21শে ফেব্রয়ারীর গল্প করতে করতে কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন বাবা, আমি নিরবতা ভেঙে প্রশ্ন করলাম_আর কিছু বলবেন বাবা?
বাবা মাথা নেড়ে বললেন_হঁ্যা, বলব।
_ বলেন ...
'আমি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তোমার বড় দুইবোন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। এইবার তোমারে একটা কাজ দেই... তুমি আমার সমস্ত নাতি-নাতনীদের শুধু আমার একটা কথা জানিয়ে দেবে।'
_ কী কথা বাবা ?
_"ওদের বলবা এর পরের আন্দোলনটা তোমাদের হাতে। বাঙলা শুধু রাষ্ট্রভাষা হয়ে থাকলেই চলবে না, এ ভাষার উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করার আছে। একটা দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতাই শেষ কথা নয়, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে চাই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা। আর সব স্বাধীনতার মূল হলো তার ভাষিক স্বাধীনতা।"
আমি আমার বাবার পায়ের ধুলো নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম সেদিন। আমি তখন একজন এন.জি.ও.কর্মী হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম বাংলাদেশ ও ভারতের দরিদ্রতম এলাকা, গ্রাম আর শহরের বস্তিগুলোতে। সেখানে অগণিত শিশুদের কাছে। কাজের অবসরে যতোটা পেরেছি তাদের কাছে এই নিভৃতচারী ভাষা সৈনিকের আবেদনটুকু পেঁৗছে দিয়েছি । এই ফেব্রয়ারীতে আমি বসবাস করছি যুক্তরাষ্ট্রে। আমি জানি না কতোটা পারবো, তবু চেষ্টা করে যাবো যুক্তরাষ্ট্র্রসহ অন্যান্য দেশে অভিবাসী বাঙ্গালী পরিবার উদ্ভুত শিশুদের কাছে তাদেরও পরিবারের কাছে নিভৃতচারী এই ভাষাসৈনিকের কথাটুকু পৌঁছে দেবার জন্য, এবারের এই 21শে ফেব্রুয়ারীতে।
সেলিনা শিরীন শিকদার, বোস্টন, ইউ.এস.এ।
পুরো লেখাটি শীঘ্রই দৈনিক যুগান্তর সাহিত্য সাময়িকীতে ছাপা হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




