somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজাপতি ও ইউক্যালিপটাসের গল্প [5]

০৬ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

7.
আকাশি আমাদের সে-ই নির্জন নিঃশব্দ দুপুরে কিছু ফড়িং উড়েছিল ঘাসের ডগায়, দোয়েল অদ্ভুত চাহনিতে আমাদের দেখেছিল আর টবে সাজানো ফুলগাছের ডালে টুনটুনি ছটফট করেছিল। আমরা এই সব দেখেছিলাম কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলাম না কিংবা হয়তো করেছিলাম, কিন্তু প্রকাশ করছিলাম না। অথচ আমরাই অদূরে দাঁড়কাকের তাড়স্বরে সচকিত হয়ে ওঠি, তারপর চাহনি বিনিময় করে লজ্জা অনুভব করি।
তারপর আমাদের মধ্যে কি যেন হয়ে যায়, আমরা এতণ কথা না বলেও ছিলাম মুখর, স্বতঃস্ফূর্ত, ভাবনাকাতর। কিন্তু যখন আমরা বুঝলাম আমরা নির্জন নৈঃসঙ্গতার গহ্বরে অবস্থান করছি, তখন শীতল বাতাসের ঝাপটা আমাদের শরীরে শীতল কাঁপন তোলে, আমার মন তরল হতে থাকে, ইচ্ছা করে তোমাকে জাপটে ধরে বুকে নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদি, চোখের জলে তোমার নীল শরীর ভিজিয়ে দেই, হয়তো তোমারও এমন ভাবনা ছিল। অথচ কিছুই হল না। কল্পনাও না। অথচ আমি সব সময় গর্ববোধ করি- মহাসাগর পাড়ি দিতে কিংবা সাহারার উষ্ণতা অথবা সাহারার শীতলতা ডিঙ্গাবার মতা আমার আছে, অথচ দুই ইঞ্চি দূরত্ব পাড়ি দেবার মতা আমার হল না।
আকাশি এত কাছে, অথচ এত দূরে ... আমি হাঁটছি, হাঁটছি... আকাশ ধরতে পারি না, আকাশির স্পর্শে আমি নীল হতে পারি না। আমি সামুদ্রিক নীল হয়ে আকাশ দেখি আর আকাশি সমুদ্রমুখি হয়ে তার কায়ার ছায়ায় আমার শরীরে মরিচিকা তৈরি করি। এই এক অদ্ভুত সম্পর্ক, আকাশি যখন প্রজাপতি হয়, তখনও নিয়ম বদলায় না।
অতঃপর আকাশি উঠে দাঁড়ায়, আমি চোখ বুজি। অনুভব করি তার দীর্ঘশ্বাস, আমার দিকে বিস্ফোরিত চোখ, চোখে পানির টলমল, তারপর আবার পাতাভাঙার শব্দ। এই শব্দ আকাশের সীমানায় গিয়ে শেষ হয়, এখন আকাশি বাতাসের সিঁড়ি বেয়ে মিশে যায় নীলের বিশালতায়, আমি তখন সমুদ্র থেকে উত্থিত হই, তুলোধুনো মেঘ হয়ে ভাসতে থাকি, আকাশমুখি হয়ে আকাশির আঁচল ধরে।
আমার জীবনে এমন দুপুর প্রায়শই আসে, তবুও প্রতিটি দুপুর আমার নিকট নতুন এবং প্রথম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×