তার মানে বলতে চাইছেন পাকিস্তানে কোনো নাস্তিক-নিরীশ্বরবাদী নেই ।অথবা নাস্তিক, নিরীশ্বরবাদীরা কখনোও পাকিস্তানপন্থী হতে পারেনা ? পুরো একটা জাতির ব্যাপারে সরলীকরণ না করেও বলতে পারেন পাকস্তানি মুসলিমরা খারাপ, হিন্দু-খ্রিস্টান-শিখরা সে অর্থ খারাপ নয়। পাকিস্তানের হিন্দুরা কি তাদের দেশকে ভালোবাসে? বাসতে পারে?
বাংলাদেশের একজন ধর্মভীরু এবং পাকিস্তানি একজন ধর্মভীরুর মাঝে বিরাট তফাৎ আছে। সঠিক করে বলতে পাকিস্তানে কোন ধর্মভীরু নেই, যারা আছে সবাই ধর্মান্ধ । আরো পরিস্কার করে বলতে পাকিস্তানিরা ধর্মকে অন্ধের মতই পালন করে। বাংলাদেশের মানুষ সেইভাবে অন্ধ নয় বলেই তারা সভ্য, শান্তিপূর্ণ ।
সমস্যাটা হয়েছে ধর্মে এবং তার ভুল ব্যবহারে। স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার মদপান, বহুগমন, ব্যভিচার কিংবা পাকিস্তানিদের জনক জিন্নাহর কথিত শুয়োরের মাংস ভক্ষণের পরেও পাকিস্তানিরা ধর্মান্ধ, জঙ্গি, এবং উগ্র-মৌলবাদী। শুয়োর খেকো, মদ্যপ-ব্যভিচারী শাসক ও তার সেনাবাহিনী পবিত্র ধর্মের নামে ধর্ষণ-গণহত্যা করেছিল । এর জন্য দায়ী মদ-শুয়োর ভক্ষণ না ধর্ম? না দুটোই?
মদ-শুয়োর-ব্যভিচার ভিত্তিক ধর্মীয় উগ্রতা বা জঙ্গিবাদের বিপরীতে উদার-প্রগতিশীল-ধর্মনিরপেক্ষ ধর্ম পালনের ভিত্তি থেকে ৯ মাস যুদ্ধ হয়। ফয়সালা হয় রাষ্ট্র সব ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হবে, কিন্তু কোন ধর্মকে ধারণ করবেনা। রাষ্ট্রযন্ত্রে ধর্ম চেপে বসলে সেটা ভিন্ন ধর্মের জন্যই নিপীড়ণমূলক শুধু নয়, সেটা শাসকদের মদ-শুয়োর-ব্যভিচার প্রবণ করে তুলতে পারে। ধর্মের কুপ্রভাবটা এমনি। অথবা সব কিছু ছাপিয়ে গ্রহণযোগ্য ফতোয়া দেয়া যায় যে তালেবানরা কাফের কারণ তারা শিশু বলাৎকার করে এবং পপি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
আমেরিক্যান ছেলেটি যখন বাংলাদেশি ছাত্রটিকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কারণ জানতে চাইলো, তার উত্তর ছিল --ধর্ম। এর কারণ হতে পারে ১৯৭১ এর শত্রু হিসেবে দাড়ি-টুপিওয়ালা ধর্ষক-খুনিদের যত চিনেছি, তার বিপরীতে মদ্যপ-ব্যভিচারি ইয়াহিয়া খানের জাতীয়তাবাদকে সেভাবে পাঠ করার সুযোগ হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

