ব্লগার রিমন০০৭ হিরোশিমা নাগাসাকি'র উপর কিছু ছবি দিয়ে পোষ্ট দিয়েছিলেন। সেখানে বেশ কিছু ব্লগারের মন্তব্য দেখে আমি হতবাক।
দেখছি গণহত্যা সাপোর্ট করার লোকের অভাব নাই। (তবে কী পারমানবিক বোমা মেরে নির্বিচারে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করা গণহত্যার সংজ্ঞায় পড়ে না?)
আমেরিকার বোমা ফেলা ছাড়া বিকল্প ছিলো না বলেন যারা, তারা কি জানেন 'ম্যানহাটান প্রকল্প' এর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক প্রথম বোমাটা ১৬ ই জুলাই, ১৯৪৫ সালে প্রথম বোমাটি নিউ মেক্সিকোতে ফাটানোর পর, আমেরিকার প্রেসি্ডেন্ট ট্রুম্যানের আর তর সইছিলো না। কিভাবে যে আর ২০ দিন নির্ঘুম কাটিয়েছেন সে শুধু তিনিই জানেন।
অথচ জাপান এমনিতেই যৌথ বাহিনীর আক্রমনে রণে ভঙ্গ দিয়েছে। তাদের আর্ত্মসমর্পণ শুধু সময়ের ব্যাপার ছিলো। তারা শুধু আর্ত্মসমর্পনের কিছু শর্তগুলো পর্যালোচনা করছিলো। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছিলো। এক বৈঠক শেষে তৎকালিন জাপানী প্রধানমন্ত্রী সুজুকির 'মকুসাৎসু' কথাটার ভুল অনুবাদ ইংরেজিতে করা হয় এবং যা আমেরিকার জন্য বর হয়। তা সারা বিশ্বে প্রচার হয়ে যায় পশ্চিমা গণমাধ্যম দ্বারা।একটু জটিল অর্থের এ জাপানি শব্দটাকে ইংরেজি অনুবাদে বলা হল 'অগ্রাহ্য' করা অর্থে। তার মানে জাপান সব কিছু অগ্রাহ্য করছে।
আমেরিকার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেকে জাহির করার এইতো সুযোগ। সবাইকে হটিয়ে বিশ্বমোড়ল ঘোষনা করার জন্য পারমানবিক বোমা না ফেললেই নয়।
৬ আগষ্ট প্রথম বোমা 'লিটল বয়'ফেলা হয় হিরোশিমাতে। তাৎক্ষণিক অর্ধলক্ষ এবং মাত্র চারদিনের মাথায় আরো অর্ধলক্ষ এর বেশি সাধারণ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঝরে পড়ে। তাতেও মন ভরে না ট্রুম্যনের ।
তখনো আরো দুটো বোমা মজুত আছে সেগুলো মানুষের উপর দিয়ে টেস্ট করতে না পারলে কী হয়!!!
তাই দ্বিতীয় বোমা 'ফ্যাটম্যান' ফেলা হয় নাগাসাকি'তে ৯ ই আগষ্ট। ৪০০০০ নিরীহ সাধারণ মানুষ মারা যায় এখানে।
এখনো যে বাকী আর একটা বোমা, এটা না ফেললে নোবেল বিজয়ী সেসব পারমানবিক বোমা-বিজ্ঞানী আর ট্রুম্যানের ষোল কলা পূর্ণ হবে না।
কিন্তু ততক্ষণে জাপান আমেরিকার পায়ে ধরে বসেছে। 'মাফ চাই। মাফ চাই। আর না।'
আর মিত্র শক্তিও আমেরিকার সমালোচনা করা শুরু করে দিয়েছে।
ট্রুম্যান তার ভাষনে তার অপকর্মের সাফাই দিতে গিয়ে বললেন, কম সময়ে এবং কম জান মাল ক্ষয়ে যুদ্ধ শেষ করার এর কোন বিকল্প নাকি ছিল না!!!!!
আর আমরাও তার কথাটাকে বিশ্বাস করি, এ নিয়ে বিতর্কে মাতি।
ওই সুরে মিলিয়ে বলি, মানুষ নাকি জাপানিরা ? ওরা লক্ষ লক্ষ চীনাদের মেরে কচু কাটা করেছে, বৃটিশদের মেরেছে আমেরিকানদের পার্ল হারাবারে চুবিয়ে মেরেছে তাই ওদের জন্য এটাই উপযুক্ত সন্মান এটাই প্রাপ্য!!!!!!!
আর এটা না করা হলে এতো সহজে কী ওরা দমতো!!! যে জাতি এরা!!!
যাহোক, সমালোচনা এবং জাপানের পরাজয় মেনে নেয়ায় তৃতীয় বোমাটা আর ফেলা হল না জাপানের উপর!!! আমেরিকানদের আক্ষেপ হয়তো এজন্য থেকেই যাবে। আর আক্ষেপ থেকে যাবে সেসব নির্লজ্জ সমালোচকেরও যারা গনহত্যাকে সাপোর্ট করেন।
বরাবরই যুদ্ধ বাজাবে, নিপীড়ন করবে রাজা-মহারাজারা আর মরবে সাধারণ মানুষ, মারবেও তারা সাধারণ মানুষকে। আর এসবের স্বপক্ষে বিতর্ক করেও যাবে কিছু বিবেকহীন মানুষ। ধিক্কার তাদেরকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




