somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনে ৪০০০ ভিউ এর ল্যান্ডমার্ক এবং আমার স্মৃতিগুলো

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটু আগে আরিল্ডের এক পোষ্টে দেখলাম সা.ইন. একইদিনে চারহাজার ভিউ এর ল্যান্ডমার্ক ছাড়িয়েছে। ভালো লাগলো। পাশাপাশি মনের জানালায় উকি দিয়ে গেলো সেই প্রথম দেখা আর প্রথম একে প্রমোট করার কথা... ...

সা.ইনে রেজিষ্ট্রেশন করেছি খুব অল্পদিন। যদিও এর সাথে ভালোবাসা, সখ্যতা অনেকদিনের পুরনোই বলা যায়। প্রথম সা.ইন. কে পেয়েছিলাম এক অকল্পনীয় জায়গায়, এক স্তম্ভিত বিস্ময়ে, এক অদ্ভূত ভালোলাগার আবেশে।

সময়টা সঠিক খেয়াল নেই। খুব সম্ভব ২০০৬ আপষ্টের শেষার্ধ।

প্রচন্ড ব্যস্ততায় দৌড়ে বেড়াচ্ছি রুয়ান্ডা, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া আর উগান্ডা। এর মাঝেই তিনদিনের একটা ছোট্ট গ্যাপ বের করে চলে গেলাম উগান্ডার শেষ মাথায়, যেখানে পিগমী দের আবাস, তার কাছাকাছি, একটা লেক - বুনোয়ানি। সভ্যতা থেকে অনেক দূরে, সাতাশটি পাহাড়ে ঘেরা এক অনুপম প্রাকৃতিক হ্রদ। ক্যানোতে করে বারো কিমি লেক পেরিয়ে পৌছলাম এক পাহাড়ের ঢালে সেই আন্তর্জাতিক আবাসিক হোটেলে!! (এটিই ছিলো ঐ অঞ্চলের সবচে সস্তা হোটেল, অবস্থা আমাদের গ্রাম্য চা দোকানের মতো, তবে অনেক পরিচ্ছন্ন)।

সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম্য পরিবেশে কাউন্টারের ওপর প্রায় ঝকঝকে একটি ল্যাপটপ দেখে বিস্মিত হলাম। আমার বিস্ময়কে স্থায়ী রূপ দিতেই যেনো কাউন্টারের ছেলেটা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাই কিনা জানতে চাইলো। চারপাশে পানি আর পাহাড় ছাড়া আর কিছু নেই, স্তম্ভিত আমি সম্মতি জানিয়ে বসলাম। দেশের খবরাদি নেয়ার এক পযার্য়ে দেখলাম সা.ইন কে।

কয়েকজন আফ্রিকান বন্ধুকে নিজের ঠিকানার পাশাপাশি সা.ইন. এর ঠিকানাও দিয়েছিলাম; বলেছিলাম এই সাইটটাতে আমাদের দেশের খবর, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ সম্পর্কে জানতে পারবে। অন্য কেউ এটা ভিজিট করে কিনা জানিনা, তবে আমি নিশ্চিত অন্তত: একজন, চকচকে কালো চামড়ার নিচে ঝকঝকে শুভ্র মানসিকতার ধারক, আমার সেই বন্ধু (মিজ গাউডেনসিয়া কাটো), মোটামুটি নিয়মিত এই সাইটটা ভিজিট করে। ভিজিট করে আর হয়তো ভোগে উদ্দাম সেই বন্ধুতার দিনগুলোর নষ্টালজিয়ায়।

তার ছোট ছোট কথা, হাল্কা দুষ্টুমি আর প্রাণখোলা হাসির আড়ালে সব জেনে শুনেও সে যে মরতে বসেছে তা টের পেয়েই বারো বছর প্রেম শেষে ঘরবাধা বউ আর আমাদের জীবন আলো করা দুই মেয়ের টানে নিজকে সরিয়ে নিতে হয় দ্রুত। হয়তো কিছুটা দৃষ্টিকটু দ্রুততায়ই। এ কী ভুল, বিভ্রম নাকি কেবলই মায়া – জানিনি। জানতে আসলে চাই ও নি। খুব স্বার্থপরের মতো পালিয়ে এসেছি। ভয়ে, নিজের জীবন-সংসার নিয়েই চিন্তা করা সেই আমি তাই ফোপানো “উসিনিসাহাউ”(ফরগেট মি নট) আর “নাকুপেন্ডা”(আমি তোমাকে ভালোবাসি) এর মাঝে নিজেকে খুব চেষ্টা করে, ভিজে যাওয়া চোখটাকে যথাসম্ভব শুকনো রেখে “কোয়া হেরি”(গুড বাই) “বাকী সালামা” (স্টে ফাইন) বলতে বলতে স্ক্যান্ডিনেভিয়া কোচে উঠে গেছি।

আজ হঠাৎ করেই সেসব দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে আর বাইরে প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে ভিজে উঠতে চাইছে চোখগুলো ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×