somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃষ্ণপূরাণঃ কালাম ভাইদের কথা

০৯ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালো মানুষদের নিয়ে সব সময়েই কিছু না কিছু কৌতুহল ছিল। কারণ সুদীর্ঘ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কারনে ও বর্তমানের মিডিয়ার সুবাদে ইউরপিয়ান বা স্বেতাঙ্গদের সম্পর্কে কমবেশী ধারনা আমাদের তৈরি হয়ে গেছে। আর আমরা তো এশিয়ানই, তাই মনে হয় সব মিলিয়ে আফ্রিকা আর দক্ষিন আমেরিকার সাথে আমাদের যোগাযোগ সবচেয়ে কম। তাই দূরদূর থেকেই দেখি আমি এই ক্ষূধা,দারিদ্রপীড়িত এই মানুষদের। এদেশে আসার পর রাস্তাঘাটে অনেকই কালো লোক দেখি। একটু ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার পর দেখলাম যে, এদের বেশিরভাগই ক্যারিবিয়ান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিদ্ধস্ত দেশকে পুনর্গঠনের জন্য এদের নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে গত পঞ্চাশ বছরে আফ্রিকা থেকেও বেশ বড় সংখ্যায় মানুষ অভিবাসী হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান হল ঘানা আর নাইজেরিয়ার থেকে। আর গত দুই দশকে সোমালিয়া আর ইরিত্রিয়াতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ আর খরার ফলে সেখান থেকেও বহু মানুষ এদেশে এসে স্থায়ী হয়েছে। তবে ঔপনিবেশিক আমলে দাস হিসাবে ছিল এমন মানুষ খুব বেশি পাইনি। খুব সম্ভবত, আফ্রিকা থেকে সরাসরি আমেরিকাতেই কাজের জন্য বেশিরভাগকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

আমি যে এলাকায় থাকি সেটা সম্ভবত ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি কালো অধ্যুষিত এলাকা। সামনে, পিছনে, ডানে, বামে সব দিকেই তেনারা। ফলে একটা লাভ হয়েছে, দেশে থাকতে ফর্সা না বলে হালকা যে চিনচিনা অনুভুতিটা ছিল, এখন নিজেরেই ফর্সা লাগেঃ)

হটাত লিখতে বসলাম এই জন্য, যে কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে টাইম কাটছিল না দেখে ঘাটাঘাটি করতে করতে দেখি হোটেল রুয়ান্ডা। দুটি কারনে কৌতুহল ছিল, প্রথমত রুয়ান্ডার গণহত্যার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় কিছুটা কি হচ্ছে জানার ইচ্ছা ছিল; দ্বিতীয়ত, আমিরা খানের লাগানকে হারিয়ে দিয়ে অস্কার জেতা ছবিতে কি আছে, সেটাও জানার ইচ্ছা ছিল। ফলাফল যেটা হল বেশ ইন্টারেস্টিং,

মুভিটা দেখতে গিয়ে স্বীকার করলাম যে আমির খানের ছক্কার চেয়ে অস্কার পাবার অধিকার অনেক বেশি শুধু মুভি হিসাবেই, আর ঐ ভয়াবহ ঘটনার ওপর এরককম আর কোন ভাল মুভি হয়েছে বলে আমার জানা নাই। অত্যান্ত টানটান উত্তেজনা আর সাবলীল ঘটনা বলার ভঙ্গী। তবে যে জিনিষটা আমার বেশি লেগেছে সেটা হল, মানুষের নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার ঘৃন্যতম এই অধ্যায়ের চিত্ররূপ দেখতে গিয়ে বার বার আমি কন্টেক্সট হারিয়ে ফেলছিলাম। অশিক্ষিত আর অর্ধ শিক্ষিত জনগোষ্টী, দুটি ভিন্ন জাতিসত্বা, দরিদ্র কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আর একদল ক্ষমতালোভী, কান্ডজ্ঞানহীন নরপিশাচের উন্মাদনা। বার বার আমি রাস্তায় পড়ে থাকা লাশগুলোর চেহারা হারিয়ে ফেলছিলাম, দেহগুলো কালোর বদলে বাদামী আর চুলগুলো কোঁকড়ার বদলে সোজা মনে হচ্ছিল। দুদেশের মাঝে ভারতীয় ভূখন্ড ছিল, নাহলে তৎকালীন দুই পাকিস্তানী জনগোষ্ঠীর মাঝে জাতিশুদ্ধির এই জেনোসাইড চললে হয়তো আমাদের ইতিহাসও অন্যভাবে লেখা হোত, আর নয় মাসের বদলে হয়তো চলত যুগব্যাপী। গণহত্যা, প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন, বুদ্ধিজীবি নির্মূল আমাদের প্রতিটি দৃশ্যই ফ্ল্যাশব্যাকে চলে আসছিল। তবে তাড়া থাকার কারণে পুরো ছবিটুকু দেখা হয়নি, তবে সত্যি কথা বললে এক ঘন্টায় খুব কম ছবিই অতটা দাগ কেটেছে আমার ভিতরে।

তবে একটা সান্তনা নিজের জন্য খুঁজে পেয়েছি। রুয়ান্ডা সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখলাম যে একটা বিষয়ে ঠিক আমাদের উলটো ঘটনা ঘটেছে। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের সময়ে যেমন জাতি বিশ্বাসঘাতকতা দেখেছিল একদল ইসলামের নামধারী নরপিশাচের, যাদের কুচক্রের হাত থেকে আমরা এখনো মুক্তি পেতে পারিনি, ঠিক তার বিপরীত ঘটনাই ঘটেছিল রুয়ান্ডায়। সংখ্যালঘু দরিদ্র মুসলিম গোষ্ঠী কোন সময়েই গুরুত্বপূর্ন কিছু ছিল না। কিন্তু এই বর্বরতা আর গণহত্যার সময়ে মনুষত্বের অসাধারণ পরিচয় দিয়েছিলেন ইনারা। সমগ্র রুয়ান্ডায় হুতু আর তুতসী গীর্জা আর উপাসনালয়গুলো প্রতিপক্ষের জবাইখানা হিসাবে ব্যাবহার হয়েছে। আর তাতে অনেক সময়েই প্রানের ভয়ে বা লোভের বশে যোগ দিয়েছিল পাদ্রী আর গীর্জা কর্তপক্ষ। নৃসংশতার এই মহাদূর্যোগে শান্তির বাণী নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল এই ক্ষূদ্র, হতদরিদ্র, নিম্নশ্রেনীর মুসলিম জনগোষ্ঠী। সম্পুর্ণ সময়েই তারা তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে আর যখনই যে কেউই তাদের কাছে সাহায্যের জন্য এসেছে তাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতা হয়নি। এই অসম্ভব বলিষ্ঠ আর দয়ালু ভূমিকা পালনের ফলে গণহত্যার এক যুগ পার হয়ে যাবার পর মুসলিমরা রুয়ান্ডায় অত্যান্ত সম্মানিত। আর সুখবর হল, দলে দলে মানুষ আবার মুসলমান হওয়া শুরু করেছে, আর ইসলামের সুশীতল ছায়াকে নিজের জীবনের জন্য পছন্দ করছে। আল্লাহ রব্বুল ইজ্জ্বত সকলকে সুপথে পরিচালিত করুন।

!@@!555520 !@@!555521 !@@!555522

!@@!555523 !@@!555524 !@@!555525 !@@!555526

দুঃখিত, বাংলাদেশের বা ইসলামী মিডিয়ার কোন লিঙ্ক দিতে পারলাম না।

শেষ করার আগে একটা প্রশ্ন, আমি ঠিক জানি না, কিন্তু একজনের কাছে শুনলাম। আমাদের রাজদূত হ্যারি টমাস বঙ্গদেশে পরিভ্রমণের আগে নাকি ১৯টি দেশে বেড়িয়েছিলেন। তার মাঝে ১৪টি তেই নাকি আলরেডি জলপাই মামারা দেশ চালাচ্ছেন। কেউ বেশি কিছু জানেন?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৪০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×