somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেকে লেখা চিঠি, প্রিয় অহং

২৬ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় অহং,
তুমি কেমন আছো? তোমাকে অনেকদিন কিছু লিখিনা। কত রাত পেড়িয়ে দিন গেল তোমাকে নিয়ে আমার এখন আর লিখা হয়না। সত্যি বলতে কি ভাবার ফুসরতই পাচ্ছিনা । তোমার কি রাগ হচ্ছে তোমাকে অহং বলে সম্মোধন করাতে। আসলে এখন যদি বলি প্রিয় আমি দেখতে কেমন যেন লাগে। বড্ড অস্বচ্ছন্দ লাগে। যুত সই শব্দ আমি আর পাচ্ছি তাই অহং বলেই সম্মোধন করতে হলো। প্রিয় তোমার কি মনে পরে ফাগুনের আগুন রাজ্ঞা দিনে তুমি কি করতে? খেলার মাঠ পরে থাকতে সারাদিন । ধানক্ষেতের আইল ধরে হেটে যেতে গায়ে লাগাতে তুলতুলে ধান গাছের পাতার পাতাস। সারাদিন টই টই করে ঘুরে ফিড়তে। কোন গাছে বাসা বেধেছে ঘুঘু পাখিটা কোনা কাছে শালিক । কার ঘরের ফোকরে ডেরা গেরেছে চড়ুই । এসব নিত্য ভাবনা ছিলো তোমার । তোমাকে আমি দেখিনি তোমার ভ্রু কুচকে থাকতে , আজ যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি তোমার পাকা চুলের সংখ্যার হিসেবে করো আমি দেখে নিয়েছি তোমার ভ্রু কুচকে গোগরা পোকার মতো হয়ে যায় । এখন আর তোমার সারল্য হাসি আর আমি দেখিনা। এখন তোমার হাসি দেখলে বাংলা সিনেমার ভিলেন দুই রুপের হাসি আমি দেখতে পাই। তোমার কি এখন আর মনে পরে না , পুকুরের দখিন পারে তুমি বাতাসের জন্যে অপেক্ষা করতে হাতে বানানো আম পাতার চুরকি ঘুরানোর জন্যে? তোমার আলস্য সময়কে রগিন করার জন্যে তোমার কতো ব্যস্ততা ছিলো। সারাদিন তুমি কত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে? তোমার হাসি খুশিতে চারপাশ হাসতো। আজ তুমি "আমি" থেকে অহং হয়ে গেছো। তুমি যখন তোমার আমি ছিলে মায়ের বুকুনিতে অন্যজনের আচলে তুমি নিমেষেই আশ্রয় নিতে , তোমার ভিতরে ছিলোনা কে তোমার ঘরের কাজের বুয়া আর কে তোমার মা। আজ কি আছে তোমার সেই দিন? এখন তোমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। তার সাথে জোট বেধে পাক ধরেছে তোমার মনেও ।তাই তো তুমি আজ অহং।আজ তোমার সারল্যকে ছাপিয়ে লাভ ক্ষতির হিসেব বড্ড শিখেছো। তোমার মনে আছে কি না আমি জানিনা । শৈশবে তুমি পাখি হতে চেয়েছিলে। তোমার পড়ালেখা ভালো লাগেনা। আজ তোমার কি হতে ইচ্ছে করে? তুমি একদিন বলেছিলে তুমি আইসক্রীম ওয়ালা হবে, আরো হতে চেয়েছিলে কটকটিওয়ালা । তোমার কি সেই সব দিনের কথা মনে পড়ে অহং। আমি জানি সেসব তুমি কবে তোমার মাথা থেকে জেটিয়ে বিদায় দিয়েছো। এখন তোমার মাথার মধ্যে শধু "রী'। এই রী ছাড়া তুমি কিছুই ভাবোনা। মানুষের দুঃখ এখন আর তোমাকে স্পর্শ করে না।জানি না মনে রেখেছো কি না । একদিন তোমার মায়ের চোখের জল মুছে দিয়ে বলেছিলে মা তোমার দুঃখ একদিন গুছে দিবো। তুমি তোমার কথা এমন ভাবে রাখবে সেটা তোমার মা ভাবেনি। তাইত সে আজ একটি সাজানো গোছানো রুমে বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাচ্ছে। তোমার এখন চাই নারী, চাই গাড়ি, চাই বাড়ি, এতোসব চাওয়া পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে তুমি ভুলে গেছো সেই পাখিদের কথা, ভুলে গেছো বাতাসের জন্যে অপেক্ষা করা, ভুলে গেছো ধান ক্ষেত , ভুলে গেছো মৃদলা হাওয়া , ভুলে গেছো জোৎস্না রাতের জোনাকী পোকাদের কথা।
তুমি এখন অহং তাইতো তোমার হতে হলে যোগ্যতা লাগে, লাগে সামাজিক স্টাটাস। তুমি এখন অনেক সামাজিক তাইত তোমার নতুন করে সমাজ সৃস্টি করা লাগছে।
তোমাকে অনেকদিন পর লিখছি আমি জানি এই চিঠি পড়ার সময় তোমার নেই তারপরো মনের ক্ষৃণ আশা নিয়ে তোমাকে লিখছি । তুমি পড়বে, তোমার মনে পড়বে তোমার ফেলে আসা দিনের কথা ,সময়ের কথা, সেই খেলার মাঠ,সেই আম জাম নারকেল গাছ।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন তুমি তোমার দু একটি পাকা চুলে হাত বুলাবে তখন হয়ত মনে পড়বে এই তোমাকে তোমার #অহং হীন অহংকে। একটু ভাবার ফুসরুত নিও। চুলে পাক ধরেছে তার সাথে কিন্তু জীবনেরও পাক ধরেছে, আজ হয়ত মৃত চুল দেখেও ভাবছো কিছুনা , সেদিন আর বেশি দূরে নয় তোমাকেও দেখে মানুষ লাশ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারবেনা।
আর বেশি কিছু লিখে তোমার মেজাজ খারাপ করতে চাইনা। সময় হলে আবার একটি বারের জন্যে অহং থেকে আমি হোও। মনের যতো অহং আর ইগোর জন্যে তুমি অনেকের পাশে থেকেও তুমি অনেক একা তাই বলছি মনের অহংকার ছেড়ে আরেকবার তোমার তুমি হয়ে যাও...সেই শৈশবের মতো একটি নিশপাপ হাসি তোমার ঠোটে ফিড়ে আসুক , তোমার কোচকানো ভ্রু আর দেখতে চাই না ...ভালো থেকো 'আমি"
ইতি_শুভাশীষ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

×