রাশান সাহিত্যের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। রাশান কথাসাহিত্যের অর্জন এেেত্র অনন্য। আর উপন্যাসের েেত্র সম্ভবত: রাশান উপন্যাস বিশ্বে নেতৃত্ব দেবার অবস্থানে রয়েছে। গোগোল, তলস্তয়, ডস্টয়ভস্কি, চেখভ, পুসকিন, গোর্কি _ তাঁরা শুধু রাশান সাহিত্যে নয়, বিশ্ব সাহিত্যের এক একজন স্তম্ভ স্বরূপ। রাশান সাহিত্যের উপন্যাসের বড় দিক হলো অস্তিত্বসংলগ্নতা। ফলত: উপন্যাসে সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মানসের চমৎকার মিথস্ক্রিয়া উপস্থাপিত হয়েছে। রাশিয়াকে চিনতে তাই ইতিহাস, নৃ-বিজ্ঞান কিংবা সমাজতত্ত্বের পাতায় চোখ না বুলালেও হয়, উপন্যাস-ই বলে দেয় সবকিছু। গোগোলের 'তারাশ-বুলভা'য় আমরা যেমন পেয়ে যাই কশাক চরিত্রের চিত্রায়ন, তলস্তয়ের আন্না কারেনিনা'তে পেয়ে যাই বিপ্লবপূর্ব জার শাষনাধীন তৎকালীন সামাজিক ভাঙচূড় বিশেষত অভিজাত গোষ্ঠীর অবয়ের মাত্রাটি। আর ম্যাঙ্মি গোর্কীর মা'তো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রস্তুতিপর্বটি অসাধারণভাবে উপস্থাপন করেছে। এইসব স্মরণীয় অর্জনের পাশে দাঁড় করানো যেতে পারে বিপ্লবোত্তর আরেক সৃষ্টি 'গোত্রান্তর', লেখক ব্রুনো ইয়াসেনস্কি। বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত রাশিয়ার নির্মান পর্বের অনন্য সাধারণ দলিল এই "গোত্রান্তর" উপন্যাসের লেখক "ব্রুনো ইয়াসেনস্কি রাশান নন, ফরাসী। সোভিয়েত ইউনিয়ন তাঁর দ্বিতীয় স্বদেশ। ব্রুনো ইয়াসেনস্কি কৈশোরের রাঙা দিনগুলো স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হয়নি, বরং তাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, স্থবিরতা তাঁর কৈশোরের দিনগুলো গিলে খায়। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে ব্রুনো ইয়াসেনস্কি সৃষ্টির উদ্দীপনায় জগৎকে নতুনভাবে গড়ার স্বপ্ন লালন করতে থাকেন। তাঁর এই উদ্দীপনা শুধু ব্যক্তিকে কিংবা স্বদেশকেন্দ্রীক ছিল না, তা নতুন জগৎসৃষ্টির প্রেরণায় রূপন্তরিত হয়। তাঁর এই প্রেরণা রূপায়নের েেত্র সমাজতান্ত্রিক মতবাদের সাথে ঘনিষ্টতা আবিস্কার করেন এবং সে ভাবেই প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু তাঁর এই প্রস্তুতি ফরাসী কর্তৃপরে কাছে বিপদজনক বলেই প্রমানিত হয়, ফলে সামাজিক কার্যকলাপের জন্য তাকে ফ্রান্স থেকে বহিস্কৃত হতে হয়। তখন 1929 সালে মস্কোয় চলে আসেন নবীন সাহিত্যিক ব্রুনো ইয়াসেনস্কি। জাতিতে পোলীয় ব্রুনো ইয়াসেনস্কিকে সব্যসাচী লেখকই বলা যায়। একাধারে কবিতা লেখেন, নাটক লেখেন এবং উপন্যাসও লেখেন। বহুভাষা আয়ত্তের েেত্রও ছিল তার অসাধারণ পারঙ্গমতা। নিজের মাতৃভাষা পোলিশে রচনা করেন তারুণ্য দীপ্ত বিদ্রোহী কবিতা, লেখেন "ইয়াকুব শেলের কথা" নামক বিখ্যাত একটি কাব্য। ফরাশীতে লেখেন প্রচারাত্মক উপন্যাস 'প্যারিস পোড়াই'। রুশ ভাষায় লেখেন। 'গোত্রান্তর' এবং "নির্বিকারদের চক্রান্ত" উপন্যাস।
'গোত্রান্তর' ব্রুনো ইয়াসেনস্কি'র শ্রেষ্ঠ রচনা। উপন্যাসটি রাশান উপন্যাস ঐতিহ্যের একটি ধারাবাহিক অর্জন বলা যেতে পারে। রাশান উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রিক সচেতনতা'র যে পরিচয় দিয়েছে গোত্রান্তরে আমরা তার রেশ পাই। তবে এখানে প্রোপট ভিন্ন। গোত্রান্তর উপন্যাসটি লেখা হয় 1932-33 সালে, তাজিকিস্তানে লেখকের ব্যক্তিগত পর্যবেনের ভিত্তিতে। বিপ্লবোত্তর সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মান কর্মের ধূম পড়ে যায়। পুঁজিবাদী উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করে তারা দ্রুত অগ্রসর হতে চায়। ফলে বিশাল নির্মানযজ্ঞের আয়োজন চলে। এরই অংশ হিসেবে তিরিশের দশকে তাজিকিস্তানে ভাখশ নদীর বাঁধ নির্মান কর্ম চলে। "গোত্রান্তর" উপন্যাসে এই বৃহৎ নির্মানকর্ম বুদ্দিদীপ্ত প্রামানিকতায়, আবেগ ঢেলে চিত্রায়িত হয়েছে। (অংশবিশেষ)
পর্ব, 1ম বর্ষ দ্্বিতীয় সংখ্যা হতে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




