পড়ালেখায় কখনও ভাল ছিলাম বলে মনে পড়ে না। কখনও পড়ালেখাকে সিরিয়াসলীও নেইনি। শুধু পড়ার জন্যই পড়া। ছাত্র জীবনে দেখেছি ক্লাসে দু ধরনের ছাত্ররা শিক্ষকদের মনোযোগ আর্কষণ করে এক. ভাল ছাত্ররা আর দুই. খারাপ ছাত্ররা এই দুইয়ের মাঝামাঝিদের নিয়ে শিক্ষকরা তেমন গা করেন না, আমার অন্ততঃ তাই মনে হয়েছে। আর এ কারনেই বোধহয় স্কুল-কলেজ জীবনে স্যারদের বিব্রতকর (!) দৃষ্টি থেকে নিজেকে বাচিঁয়ে রাখতে পেরে ছিলাম। জীবনে কোন পরীক্ষা আমার ভাল হয়নি। বিব্রতকর এইজন্যই বলছি কারন আমি খুব আত্মকেন্দ্রীক মুখচোরা স্বভাবের ছিলাম। স্যারদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া তাই যতটা পারি এড়িয়ে চলতাম।
খেলাধূলায়ও কখনও আগ্রহ বোধ করেছি বলে মনে পড়ে না। খেলাধূলার চেষ্টা যে একদম করিনি তা না, তবে যখন দেখতাম ফুটবলে সারা মাঠ দৌড়িয়েও যখন বল একবারও পায়ে লাগতো না আর ক্রিকেটে সতীর্থদের আগে যাও পিছে যাও শুনতে শুনতে হতাশ হতে হতো তখন নিজেকে গুটিয়ে নেয়া ছাড়া আর কোন পথ দেখিনি।
প্রবাস নিয়ে লিখতে বসে ভাবলাম আমার এই ব্যকগ্রাউন্ডটা একটু জানিয়ে নেই, তাতে যদি আমার ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
জীবন এই প্রবাসে যেন একটা সরল রেখা। একঘেয়ে প্রতিটা দিন। সকালে অফিসে আসি, সন্ধায় রুমে ফেরা, শুয়ে শুয়ে টিভির চ্যানেল বদলাই, রাত সাড়ে দশটায় হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে তাড়াহুড়ো করে খেতে বের হই, অনেক সময় হোটেলে বাঙালী কর্মচারী মোবাইলে কল দেয়, ভাই তাড়াতাড়ী আসার চেষ্টা করেন, হোটের বন্ধ হয়ে যাবে। প্রায় সময় আমিই হই তাদের শেষ কাষ্টমার। তারপর রাতের খাবার সেরে আবার রুমে ফিরি। আরও কিছুক্ষণ টিভির চ্যানেল ঘুড়িয়ে অফিস লেটের ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ি, প্রায় টিভি অফ করা হয় না, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি টিভি চলছে। রাতে কবে বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়েছি মনে পড়ছেনা। পর দিন সেই অফিস, রুম, টিভি, খাওয়া ঘুম। ইদানিং সপ্তাহের প্রায় অর্ধেক রাত না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি।
বুকের বাম পাশটা মাঝে মধ্যেই চিনঁচিনিয়ে মনে করিয়ে দেয় মৃতূ্য খুব কাছে কোথাও পায়চারী করছে। একটা দীর্ঘশ্বাস মনের অজান্তেই বেড়িয়ে পড়ে। হাতটা আবার শার্ট আর প্যান্টের পকেটগুলোয় সিগারেটের প্যাকেট হাতড়ে বেড়ায়।
চলবে... (অনিশ্চিত)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



