আমি বোধ হয় মানুষটা সুবিধার না। মেজাজী, খেয়ালী আর একগুঁয়ে। সবসময় যা মনে হয়েছে তাই করেছি। অথচ আমি খুব শান্ত, ধীর-স্থির। এমন হওয়ার কথা ছিল না। মাঝে মধ্যে ফেইসবুকে আমার বন্ধুদের দেখি- যাদের সাথে একসাথে পড়েছি। তাদের অনেকেই এখন দেশের বাইরে এমএস/ পিএইচডি করছে। যারা দেশে আছে তারাও সবাই ভালোভাবেই কিছু না কিছু করছে। দেখে ভালো লাগে, আবার খারাপও লাগে। ওদের জায়গায় আমি থাকতে পারতাম। থাকলাম না, সেটা আমারই দোষে।
আমি কোন কালেই খুব একটা খারাপ স্টুডেন্ট ছিলাম না। ক্লাস ফাইভে, এইটে কেউ বৃত্তি পেলে তাকে ভালো ছাত্রের তালিকাতেই ফেলতে হয়। এসএসসি, এইচএসসি বোর্ডস্ট্যান্ড করার খুব কাছাকাছি ছিলাম। পড়াশুনা করেছি দেশের সব সেরা শিক্ষায়তনে। আমি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলাম, তার পর চট্টগ্রাম কলেজ। তারপর ছিলাম বুয়েটে মেকানিক্যাল-এ।
তারপর কেন জানি আর ভালো লাগলো না। হঠাৎ করে নিজেকে সফল হবার ইঁদুর দৌড় থেকে সরিয়ে নিলাম। আমার সব অসহ্য লাগছিল। আমি কখনো ভালো রেজাল্টের জন্য পড়িনি। নতুন কিছু শিখতে পারার আনন্দটাই আমার কাছে অনেক বড় ছিল। বুয়েটের নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনাতে আমি তাই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।
ভালো লাগছেনা-এই অজুহাতে বুয়েটের পড়াশোনায় ইস্তফা দিলাম। এরপর গিয়ে ভর্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে। তখনো কম্পিউটার বিজ্ঞান সাবজেক্ট হিসেবে ভালো ছাত্রদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই ছিল। মেডিক্যাল কলেজেও এডমিশনের চান্স পেয়েছিলাম। তবে ওখানে পড়ার কোন ইচ্ছা ছিল না আমার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটেও প্রথম দিকেই ছিলাম। শেষ পর্যন্ত কম্পিউটার বিজ্ঞানেই ভর্তি হলাম।
তারপর গল্পটা অন্য একটা হতাশার গল্প। আমি স্বপ্ন ছিল আমি অসাধারণ একজন প্রোগ্রামার হব। কোথায় কি? প্রোগ্রামিং এর ক্লাসগুলো আমার কাছে ছিল আতংকজনক। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ভালো মানের প্রোগ্রামিং টীচার আমাদের ডিপার্টমেন্টে ছিল না। যা শিখেছি শেষ পর্যন্ত নিজে নিজেই শিখেছি।
তারপর সেকেন্ড ইয়ারে এসে হঠাৎ করে এইটাও ছেড়েদিলাম। কেন ছাড়লাম? আমি নিজেও আসলে স্পষ্ট জানি না। সফল হবার ইঁদুর দোড়টা আমার ভালো লাগছিল না।
এরপরও চলে গেল আরো ছয় বছর। আমার আর কিছু করা হলো না।
অথচ, আমার দিকে চেয়েছিল একটা পরিবার। একান্তই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার ভাই-বোনেরা। আমি মাঝে অপরাধবোধে ভুগি!
আমি শেষ পর্যন্ত হেরে গেলাম!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



