কদিন আগ পর্যন্তও সরকারী খরচে "গাছ লাগান-পরিবেশ বাঁচান" ব্রাকেটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকত। আজকাল উপদেষ্টার নাম থকে কিন জানি না। তবে মূলমন্ত্র হইল, অধিক গাছ লাগাইলে অধিক সবুজবাদি হইবে, আর তাহারা অধিক গ্রীনহাউজ গ্যাস খাইয়া পরিবেশ অধিক নির্মল করিবে।
তবে মজার বিষয় হল, আজকের ফসিল ফুয়েলের কাড়াকাড়ির সময়ে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানীগুলোর মধ্যে একটা হল সাধারণ লাকড়ী। এইটা পোড়ালেই তাপ তৈরি হয়ে যায়, তার জন্য মাটি ফুটা করা লাগে না, ফিউশন ফিশন কিছুই করা লাগে না, ফটোসেল বসাতে হয় না, বিশাল এলাকা আটকে বাঁধ দেয়া লাগে না। চমৎকার চলনসই উত্তাপের উৎস যেটা সবখানেই সহজলভ্য। আর কাঠ যদি পোড়ানো হয় তাহলে মোটামুটি পৃথিবীর হিসাবে কোন কমবেশী হয় না। কারণ যেই কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে সেটা আগে বাতাসেই ছিল, গাছ বাবাজী টেনেটুনে নিজের বডিবিল্ডিং এর কাজে লাগিয়েছিলেন, দরকার শেষ এখন আবার বাতাসে ফিরিয়ে দাও। আর উত্তাপ যেটা তৈরি হল সেটা তো আমাদের কাজে আসবেই আর সেই শক্তিটুকু সূর্যের থেকে ধার নেয়া হয়েছিল আবার পরিবেশে ফেরত গেল।
এই শুইনা সব্বাই যদি এখনি করাত কুঠার নিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযানরে উল্টায়ে বৃক্ষনিধন অভিযানে নেমে পড়েন তাহলে ঝামেলা আছে। কারণ আমাদের বনের রাজারা অনেক আগেই আমাদের হয়ে দেশের বনজ সম্পদ হাওয়া করে দিয়েছেন।
আর দ্বিতীয় বিষয় হল উন্নত বিশ্বে জ্বালানী হিসাবে কাঠের চাহিদা বাড়ছে। সেই বিষয়ে একটা আর্টিকেল পড়েই মনে হল আমি দুলাইন লিখি। বিষয় হল, উড প্যালেট নামে একটা জিনিষ আজকাল অনেক যায়গাতেই ব্যাবহার হচ্ছে। জিনিষটা হল, করাতকলে যখন কাঠ চেরা হয়, তখন যে বিপুল পরিমাণে গুঁড়ো বের হত, সেগুলোকে ফেলে দেয়া হত, পরে চিন্তা করে দেখা হল, এগুলোকে ফেলে না দিয়ে কোনভাবে এফিশিয়েন্টলি ব্যাবহার করেল ভাল হয়। তাই সেগুলোকে মেশিনে ভরে, ছোট কাঠের গুঁড়োর সাথে আঠালো উপকরণ মিশিয়ে ছোটছোট গুটির আকার দেয়া হয়। তাতে শুকনো, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, দাহ্য জ্বালানী পাওয়া যায়। আর সেটাই অনেক যায়গায় কয়লা বা গ্যাসের বদলে ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে মনে হয় অনেক আগেই আমরা সিস্টেমটা নিয়ে ফেলেছি।
আগে ধানের তুষ ফেলে দেয়া হত, আর রাইসমিলগুলোর তুষে খাল বা নদী প্রায় ভরাট হয়ে যাবার ঘটনাও আছে। আজকাল মনে হয় সেগুলোকে প্রসেস করে লম্বা কালো রোলটাইপের জিনিষ বানানো হয়। গ্রামেগঞ্জে অনেক যায়গাতেই সেগুলোর প্রচুর ব্যাবহার দেখেছি। শহরেও অনেক হোটেল সেগুলোকেই জ্বালানী হিসাবে ব্যাবহার করে। বাংলাদেশে চরকোল নামে পরিচিত হলেও, আসল কাঠকয়লা বা চরকোল অন্য জিনিষ।
সবচেয়ে এফিশিয়েন্ট সোলার প্যানেলের শেষ পর্যন্ত এই পরিণতি।
উড প্যালেট সম্পর্কে কিঞ্চিত জ্ঞান
আলোচিত ব্লগ
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা ভয়ংকর

বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!
শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন
আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভাংগুক অচলায়তন

ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।
ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।
নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।