নিয়নবাতির মরা আলো। এলোমেলো কিছু মানুষ, আকাশে কয়েকটা তারা, আর ব্যস্ততাহীন পিচের রাস্তায় দ্রুত চলমান, প্রায় ফাঁকা পাবলিক বাস, জানালার পাশে বসে নারী-পুরুষ সম্পর্কিত এলোমেলো চিন্তা... এ যেন এক মেঘের খেলা_ ভাঙে, গড়ে, জোড়া লাগে। অথচ আমরা বহে চলেছি সমান্তরাল রেল-লাইনের মতো... আমরা পরস্পরকে দেখছি, উপভোগ করছি, অনুভব করছি। অথচ কাছে আসতে পারছি না, দূরে সরে থাকতে পারছি না। স্পর্শহীন শব্দহীনতায় এই এক আশ্চর্য সম্পর্ক। আমরা এই সম্পর্ক মেনে নেই...কখনো সুখী হই, কখনোবা যন্ত্রণায় জ্বলি। জ্বলতে জ্বলতে দেখি আমরা কতটা পুড়েছি, হিরের টুকরার মত চকচক করছি কিনা। কিংবা ধারালো হীরের আঁচড়ে কতটুকু রক্তাক্ত হতে পেরেছি। রক্তরণে অবগাহন করেই আমরা তৃপ্ত। দ্রুত ধাবমান গাড়ি। বাতাসের শীতল ঝাপটা। তুলোধুনো মন। বিপ্তি ভাবনা। তোমাকে নিয়ে দৌড়াচ্ছি। নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে আমাদের পথচলা। আমার হাতে রজনীগন্ধা, তোমার হাতে গোলাপ। আমরা হাসছি, কথা বলছি, অথচ হাতে হাত রাখতে পারছি না। আমরা সমুদ্র পাড় ধরে হাঁটছি, পাহাড় পাড়ি দিচ্ছি, পাড় হচ্ছি বিস্তীর্ণ সমভূমি। সময় হাঁটছে, চলে যাচ্ছে দিন, মাস হয়ত বছর অথচ আমাদের সমান্তরাল পথ চলা... নাত্রিক আকাশের নিচে নিঃশব্দ আলোড়ন বিলোড়ন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



