আমি যে এলাকায় থাকি সেটা সম্ভবত ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি কালো অধ্যুষিত এলাকা। সামনে, পিছনে, ডানে, বামে সব দিকেই তেনারা। ফলে একটা লাভ হয়েছে, দেশে থাকতে ফর্সা না বলে হালকা যে চিনচিনা অনুভুতিটা ছিল, এখন নিজেরেই ফর্সা লাগেঃ)
হটাত লিখতে বসলাম এই জন্য, যে কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে টাইম কাটছিল না দেখে ঘাটাঘাটি করতে করতে দেখি হোটেল রুয়ান্ডা। দুটি কারনে কৌতুহল ছিল, প্রথমত রুয়ান্ডার গণহত্যার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় কিছুটা কি হচ্ছে জানার ইচ্ছা ছিল; দ্বিতীয়ত, আমিরা খানের লাগানকে হারিয়ে দিয়ে অস্কার জেতা ছবিতে কি আছে, সেটাও জানার ইচ্ছা ছিল। ফলাফল যেটা হল বেশ ইন্টারেস্টিং,
মুভিটা দেখতে গিয়ে স্বীকার করলাম যে আমির খানের ছক্কার চেয়ে অস্কার পাবার অধিকার অনেক বেশি শুধু মুভি হিসাবেই, আর ঐ ভয়াবহ ঘটনার ওপর এরককম আর কোন ভাল মুভি হয়েছে বলে আমার জানা নাই। অত্যান্ত টানটান উত্তেজনা আর সাবলীল ঘটনা বলার ভঙ্গী। তবে যে জিনিষটা আমার বেশি লেগেছে সেটা হল, মানুষের নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার ঘৃন্যতম এই অধ্যায়ের চিত্ররূপ দেখতে গিয়ে বার বার আমি কন্টেক্সট হারিয়ে ফেলছিলাম। অশিক্ষিত আর অর্ধ শিক্ষিত জনগোষ্টী, দুটি ভিন্ন জাতিসত্বা, দরিদ্র কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আর একদল ক্ষমতালোভী, কান্ডজ্ঞানহীন নরপিশাচের উন্মাদনা। বার বার আমি রাস্তায় পড়ে থাকা লাশগুলোর চেহারা হারিয়ে ফেলছিলাম, দেহগুলো কালোর বদলে বাদামী আর চুলগুলো কোঁকড়ার বদলে সোজা মনে হচ্ছিল। দুদেশের মাঝে ভারতীয় ভূখন্ড ছিল, নাহলে তৎকালীন দুই পাকিস্তানী জনগোষ্ঠীর মাঝে জাতিশুদ্ধির এই জেনোসাইড চললে হয়তো আমাদের ইতিহাসও অন্যভাবে লেখা হোত, আর নয় মাসের বদলে হয়তো চলত যুগব্যাপী। গণহত্যা, প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন, বুদ্ধিজীবি নির্মূল আমাদের প্রতিটি দৃশ্যই ফ্ল্যাশব্যাকে চলে আসছিল। তবে তাড়া থাকার কারণে পুরো ছবিটুকু দেখা হয়নি, তবে সত্যি কথা বললে এক ঘন্টায় খুব কম ছবিই অতটা দাগ কেটেছে আমার ভিতরে।
তবে একটা সান্তনা নিজের জন্য খুঁজে পেয়েছি। রুয়ান্ডা সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখলাম যে একটা বিষয়ে ঠিক আমাদের উলটো ঘটনা ঘটেছে। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের সময়ে যেমন জাতি বিশ্বাসঘাতকতা দেখেছিল একদল ইসলামের নামধারী নরপিশাচের, যাদের কুচক্রের হাত থেকে আমরা এখনো মুক্তি পেতে পারিনি, ঠিক তার বিপরীত ঘটনাই ঘটেছিল রুয়ান্ডায়। সংখ্যালঘু দরিদ্র মুসলিম গোষ্ঠী কোন সময়েই গুরুত্বপূর্ন কিছু ছিল না। কিন্তু এই বর্বরতা আর গণহত্যার সময়ে মনুষত্বের অসাধারণ পরিচয় দিয়েছিলেন ইনারা। সমগ্র রুয়ান্ডায় হুতু আর তুতসী গীর্জা আর উপাসনালয়গুলো প্রতিপক্ষের জবাইখানা হিসাবে ব্যাবহার হয়েছে। আর তাতে অনেক সময়েই প্রানের ভয়ে বা লোভের বশে যোগ দিয়েছিল পাদ্রী আর গীর্জা কর্তপক্ষ। নৃসংশতার এই মহাদূর্যোগে শান্তির বাণী নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল এই ক্ষূদ্র, হতদরিদ্র, নিম্নশ্রেনীর মুসলিম জনগোষ্ঠী। সম্পুর্ণ সময়েই তারা তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে আর যখনই যে কেউই তাদের কাছে সাহায্যের জন্য এসেছে তাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতা হয়নি। এই অসম্ভব বলিষ্ঠ আর দয়ালু ভূমিকা পালনের ফলে গণহত্যার এক যুগ পার হয়ে যাবার পর মুসলিমরা রুয়ান্ডায় অত্যান্ত সম্মানিত। আর সুখবর হল, দলে দলে মানুষ আবার মুসলমান হওয়া শুরু করেছে, আর ইসলামের সুশীতল ছায়াকে নিজের জীবনের জন্য পছন্দ করছে। আল্লাহ রব্বুল ইজ্জ্বত সকলকে সুপথে পরিচালিত করুন।
!@@!555520 !@@!555521 !@@!555522
!@@!555523 !@@!555524 !@@!555525 !@@!555526
দুঃখিত, বাংলাদেশের বা ইসলামী মিডিয়ার কোন লিঙ্ক দিতে পারলাম না।
শেষ করার আগে একটা প্রশ্ন, আমি ঠিক জানি না, কিন্তু একজনের কাছে শুনলাম। আমাদের রাজদূত হ্যারি টমাস বঙ্গদেশে পরিভ্রমণের আগে নাকি ১৯টি দেশে বেড়িয়েছিলেন। তার মাঝে ১৪টি তেই নাকি আলরেডি জলপাই মামারা দেশ চালাচ্ছেন। কেউ বেশি কিছু জানেন?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



