মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছেন তাদের মধ্যে আমার নানাও একজন, যিনি মুক্তিযুদ্ধাদেরহাতে মারা গেছেন । আমার এই নানার মতো, মামার মতো ভদ্রলোক, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত এত পরিপূর্ণ ভদ্রলোক এই জীবনে দেখিনি । আমার নানা একটি আদর্শ নিয়ে বড় হয়েছেন একটি পূর্ণ মুসলিম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন । কারণ বড় হওয়ার সময় এই অঞ্চলের হিন্দুদের দ্বারা প্রচণ্ড নির্যাতিত হয়েছিলেন । কোনো মিষ্টির দোকানে গেলে তাদের প্লেটে করে মিষ্টি দেয়া হতো না । তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন তাদের হাতে দেয়া হতো ।এটা শুধু মুসলমানদের সঙ্গেই না, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গেও করতো এটা ছিল হিন্দুদের কাস সিস্টেম । এসব দেখে দেখে সে সময়ের মুসলমানরা বড় হয়েছেন এবং তাদের মনে হয়েছে একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রয়োজন । অনেক যুদ্ধের পর তারা তা পেয়েছেন যখন তারা দেখলেন চোখের সামনে দিয়ে সেই রাষ্ট্র ভেঙে যাচ্ছে, তখন তারা মনে করেছেন আবার হিন্দু রাজত্ব শুরু হয়ে যাবেতখন পাকিস্তানকে সাপোর্ট করা শুরু করেন কিন্তু পাকিস্তান আর্মির অন্যায়গুলো ক্রমেই চোখে পড়তে থাকে তারা দেখলেন পাকিস্তানি আর্মিরা তো কেবল হিন্দু মারছে না, সমানে মুসলমানদেরও খুন করছেআমার নানা দেখলেন ,তার অতি আদরের বড় মেয়ের পুলিশ অফিসার স্বামীকে (আমার বাবা) বেধে নিয়ে আর্মিরা গুলি করে মেরে মেরে ফেলল । তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন কি হচ্ছে এসব? কোনদিকে যাবেন?তিনি কি পাকিস্তান আর্মির সঙ্গেই থাকবেন , নাকি কমন যে স্রোত আছে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন? এই নিয়ে কনফিউশন তৈরি হলো তার মধ্যে তিনি এই কনফিউশন দূর করতে পারলেন না এক্ষেত্রে তার যেমন দোষ ছিল, আমাদেরও ছিল কারণ আমরা তাদের বোঝাতে পারিনি কনফিউশন দূর করাতে পারিনি । তিনি মারা গেলেন মুক্তিযুদ্ধাদেরহাতে । এখন আমরা তাকে ক্ষমা করব কি করব না সেই প্রশ্ন । শেখ মুজিব সাহেব তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন আমি ক্ষমার পক্ষপাতি”
( ঘরে-বাইরে হুমায়ূন আহমেদ হাজার প্রশ্ন,মাহফুজ আহমেদ , পৃ.৩১-৩২)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



