4.
রাত দশটার দিকে আমাদের টেঙ্ িচলল... যখন কাজি অফিসের দরজায় থামলাম, আমি থমকে দাঁড়ালাম, কেন আমি থমকে দাঁড়ালাম? তখন তোমার ছবি ভেসে এল, বছরের পর বছর চলে গেল, হায় প্রজাপতি আমাদের পথচলা রয়ে গেল সমান্তরাল, অথচ মাসখানেকের পরিচয়ে কবি শরিফ হোসেন নুসরাতের স্বাামী আর কবি আশরাফ কবির, যে বিবাহকে তুলনা করত কুটির শিল্পের সাথে, একটু পরেই সে দায়িত্ববান পুরুষ হতে চলেছে, আর আমি... আমরা কবে কাজি অফিসের গেট পাড় হব, কবে...
5.
আকাশি আমি আপনার চোখে অনেক মেঘ দেখেছি। মেঘের রং কালো, আপনার চোখের রং নীল, নীল রং আমার প্রিয়। কেননা প্রতি মুহূর্তে আমি কষ্টের চ্াষ করি। আমার জমিতে অনেক কষ্টের ফসল ফলে।
আমি এক কষ্ট পালক।
আপনিও কি কষ্ট পালেন ?
নিশ্চয়ই পালেন। আপনার সমস্ত অবয়বে আমি শুধু নীল দেখি। অবিরত নীল জলধারা প্রবাহিত হচ্ছে। সে নীলে আকাশে মেঘ হয়, নেমে আসে বৃষ্টি হয়ে। আপনার চোখ থেকে এত বৃষ্টি ঝড়ে... আমি ভিজে যাই, ভিজে ভিজে শীতঘুমে ভুলে যাই সব কিছু। ঘুম ভাঙে, ভুলে যাই আবার।
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের পেছনে প্রথম পরিচয়। না, ভুল হয়ে গেল, তারও আগে আমাদের নিয়মের পরিচয়। আপনি কবিতা লিখেন এইভাবেই চিনলাম, তারপর ধুলোর আস্তরণ। বিস্মৃত হলাম, কত মানুষই তো কবিতা লিখে ! কিন্তু ভুলে থাকা গেল না। আপনার কবিতা নীল প্রজাপতি হয়ে মনের গহীনে কড়ানড়া শুরু করল। কবিতা জমাট বাঁধা বরফ গলাতে লাগল, স্মৃতিরা পত্রপল্লব ডাল বিকশিত হয়ে কল্পনার মহীরুহে পরিণত হল। আর তখন কি-বা করার থাকে, যখন সব পাখি উড়ে যায়, স্মৃতি তো আর উড়ে যায় না।
এখন মধ্যরাত, সবাই ঘুমাচ্ছে, তুমি ঘুমাচ্ছ, এই শহর ঘুমাচ্ছে, জেগে আছে একজন ইউক্যালিপটাস। মধ্যরাতের নিঃস্তব্দতায় আশা জাগে, প্রজাপতি, তুমি যদি আমার ডালে এসে একটু বসতে ! কাক ডাকছে, ফ্যানের বিরক্তিকর শব্দ, ঘরে 100 ওয়াটের বাল্ব। মধ্যরাতে কাকের ডাকে অসহায় আকুতি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাস অসহায়ভাবে আমার ওপর ঝাপটে পড়ে, আমি শীতল কাঁপুনিতে বিহ্বল হয়ে পড়ি। আমার পাশে শুয়ে আছে বইপত্র। মশারির ধার ঘেষে মশা ভন ভন করছে আর আমি একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করছি, তোমার সাথে কতদিন কবিতা কবিতা খেলা হয় না! অতঃপর কবিতার খসড়া:
হে আমার প্রজাপতি, আমি তোমাকে নিয়ে আকাশে উড়ি।
যেমন চাঁদের শুভ্রতা বালির উপর এবং সমুদ্রে ভাসমান ফেনা
আমি কল্পনার পাখা মেলি, রাখি তোমার হাতে আমার হাত
এবং অনুভব করি, তোমার হৃদয় আমায় ঘিরে, আমাকে ভাবে
হে আমার প্রজাপতি, পৃথিবী কখনো ুদ্র, কখনোবা বিশাল
এবং আমি আশ্চর্য হই আমাদের নিঃসঙ্গ শীতলতায়_
তুমি এমন একজনকে ভাব যে তোমার হৃদয়ের কাছে
কিন্তু দৃষ্টি থেকে শত আলোকবর্ষ দূরে
এবং আমি আমার সব ভাবনা জড়ো করি
আমার ভাবনাগুলো দ্রুতগামী ঘোড়া
অথচ তোমাকে ছুঁুতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



