একটা দলকে সমর্থন করার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে?
---যে বেশি কাপ পায়, তাকেই সমর্থন করা সুবিধাজনক, স্বস্তিদায়ক। তর্কের মিছিলে টিকে থাকা যায়--- গোল হলে আচমকা উন্মাদের মত চিৎকার করা যায়।
শেখ হাসিনাকে যখন প্রশ্ন করা হলো, আপনি কি ব্রাজিলের সমর্থক? উনার সরল উত্তর--
--যে দল জিতবে তাকেই সমর্থন দিবো।
অর্থাৎ সেই কাপ গুণে সমর্থন দেয়ার রীতি-নীতি।
আওয়ামীলীগের গোড়া সমর্থক একজনের কথা ছিল এমন সুবিধাবাদী
--আমি সবসময় দুর্বল দলের সমর্থনে থাকি। কিন্তু আমার প্রথম পছন্দ ব্রাজিল--ব্রাজিলের বিপক্ষে কাউকে সমর্থন করিনা।
ব্যাপারটা চক্ষু লজ্জার।
চোরা তারেক কিংবা দুপুর ১২ টায় ওঠা তারেকে মাতার সমর্থনে বা পক্ষে শিক্ষিত স্বাভাবিক মানুষের প্রকাশ্য সমর্থন দেখা যায়না। কিন্তু হাসিনা বা আওয়ামীলীগের পক্ষে প্রকাশ্যে উদ্ধতভাবেই জনসমর্থন আছে, দেখা যায় অহরহ। এখানে একটা কাপ-- একটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাপার আছে, যেটা সমর্থনের ব্যাপারে সমর্থকদের সাহসী, উগ্র ও সজাগ রাখে।
আর্জেন্টিনা কাপ পায়না, কিংবা জার্মানির কাছে হালি গোল খায় এমন অসংখ্য অপবাদ ২৪ বছর ধরে মুখ বুজে সহ্য করে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কাপ না পাবার আক্ষেপ, ব্রাজিল সমর্থকদের কাপ ভিত্তিক উগ্রতা, টিটকারি উপেক্ষা করেও নিরবে নিভৃতেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
১৯৯৪ সালে রবার্তো ব্যাজ্জিওর ইটালি, ১৯৯৮ সালে জামারানো-সালাসের চিলি, ২০০২ এ কোরিয়া, ২০০৬ এ জিদানের ফ্রান্স, ২০১০ এ মেসির আর্জেন্টিনা এবং ২০১৪ তে আবার চিলির সমর্থন করছি।
সমর্থনের কারণ --একটা দলের প্রতি শুভ কামনা এবং খেলা উপভোগ করা। আমি অবশ্যই চাই "কাপ গুণে" সমর্থন দেয়া সমর্থকদের উগ্রতার পতন। সেটা জার্মানি, হল্যান্ড বা নবাগত যে কারো হাত দিয়ে ঘটলেই খুশি হবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



