somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পরিচয় পত্র

০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছি এক দশক হয়ে গেল।

প্রথম বর্ষে থাকতে একবারই সংগ্রহ করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অমূল্য নিদর্শন--আইডি কার্ড টি। মানিব্যাগে তখন মানি নেই, কিন্তু গর্বভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াই।

প্রথম বর্ষে সংগ্রহ করা সেই কার্ডটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় ২০০৬ সালে। জ্ঞানী লোকেরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বের কখনও মেয়াদোত্তীর্ণ হয় না। ছাত্রত্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ না হলে ছাত্রের পরিচয় পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে কেন?

সেই যুক্তিতেই ১৫-১৬ বছর আগে মেয়াদ ফুরানো পুরনো সেই আইডি কার্ড টি আজও পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই।

মনে মনে স্বপ্ন, কোন একদিন সুযোগ আসবে, আমি আমেরিকান সিনেমা-সিরিয়ালে দেখা FBI-এর মতো করে আমার মানিব্যাগে সযতনে রাখা আইডি কার্ডটি দেখিয়ে দেব।

বল বাহুল্য সেই সুযোগ এত বছরেও আসেনি।
ছাত্র জীবন গেল। পেশা জীবনও যায় যায় অবস্থা।

পেশাজীবনে এমন কোন হাতি-ঘোড়া হয়ে যাইনি যে সেরকম কোন আইডি কার্ড থাকবে। অফিসের কার্ড একটা আছে, সে কেবল আমার অফিসেই চলে, বাকি দুনিয়ায় সেই কার্ড অচল।

অন্তত এতদিন আমার তাই ধারণা ছিল।
কিন্তু করনা ভাইরাস সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিল।

বাকি দুনিয়ায় অচল অফিসের সেই আইডি কার্ডটিই আজ আমার FBI-James Bond এর আইডি কার্ড!

খিলগাঁও রেইল গেইট-এ কর্তব্যরত পুলিশ আরও কয়েকজনের সাথে আমার রিকশাটিও আটকালেন। আমি FBI স্টাইলে আমার আইডি কার্ডটি দেখালাম।
কার্ড দেখামাত্র আমার রিকশাটি ছেড়ে দিলেন তারা!
পেছনে দেখা গেল, কয়েকটি রিকশার যাত্রী নামিয়ে রিকশা উল্টে দিতে!

করোনার মৃত্যুঝুকির চেয়ে আইডি কার্ড দেখে আমার রিকশা ছেড়ে দেওয়ার সুখই আমার কাছে বড় সুখ হয়ে দেখা দিল!

একেই বোধহয় বলে, পাগলের সুখ মনে মনে...
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×