_ একটা ফুল এনে দাও না?
_ এত সুন্দর ফুল ছিঢ়ব।
_ আহারে আমার পরিবেশবাদী... যাও একটা মাত্র, ঐ যে বড় হলুদটা।
_ আমি ফুল ছিড়তে পারি না।
_ কেন?
_ এত্ত সুন্দর একটা জিনিস...
_ এই সুন্দর জিনিসটা আমার খোঁপায় পড়লে আরও সুন্দও লাগবে, ফুলের জন্ম স্বার্থক হবে।
দীপু উঠে দাঁড়ায়, অনিচ্ছা সত্ত্বেও যায়। একটু পর হাতে ফুচকা নিয়ে ফিরে আসে। টুনির সামনে অপরাধীর মত দাঁড়িয়ে থাকে। টুনি ওকে বসতে বলে, ফুচকার প্লেট হাতে নেয়।
_ আচ্ছা দীপু, এই সাত বছরে কয়টা প্রেম করেছ?
দীপু কিছু বলে না। ফুচকা খায়।
_ বল না! এখন তো আর আমাদের সমস্যা নেই, ফ্রেণ্ডলি বল।
_ টুনি আজও আমি তোমাকে আগের মত ভালবাসি।
_ হঁ্যা, তার নমুনা ত দেখলাম।
টুনি ওঠে গিয়ে একটা গেন্ধা ফুল ছিড়ে আনে। দীপুর হাতে দিয়ে বলে: খোঁপায় পড়িয়ে দাও।
দীপু অনভ্যস্ত হাতে গুজতে থাকে। তারপর একটা ফুচকা মুখে পুরে। সেদিকে তাকিয়ে টুনি ভ্রু কুচকায়।
_ এখন আমাকে একটু দেখ, ফুলে কেমন লাগছে।
দীপু চোখ তুলে তাকায়। টুনির মডেলিং ভঙ্গিমায় হেসে ফেলে।
_ হাসির কী হল?
_ খুশিতে হাসছি, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
_ থ্যাংকস, তাহলে বুঝতে পারছ, ফুল ছেড়া অসুন্দর নয়?
_ হ্যা, তবে যদি তার উপযুক্ত ব্যবহার হয়।
টুনি মাথা নাড়ায়। কেমন বাচ্চা বাচ্চা। দীপু ওর স্বভাবের কোন পরিবর্তন দেখে না। ওদের মধ্যেকার টান আগের মতই আছে। ঝগড়া, খুনসুটি তেমনই। তবু্র মাঝখানে বিশাল ব্যবধান। টুনির স্বামী আছে, টুনির সন্তান আছে।
_ তোমার ছেলের নাম কী?
_ ডিনো।
_ ডিনো, মানে ডাইনোসর?
_ এত কিছু ভাবিনি, তোমার নামের কাছাকাছি।
দীপু আর প্রশ্ন করতে পারে না। টুনির চোখে যেন পানি জমছে। ছল ছল।
_ ছেলের বয়স কত?
_ পাঁচ।
_ অনেক বড় হয়ে গেছে।
_ যা সুন্দও ছবি আঁকে, আর কত অদ্ভুত অদ্ভুত প্রশ্ন করে।
ছেলের ব্যাপারে টুনির মুখে খই-ফোটা প্রশংসা। অল্পণের মধ্যেই ডিনো'র চেহারা সুরত চরিত্রের যে বর্ণনা দিল, দীপুর কল্পনায় তার ছবি অংকিত হয়ে গেল। ওর স্বামী নম্পর্কে কোন প্রশ্ন করতে পারল না। স্বামী কী ওকে খুব আদর করে? করেই তো, তা না হলে এমন ফুর ফুরে চেহারা! ভাবে, সেকি পারতো ওকে সুখী করতে। বরং নিজের সাথে জড়িয়ে ওর জীবনটা নষ্ট করে দিত। ভালই হয়েছে।
_ তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলে কেন?
_ আমি তোমাকে তাড়িয়ে দিয়েছি। দীপু অবাক হয়। হাসেও।
_ হঁ্যা, হঠাৎ কওে তুমি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করলে, এড়িয়ে চলতে শুরু করলে।
_ তোমাকে নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠছিলাম। মনে হত বেশী কিছু পেয়ে গেছি। আমি যার যোগ্য নই। ভার বহন করতে পারছিলাম না।
_ অখাদ্য মনে হচ্ছিল তাই না?
_ আমাদেও নিয়তিউ ছিল এরকম। দোষারপের কিছু নেই।
তারা দুজন চুপ করে থাকে। পাখির কিচির মিচির শুরু হয়েছে। মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। প্রকৃতি ফ্যাকাশে হয়ে আসছে। সূর্যটা লাল হয়ে পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। পানিতে তার পতিচ্ছবি পড়ে, তরঙ্গের সাথে ওঠানামা করছে। যেন তাদেও হৃদপিণ্ড উঠানামা করছে।
_ আমাদের বিয়ে করা উচিত ছিল।
টুনির চোখ মুখ ভার। চোখের কাজল ভিজছে। কণ্ঠে অভিমান।
_ দীপু, তোমার জন্য আমাদের বিয়েটা হয়নি। আমাদের বিয়ে করা উচিত ছিল।
_ যদি বলি তোমার জন্য হয় নি?
_ না, তোমার জন্য হয়নি। তুমি আমাকে কুকুরের মত তাড়িয়ে দিয়েছিলে।
_ টুনি, প্লিজ লক্ষ্মী মেয়ে, চুপ কর।
দীপু রুমাল দিয়ে টুনির চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।
_ কত আর চোখের জল মুছবে? আমি কত কেঁদেছি। একা একা নিভৃত ক।ে কষনও বাথরুমে. হঠাৎ চলার পথে কান্না চলে আসে।
দীপু ওর হাত ধরে। বসা থেকে ওাায়। তারপর সাঁকো পেরিয়ে, লেকের কিনার ধরে হাঁটে। হাতে হাত দুলিয়ে। সন্ধ্যা নামছে। কিচিরমিচির শব্দ বাড়ছে। মানুষেরা চলে যাচ্ছে।
ওরা পাশাপাশি দাঁড়ায়। মুখোমুখি। টুনি দীপুর ডানহাতের কণিষ্ঠ আঙ্গুল ধরে, ঝাকুনি দিয়ে জানতে চায়: ভালবাস?
দীপু. ওর হাতটি নিশ্চিন্তে সঁপে দিয়ে বলে: ভালবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




