কৌতুহলী হয়ে খোঁজ নেবার জন্য সেই এলাকায় গেলেন নবী। কোন এক বাজারে দেখা হল মাংসের দোকানে কর্মরত সেই কসাইয়ের সাথে। কিছু সময়ে থেকে তার মাঝে কোন বিশেষত্ব পেলেন না, আরেকটু ভালমত জানার জন্য কসাইকে অনুরোধ করলেন, আমি কি আপনার সাথে কিছু সময় থাকতে পারি? এলাকায় নতুন মানুষ মনে করে কসাই মেহমান হিসাবে অপরিচিত মূসাকে নিয়ে গেলেন নিজের বাড়িতে। সে বাসায় গিয়ে দেখলেন যে কৃশকায়, দূর্বল এক বৃদ্ধা বিছানায় শায়িত। সেই কসাই বাড়িতে পৌছেই প্রথমে সাথে নিয়ে আসা মাংস কাটল, তারপর সেই দিয়ে খাবার রান্না করে বৃদ্ধার জন্য ক্ষূদ্র ক্ষূদ্র টুকরো করে তৈরি করল। পরে যখন সেই বৃদ্ধাকে নিজ হাতে পরম মমতায় খাওয়াচ্ছিল, তখন দেখলেন মহিলা বিড়বিড় করে কিছু বলছেন, ক্ষীণকন্ঠস্বরের জন্য তা বোঝা গেল না। পরে এসে কসাই বলল, উনি আমার মা, বয়স হয়ে যাবার পর নিজের দেখাশোনা করতে পারেন না, তাই আমিই যেটুকু পারি করি। সরল হাসি হেসে বলল, বৃদ্ধার বয়স হয়ে গেছে তাই ঠিক বেঠিক কথা বলেন, আমি যখন উনার জন্য খাবার তৈরি করে খাওয়াই, তখন উনি বলেন যে- বাবা আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে মূসা নবীর সঙ্গী করুক। কোথায় আল্লাহর নবী মূসা আর কোথায় এই আমি নগণ্য কসাই।
আর কিছু কানে ঢুকল না। বাষ্পায়িত দৃষ্টি ঢাকার জন্য মাথা নিচু করলাম। পরে খেয়াল করলাম, সাত সমূদ্র তের নদী পার হয়ে আসা অনেকেই নোনাদৃষ্টি লুকানোর চেষ্টা করছে। কবে সৌভাগ্য হবে প্রিয়তম মানুষগুলোর সান্নিধ্যের বরকত আবার ফিরে পাব। সময়েই প্রশ্নের জবাব দিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



