somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ষাকালে নাফাখুম ভ্রমন- তৃতীয় পর্ব (শেষ)

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩/০৮/১৩
পরিকল্পনা মাফিক সকাল ৮:৩০ এ বেরিয়ে পড়লাম। কিছু দূর যাবার পর পড়ল পেনাডং পাড়া। ওখান দিয়ে নেমে গেলাম রেমাক্রি খাল এ। এর ধার দিয়ে হাটা শুরু করলাম। গাইড এর পরামর্শ মতো এক জায়গাতে এসে খালটা পার হতে গেলাম। আমাদের একজন ছিল ওভার স্মার্ট, সবার আগে পার হতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন। গাইড সাঁতরে তাকে ধরেন।




ছবিঃ নাফাখুম যাবার পথ।

এর পর আবার হন্টন । ২-৩ বার খালের এইপার ঐপার করে পৌঁছে গেলাম কাঙ্ক্ষিত নাফাখুম।



এই ট্র্যাকটা অনেক সহজ, যারা পাহাড়ে ঘুরাঘুরি করেন তারা তেমন ক্লান্ত হবেন না। খুবই সুন্দর লাগলো । বর্ষাকাল বলে অনেক পানি। এত ঝক্কি ঝামেলা, কষ্ট মনে হল সার্থক হয়েছে। গাইড নাফাখুম এর নিচে এইপাড় ঐ পাড় এ মোটা দড়ি বেঁধে দেয়াতে ঐ পাড়ে যাইতে পারলাম। ঝরনা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হল। পিয়াস তার ভারি সরির নিয়া, সাঁতার না জেনে, দড়ি ধরে যেভাবে পার হল। সত্যিই অবাক হইছিলাম। প্রথমে জঙ্গি পার হতে চায় নি, কিন্তু আমাদের দুইজন কে ঐ পাড়ে দেখে আর থাকতে পারনি। গেঞ্জি খুলে, দড়ি ধরে চলে এলো।


ছবিঃ জঙ্গি (সালেহ জাহাঙ্গীর) এর উল্লাস।

রাতে বারবিকিউ হবে, তাই মুরগী কিনতে আমি আর মং হাই সেং গেলাম উপরে দিকের উহ্লাচিং পাড়াতে। এই পাড়াতে ১৫ টার মতো ঘর আসে। দেখলাম এখানে EU আর Danida এর অর্থায়নে UNDP প্রজেক্ট এ কৃষকদের জন্য মাঠ স্কুল আছে। মানুষের মতো মুরগীর ঘর গুলো ও মাচার উপর। মং এর হাতে পানির বোতল দেখে সবাই মারমা ভাষাতে কি জানি জিজ্ঞাসা করতে লাগলো। বুঝি না। পরে মং বলল আমি মদ কিনব কিনা জিজ্ঞাসা করছিল। কেউ মুরগী বিক্রি করতে চাইছিলনা। একটা ঘরে শেষে রাজি হল কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দিতে হবে। ২ টা কিনলাম। সমস্যা হল পাড়াটাতে যেতে খাল পার হতে হই যেখানে বুক সমান পানি। মুরগী কিনে আসার সময় উশটা খেয়ে বুড়া আঙ্গুলের চামড়া ছিঁড়ে যায়।
ঝরনার পাড়ে আসে দেখি আরও ২-৩ গ্রুপ এসে গেছে, কেউ আবার গান ও গাইছে। ভালো তো ভালো না। ঝরনার সাথে গান ফ্রী। আবাক হবার ব্যাপার হইতাসে ৩-৪ নারী ও এই বর্ষাকালে নাফাখুম দেখতে চলে এসেছেন। ভেবেছিলাম আমাদের অনেক তেল। বুজলাম তেল ওয়ালা মানুষের অভাব নাই।
ঝরনার উপরের খালে গোসল সেরে আবার রওনা দিলাম একই পথে। মুরগী নিয়া ফিরতে একটু ঝামেলাই হল। পথে একটা মুরগীকে অসুস্থ মনে হল, তাই আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে জবেহ করে দিলাম। এই অভিজ্ঞতা আর হয় নি। ফিরতে ফিরতে ৫ টা বাজল। গপাগপ করে অনেক ভাত খেলাম, ডাল, ভাত, ডিম, ভর্তা যে অনেক মজার খাবার তা আবার বুজলাম। সন্ধ্যার পর বারবিকিউ এর আয়োজন। আমাদের জঙ্গির এই ক্ষেত্রে লিডার। এক হাতে ই সব সামলাল। আমি আর পিয়াস কিছু সাহায্য করলাম। জাকির ভাই কিছু টা সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। জাকির ভাই কিন্তু চশমাটা আর একবার হারাইছিলেন। রাত ১২ খাওয়া শেষে আবার ঘুম।
১৩/০৮/১৩
সকাল ৮:৩০ টায় নৌকা ছাড়ার কথা। কিন্তু তুমুল বৃষ্টি শুরু হওয়াতে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলাম কমার জন্য। একটু ধরে আসলে ৯:৩০ তে ফিরতি যাত্রা শুরু করলাম। সাঙ্গুর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়াতে রেমাক্রিখুম ভালো লাগছিল না। অন্য ট্রাভেলারদের ছবি দেখেছিলাম, তখন অনেক সুন্দর ছিল। রাজা পাথর এলাকা যখন পার হচ্ছি তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি। বড় বড় কয়েকটা পাথর দেখা যাচ্ছিল। বৃষ্টির জন্য এই জায়গার কোনও ছবি আমরা তুলতে পারিনি। পথে তিন্দু তে ৩০ মিনিট বিশ্রাম।


ছবিঃ যখন তিন্দুকে বিদায় দিচ্ছি।

ব্লগার দুখি মানব এর কল্যাণে তিন্দু খুব বিখ্যাত হইয়া পড়েছে। ভালো ই লাগলো। তবে দুখি মানব যখন গিয়াছেন তখন মনে হয় আরও সুন্দর ছিল। বেশি টুরিস্ট আসাতে এইটা এখন বাণিজ্য/রেস্ট গ্রাম হয়ে পড়েছে মনে হয়। এরচে নাফাখুম এর উপরের দিকের উহ্লাচিং পাড়াটা বেশি সুন্দর মনে হয়েছে। সাঙ্গুর তীব্র স্রোতে ভাটিতে যাবার সময়ও থ্রিল। ১১:৩০ এ পৌঁছে গেলাম থানছি। ১২ টায় বান্দরবন এর বাস। এইদিকে কোন হরতাল নাই। থানছি- বান্দরবন জার্নিটা এবার আরও দুর্দান্ত। কারন মেঘের মধ্য দিয়ে বাস চলেছে। মেঘ গুলো এমন ভাবে পাহাড় গুলকে পেঁচিয়ে ধরেছে যেন সাদা তুলা দিয়ে মুড়ানো ...। উপমা আর খুঁজে পাই না।


ছবিঃ মেঘ সব সময় মাথার উপর থাকে না!!!

চিম্বুক পর্যন্ত সর্বদা মেঘের উপরে ই ছিলাম। বান্দরবন পৌছা লাম ৪:৩০ এ। ঢাকা বা চট্টগ্রাম এর কোন গাড়ি নাই। আমরা ৩ জন হোটেল জামান এ গেলাম। আমি আর জঙ্গি ২ জনে ৩ জনের ভাত খেয়ে ফেললাম। গরুর মাংস আর ইলিশ এত ভালো হয়েছে যে না খেয়ে উপাই নাই। সন্ধ্যার পর বান্দরবন থেকে কেরানি হাট একটা বাস এ। কেরানি হাট থেকে কর্ণফুলী ব্রিজ মাইক্রোতে। তারপর CNG তে বাসাতে চলে এলাম।
আমাদের ৩ জনের গড়ে ৩৬০০ টাকা খরচ হয়েছে এই ট্যুর এ। ৭ জনের গ্রুপ না হলে আরও খরচ বাড়ত। সবচেয়ে ভালো গ্রুপ ৬ জনের। গাইড এর সাথে দরাদরিটা ভালো ভাবে করতে হবে বর্ষাকালে না যাওয়াই ভালো। কিছু দরকারি মোবাইল নম্বরঃ উ সেং নু ( মং হাই সেং এর ভাই) : ০১৫৫৯২৮৯৬৩৫ , অং থোই চিং ( যার ঘরে ছিলাম) : ০১৫৫৪৫৫৬৩৫৭, উ চো মং (মারমা নৌকা চালক) : ০১৫৫৭১৯৬৪৫২। যারা ওইদিকে যাবেন এক সপ্তাহ আগে যোগাযোগ করুন কারন পাহাড়ে অনেক সময় নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বাঙালি গাইড পরিহার করতে চেষ্টা করুন। মামুন, আবুল হোসেন খুব পরিচিত বাঙালি গাইড। শুধু নাফাখুম পর্যন্ত যেতে বাঙালি গাইড আপনার কাছে ১৭০০ টাকা দাবি করবে আর পাহাড়িরা ৫০০ টাকা। অনেক সময় দেখা যায় বাঙালি গাইড ছাড়া নৌকা ভাড়া পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে উ চো মং কে ফোন করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা, হুটহাট ছবি তুলবেননা। বিস্কুট, চিপস এর প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না।


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৮:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খরচ

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯


কোন কোন রাত্রি শেষের বেগুনী আলোয়
বাতাস যখন রতিতৃপ্ত দৃষ্টির মত কোমল-
উন্মোচনের আগ্রহে উদগ্রীব আলো
কী এক দ্বিধায় থমকে আছে পুবের দরজায়,
হঠাৎ যেন কেউ মাছের মত
ছেকে তোলে জালে।
লাগায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×