7.
আকাশি আমাদের সে-ই নির্জন নিঃশব্দ দুপুরে কিছু ফড়িং উড়েছিল ঘাসের ডগায়, দোয়েল অদ্ভুত চাহনিতে আমাদের দেখেছিল আর টবে সাজানো ফুলগাছের ডালে টুনটুনি ছটফট করেছিল। আমরা এই সব দেখেছিলাম কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলাম না কিংবা হয়তো করেছিলাম, কিন্তু প্রকাশ করছিলাম না। অথচ আমরাই অদূরে দাঁড়কাকের তাড়স্বরে সচকিত হয়ে ওঠি, তারপর চাহনি বিনিময় করে লজ্জা অনুভব করি।
তারপর আমাদের মধ্যে কি যেন হয়ে যায়, আমরা এতণ কথা না বলেও ছিলাম মুখর, স্বতঃস্ফূর্ত, ভাবনাকাতর। কিন্তু যখন আমরা বুঝলাম আমরা নির্জন নৈঃসঙ্গতার গহ্বরে অবস্থান করছি, তখন শীতল বাতাসের ঝাপটা আমাদের শরীরে শীতল কাঁপন তোলে, আমার মন তরল হতে থাকে, ইচ্ছা করে তোমাকে জাপটে ধরে বুকে নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদি, চোখের জলে তোমার নীল শরীর ভিজিয়ে দেই, হয়তো তোমারও এমন ভাবনা ছিল। অথচ কিছুই হল না। কল্পনাও না। অথচ আমি সব সময় গর্ববোধ করি- মহাসাগর পাড়ি দিতে কিংবা সাহারার উষ্ণতা অথবা সাহারার শীতলতা ডিঙ্গাবার মতা আমার আছে, অথচ দুই ইঞ্চি দূরত্ব পাড়ি দেবার মতা আমার হল না।
আকাশি এত কাছে, অথচ এত দূরে ... আমি হাঁটছি, হাঁটছি... আকাশ ধরতে পারি না, আকাশির স্পর্শে আমি নীল হতে পারি না। আমি সামুদ্রিক নীল হয়ে আকাশ দেখি আর আকাশি সমুদ্রমুখি হয়ে তার কায়ার ছায়ায় আমার শরীরে মরিচিকা তৈরি করি। এই এক অদ্ভুত সম্পর্ক, আকাশি যখন প্রজাপতি হয়, তখনও নিয়ম বদলায় না।
অতঃপর আকাশি উঠে দাঁড়ায়, আমি চোখ বুজি। অনুভব করি তার দীর্ঘশ্বাস, আমার দিকে বিস্ফোরিত চোখ, চোখে পানির টলমল, তারপর আবার পাতাভাঙার শব্দ। এই শব্দ আকাশের সীমানায় গিয়ে শেষ হয়, এখন আকাশি বাতাসের সিঁড়ি বেয়ে মিশে যায় নীলের বিশালতায়, আমি তখন সমুদ্র থেকে উত্থিত হই, তুলোধুনো মেঘ হয়ে ভাসতে থাকি, আকাশমুখি হয়ে আকাশির আঁচল ধরে।
আমার জীবনে এমন দুপুর প্রায়শই আসে, তবুও প্রতিটি দুপুর আমার নিকট নতুন এবং প্রথম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



