ফাল্গুন আর চৈত্র এ দু মাস নিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত । বলা হয়, পুরো বছরের শ্রেষ্ঠ সময় এ দু মাস । আর ছয়টি ঋতুর মধ্যে বসন্তের আগমনও সবার শেষে ।
সারা বছর প্রকৃতি কখনো থাকে রুক্ষতায় ভরপুর কখনো বা থাকে তার নানারকম খামখেয়ালির সর্বগ্রাসী রূপ । কিন্তু এই সময় এসে প্রকৃতি তার প্রচন্ডতার খোলস থেকে বের হয়ে এক কুসম কোমল মায়াবী নৈসর্গিক রূপ পরিগ্রহ করে । আবহাওয়ার এই পরিবর্তন প্রকৃতিতে যোগ করে এক নতুন মাত্রা আর মানুষের জীবন প্রবাহেও দেয় নতুন এক ছন্দ । এভাবে এ ঋতু হয়ে যায় আর সকল ঋতুর থেকে অনবদ্য ; ফাল্গুন- চৈত্র এ দু মাস হয়ে যায় অন্য সকল মাস গুলো থেকে অনন্য ।
‘ফাল্গুন’ এর মাহাত্ম মানুষের মনে এমনই রেখাপাত করেছে যে মানুষ কারো সুদিনের প্রতীকি অর্থ অনেকসময় এ মাস দিয়ে করে থাকে । তেমনই ‘বসন্ত’ কথাটাও মানুষের সুসময়ের নির্দেশক হয়ে যায় । আমরা তাই বলে উঠি, তোমার তো এখন বসন্ত বা তোমার মনে ফাগুনের ছোঁয়া লেগেছে দেখছি । অবশ্য বসন্তের শেষ মাস ‘চৈত্র’ কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে বৃষ্টিহীন প্রখর রৌদ্রতাপের কারনে । তখন কাঠফাঁটা রৌদ্দুরের শুস্কতায় প্রকৃতি দারুন এক সজীব প্রত্যাশী সাজ নিয়ে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে । পড়ন্ত বসন্তও অদ্ভুত স্নিগ্ধময়তায় টইটম্বুর । তখনো দাখিনা হাওয়ায় থাকে ছন্দ, ফুলে ফুলে চলে মৌমাছির নাচন ।
সেই ফাল্গুন এলো, সেই বসন্তও এলো । কিন্তু কেমন যেন নিঃশব্দে এসে দাড়ালো এ নগরে । ইদানিং কেন জানি সেই বাসন্তিক আবহ মনকে আগের মতো মুগ্ধ করে না । কখনো ভাবি সময়ের সাথে উপলব্ধির ভিন্নতার কারনে হয়তো এ রকম হয় । আশে পাশে তাকাই, মানুষের মাঝে খুঁজতে চাই বসন্তের বাসন্তী আবহ। মানুষগুলোকে দেখে চমকে উঠি । অনেক মানুষের ভীড়ে মানুষগুলো বাসন্তী পোষাক পরে আছে, ফুল গুঁজে আছে খোঁপায়, মুখে গুনগুন বসন্তের সুর । অথচ মানুষগুলো কেমন যেন আবৃত এক অদৃশ্য খোলসে। ইট-পাথরের ভাঁজে থাকা মানুষ এখন নিজেই হয়ে গেছে যেন জীবন্ত পাথর । পাথর ভেদ করে মানুষগুলোর মাঝে ফাগুনের গান পৌঁছৈ না, ফুলের স্নিগ্ধতা পৌঁছে না, পৌঁছে না বসন্তের দখিনা বাতাস ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




