। বাবার বুকের ব্যাথাটা খুব বেড়েছে। সারারাত কষ্ট করার পর সকালে তাকে নিয়ে বাসে করে যাচ্ছিল। খামার বাড়ির দিকে পৌঁছানোর পর বাসের বাম দিকে যেখানে ওর বাবা বসেছিল সেই বরাবর হঠাত গ্লাস ভাংগার শব্দ অতঃপর কি ঘটেছে তাঁর বুঝার আগেই সাব্বির আর তাঁর বাবাকে আগুনের ফুলকি দাউ দাউ করে ঘিরে ধরল। বাসের হেল্পার সাথে সাথে বাসের দরজা খুলে দিয়ে লাফিয়ে পড়ল বাহিরে। ড্রাইভারও বাস থামিয়ে জানালা ডানপাশের জানালা দিয়ে পালিয়ে গেলো। সাব্বির তাঁর বাবাকে বুকে জড়িয়ে চিৎকার করতে করতে কোনভাবে বেরিয়ে এলো বাস হতে। তখনও বাসে অনেক মানুষ। দাউ দাউ করে জ্বলছে বাস। মানুষ বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করছে সেই সাথে শোনা যাচ্ছে নারী পুরুষের আত্মচিৎকার। কি হয়েছিল তা দেখার সময় নেই সাব্বিরের। তাঁর বাবার শরীরের আগুন নিভানোর জন্য চেষ্টা করছে সে। কিন্তু কিভাবে নিভাবে কিছুই হাতের কাছে কিছুই পাচ্ছেনা। তাঁর শরীরে যে আগুন ধরেছে সেদিকে তাঁর খেয়াল নেই। ইতিমধ্যে সাধারন পথচারী মানুষ ছুটে এসেছে। পাশের ফুলের দোকানী পাটের বস্তা আর চায়ের দোকানীরা পানি নিয়ে ছুটে এসেছে। তাঁরা সাব্বির আর তাঁর বাবার আগুন নিভিয়ে ফেলল। বাবা ছেলেই ততক্ষনে অজ্ঞান।
পাঁচদিন পর সাব্বিরের জ্ঞান যখন ফিরল তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার। তাঁর গলা হতে নিচ পর্যন্ত পুরো শরীর ব্যান্ডেজ করা পাশে তাঁর মা কাঁদছে। মায়ের কান্না দেখে সাব্বির কিছুটা আচ করতে পারলো। তাঁর বুক হুহু করে কেঁপে উঠলো। 'বাবা কোথায়' প্রথমেই চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো। ওর মা হাউমাও করে কেঁদে উঠলো। ''তোর বাবা আর নেইরে সাব্বির তোর বাবা আর নেই''। সাব্বিরের বাবা হাসপাতালে আনার সময় মারা গেছে। হাসপাতালের নার্স ডাক্তারসহ সবাই তখন কাঁদছে। এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
সেদিনের সেই অগ্নিকান্ডে মোট ৭ জন নিহত আর ১৫ জন আহত হয়েছিল।

৮ মাস পরঃ সাব্বির তখন পুরোপুরি সুস্থ। কার কাছে সে তাঁর বাবার বিচার চাইবে? তাঁর বাবার প্রকৃত হত্যাকারীতো সেই বিরোধী দলীয় নেত্রী যিনি এই হরতাল অবরোধে তাঁর পালিত কুত্তাদের লেলিয়ে দিয়েছে। তাকে শাস্তি দেওয়ার মত ক্ষমতা তাঁর নেই। কিন্তু সেদিন যে বাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল তাকে বের করা সম্ভব। সাব্বিরের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। সে ফার্মগেট এলাকার বিরোধী দলের ছোট খাট পিকেটার হিসেবে যোগ দিল। একদিন ফার্মগেটের একটা বাসায় দোকানে পিকেটার নেতার সাথে একটা মিটিং এ যোগ দিল সে। এক সময় নেতা তাঁর বাম পাশে নুরু নামের একটা পিকেটারকে বাহবা দিয়ে সবার সামনে তাকে অনুসরন করার কথা বলল। ''এই সেই নুরু যে গতবছর খামার বাড়িতে বাসে আগুন লাগিয়ে ৭ জনরে খাইছে''। তোরা এর মত হইতে পারছ না''? নুরু তখন নতুন বউয়ের মত প্রশংসায় লজ্জায় লাল। সাব্বিরের বুকটা ধক করে উঠলো। এই সেই নুরু যে সেদিন সাব্বিরদের বাসে আগুন লাগিয়েছিল। যার জন্য তাঁর মত অনেকেই সেদিন এতিম হয়েছে। সেদিন হতে সাব্বির নুরুকে মারার প্লান করছিল। আজ তা পুর্ন হয়েছে।
কিন্তু এখানেই থামা নয়। এমনও হাজার হাজার নুরু আছে। তাদের মারতে যাচ্ছে সাব্বির। আপনারা সাথে থাকবেন কেন? আপনার পরিবারের কেউতো মারা যায়নি, হয়নি অগ্নিদগ্ধ। আপনারা থাকুন বা না থাকুন হরতাল অবরোধে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবার তাঁর পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×