somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দিলারা জাহান ব্লগ
একজন মানুষ যদি জানতো তার মৃত্যুর পর কত দ্রুত সবাই তাকে ভুলে যাবে, কারো সন্তুষ্টি অর্জন, দৃষ্টি আকর্ষন কিংবা নৈকট্য অর্জনে সে এভাবে উঠে পড়ে লাগতো না।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে

২১ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জাতি হিসেবে আমরা অনেক গর্ব করি কারন স্বাধীনতা আর ভাষার জন্য আমাদের দেশের নাম সরনাক্ষরে লেখা আছে বিশ্বের কাছে। আর এ স্বাধীন দেশ কে রক্ষা করার জন্য নিয়োগ করা আছে পুলিশ বাহিনী । অথচ হাস্যকর হলে ও সত্য এ পুলিশ বাহিনী পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মহিলা সাংবাদিক কে তার অপরাধ সত্য ঘটনা উন্মচন করা।

রোজিনা একা নন, ঘটনা কেবল আজকের নয়, ঘটনা শুধু ঢাকারও নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখার জন্য সাংবাদিক কাজলকে গুম করে এখনও হয়রানি চলছে, লেখক মুশতাক হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, শিল্পী কিশোর কারাগারে নির্যাতিত হয়েছেন, একই কারণে আটক হয়েছেন দিদারসহ আরও অনেকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী, দখলদার, লুটেরা, ধর্ষকদের হুমকি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলার মুখে আছেন বহু দায়িত্বশীল সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, সংগঠক। সারা দেশ জুড়ে আজ যে প্রতিবাদ ও ধিক্কারের আওয়াজ উঠেছে তার মধ্যেই আছে নিরাপত্তার পরিসর, তাকে শক্তিশালী করার মধ্যে দিয়েই পাওয়া যাবে মত ও সত্য প্রকাশের স্বাধীনতার সন্ধান। যারা অতীত খুঁজতে পছন্দ করে।

যারা প্রশ্ন করছেন রোজিনার আগে আমাদের দেশ সম্পাদক , দৈনিক সম্পাদক নিয়ে প্রতিবাদ হলে আজকে এই অবস্থা হত না। তাদের কথা একদম ঠিক। সঙ্গে যোগ করি:
১. আমরা যদি ব্লগারদের গ্রেপ্তার ও দেশ ছাড়া না করতাম।
২. আমরা যদি তারও আগে তসলিমাকে দেশ ছাড়া না করতাম।
তাহলে আজকের পরিস্থিতি হত না।
আপনার দ্বিমত থাকতে পারে। ভালো লাগতে না পারে। তার প্রতিবাদ লেখা দিয়ে করবেন। মুখ দিয়ে করবেন। তাকে বকাঝকরা করবো। কিন্তু আমার দেশের মেয়েকে দেশ ছাড়া করলাম। তসলিমাকে ভালো লাগুক না লাগুক তার লেখা এখনো দেশ জুড়ে আছে। বেশি বেশি করে আছে। শুধু সে এই দেশে নাই। আমার দেশের মেয়ে অন্যায় করলেও তাকে দেশ পরিত্যাগে বাধ্য করা বা হত্যা করার হুমকি দেওয়ার অধিকার আমার নাই।
তসলিমা সেদিন দেশ ছাড়া না হলে, সেদিন ব্লগারদের গ্রেপ্তার না হলে দৈনিক সংগ্রাম, আমার দেশ, যায় যায় প্রতিদিন বন্ধ হতো না।
তসলিমা দেখলে আপনাদের ইমানি চেতনা জাগে কিন্তু জেনে রাখুন সিলেকটিভ ন্যায় অন্যায়ের কারণেই আজ আমাদের এই পরিনতি। একেকটা ঘটনা ঘটে, আমরা নতুন কইরা বুঝতে পারি কোন কারাগারে আমরা বসবাস করতেছি, কোন যন্ত্রনালয়ে আমরা জিন্দেগী কাটাচ্ছি। রোজিনার সাথে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনার পর লীগাররা দেখলাম 'উপনিবেশিক আইনকানুন' নিয়া কথাবার্তা বলছেন। অবাক হলাম। কিন্তু তারা উপনিবেশিক আইনকানুন নিয়া বললেও তাদের দৌড় আমলাতন্ত্র পর্যন্ত। তাদের দুখ হচ্ছে আমলারা তাদের চাইতে বড়ো আওয়ামীলীগ হয়ে উঠেছেন। তারা বিদ্যমান আওয়ামি রেজিমের টিকে থাকার সাথে এই উপনিবেশিক আইনকানুনের কোনো মিল খুইজ্জা পান না। তদপুরি, তারা যে বুঝতে পারছেন এইসব আইন উপনিবেশিক এবং এই আইন ইউজ কইরাই এই রেজিম সাংবাদিকদের নির্যাতন চালাইতেছে, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কবর রচনা করছে, তাদের বুঝটাকেই আপাতত স্বাগত জানাই।

তো, যা বলছিলাম, এই ঘটনাগুলো আমাদেরকে জানান দেয়, আমাদেরকে একটা বৃহত্তর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবাদ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদেরকে সক্রিয় থাকতে হবে, বিভিন্ন ফরম্যাটে যৌথ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তাই আসুন আমি আপনি সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, অনলাইন এক্টিভিস্ট, ক্যামেরা জার্নালিস্ট ও অধিকারকর্মী, আপনি যে-ই হোন না কেন, আপনি আসুন। দাড়াই। আমাদের বাচার জন্য। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে বাচানোর জন্য। এমন না যে রোজিনাকে মুক্ত করলেই সংবাদমাধ্যম বেচে যাবে, কিন্তু কীভাবে এই নির্জীব অবস্থাকে সজীব করা যায়, তা নিয়ে আলাপটা চালু হোক। মনে রাইখেন, কয়দিন আগে একজন সাংবাদিকের আর্তনাদ শুনেছিলাম। 'আমাকে মাইরেন না, আমি কাউরে কিছু কমুনা'। সেই আক্রমণকারী আছিল 'অজানা'। অবস্থার 'উন্নতি' ঘটেছে। এবার সাংবাদিককে আক্রমণ করা হয়েছে খোদ সচিবালয়ে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, দিনকে দিন পরিস্থিতি খারাপ । আর এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমাদের কেও সুরক্ষিত বাহিনী দিয়ে গেপ্তার করা হবে আজ হয়তো সাংবাদিক রোজিনাকে নিয়ে আমরা লিখতে পারছি কাল আমাদের বেলায় হয়তো গুম করে ফেলা হবে তখন মিডিয়া কেন আপনার কাছের কেউ জানতে পারবেনা। এটাই চরম সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫১
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×