আজকে আমি আপনাদের একখানা দুঃখের হিস্টোরি শেয়ার করিব,এখন আপনারা কেয়ার করিয়া পড়িলেই হয়। ইহা কুরবানির গরু ক্রয় নিয়া এমন এক স্টোরি যাহা শুনিলে আমার মত নান্না-মুন্না পেয়ারা বাচ্চার জন্য আপনাদের একেবারে কান্না পাইয়া যাইবে।এই স্টোরি টি মাত্র কিছুদিন আগে গত হওয়া গত কুরবানির কথা নয়, যেই বার মানুষ দড়ির দাম দিয়া গরু কিনিয়াছিল,বরং ইহা তাহার আগের কুরবানির কথা যেই বার মানুষ গরুর দাম দিয়া দড়িও কিনিতে পারেনাই

। যাইহোক আসল কথায় আসি। সেই কুরবানির সময় আমার একমাত্র পিতাজি আমাকে ডাক দিয়া কহিলেন, তোর মত আকাইম্মা কে কোন কাজ দেয়া মানেই বোকামি, তারপরও কিছু করিবার নাই, এইবার গরু কিনিতে তুই একাই যাইবি, আমি বৃদ্ধ হইয়াছি, হাঁটে ঘুরাঘুরি করা আমার পোষাইবে না

। পিতার মুখে আমার সম্পরকে এমন মহান বানি শুনিয়া আমি জিহাদি যোশে উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিলাম এবং মনে মনে ভাবিলাম এইবার একখানা গরু কিনিয়া সবাইকে দেখাইয়া দিব। যেই ভাবা সেই কাজ, ঈদের আগের দিন আমার এক বদ কিসিমের দোস্ত (শ্লা বিরাট খাদক

) কে লইয়া হাঁটে রওনা হইলাম। হাঁটে যাইয়া দেখি অগণিত মানুষ আর বাঁশ মাগার কুনো গরু নাই

।
এই অবস্থা দেখিয়া আমার বন্ধু তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার ভঙ্গিতে কহিল, ওহে তোর যে বাজেট তাহাতে এই মন্দার বাজারে গরু তো থাক দড়িও মিলিবেনা, তার চেয়ে তুই একখানা ছাগল কিনিয়া লইয়া যা

। আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে বাম হস্ত দিয়া থাবড়া দিয়া মুখ গোমড়া করিয়া বলিলাম,গরু বাদে অন্য কিছু লইয়া গেলে আমার পিতাজি তাল গাছের ডাল দিয়া আমার পিঠের ছাল তুলিবেন

, এমনকি ছাল তুলিবার জন্য কসাই ও ভাড়া করিতে পারেন, কাজেই নো হাঙ্কিপাঙ্কি। অতঃপর আমরা হাঙ্কিপাঙ্কি বাদ দিয়া অনেক ক্যারেঞ্চি ও কামড়াকামড়ির পর একখানা ছাগল থুক্কু গরু কিনিয়া ফেলিলাম

। কিন্তু দুঃখের কথা আর কি বলিব গরু খানার সাইজ এবং চেহারা উভয়ই ছাগলের সমতুল্য

।
কাজেই আমরা দুই বন্ধুই একমত হইলাম ইহাকে হাঁটাইয়া লইয়া যাওয়ার মত কষ্ট করিবার কোন দরকারই নাই, তাই আমরা তৎক্ষণাৎ একখানা সিএন জি ভাড়া করিয়া উহাতে গরু ভরিয়া আরাম করিয়া বাসায় চলিয়া আসিলাম

। বাসায় আসিয়া আমি একাই গরু খানাকে কোলে করিয়া সি এন জি হইতে নামাইলাম

।
আমার একমাত্র পিতাজি খবর পাইয়া গরু দেখিতে আসিলেন।তিনি আসিয়া, হাসিয়া কহিলেন কিরে গরু কই??? আমি গরু দেখাইলাম, তিনি দেখিয়া কিঞ্চিত কাশি দিয়া বলিলেন ইহা তো খাসী

।আমি একটু সামনে আসিয়া, হাসিয়া কহিলাম আব্বাজান আপনার বয়স হইয়াছে তো তাই আপনি গরু আর খাসির পার্থক্য বুঝিতেছেন না

, ইহা একখানা জলজ্যান্ত গরু, যদিও দেখিতে একটু ছাগলের মত

।
এমনকি একখানা খাম্বার মত ডাণ্ডা দিয়া বাড়ি মারিয়া তাহার হাম্বা ডাক আব্বাকে শুনাইয়া দিলাম

।আব্বাজান আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টি হাঁকিলেন আর কহিলেন বিরাট কাজ করিয়াছেন, এখন একখানা কসাই ঠিক করিয়া আমাকে উদ্ধার করুন।আমি আবারও জিহাদি যোশে উদ্বুদ্ধ হইয়া তৎক্ষণাৎ একখানা রিকশা ওয়ালাকে হাজারে ১০০ হিসেবে কসাই হিসেবে ঠিক করিয়া ফেলিলাম, আর আব্বাকে জানাইলাম কসাই হাজারে ২০০ করিয়া নিবে, মাঝখানে আমার কিছু টু পাইস ইনকাম হইবে

। যাইহোক কসাইকে আনিলাম গরু দেখাইতে, সে দেখিয়া বলিল ইহা তো গরু নহে খাসী, আমি বলিলাম তুমি দুই দিনের রিকশাওয়ালা গরুরে কও খাসী, তুমিতো বলবাই, কারণ তুমিও একটা কসাই আর তেলাপোকাও একটা পাখি

। সে কহিল আমি রিকশাওয়ালা হইতে পারি কিন্তু গরু আর খাসির পার্থক্য বুঝি, আমি তাহার জেদ দেখিয়া আর কথা বাড়াইলামনা, তাহাকে শুধাইলাম ইহাকে সাইজ করিতে সে কত চায়, সে কহিল আপনি তো গরুর কথা বলিয়াছিলেন আর ইহা তো খাসী, ঠিকাছে আপনি ১০০০ টাকাই, দিয়েন, আমি কহিলাম খাসী করিতে এত, সে কহিল ইহা খাসী হইলেও সাইজ ভাল

। আমি আর কথা না বাড়াইয়া রাজি হইয়া গেলাম, কারণ বাকি টাকা তো আমার পকেটেই আসিতেছে

।
প্রিয় ব্লগারগণ গল্পখানা এখানেই শেষ হইলে কতই না ভাল হইত। সকলেই সুখে শান্তিতে বসবাস করিত। কিন্তু প্রতিটা স্টোরিরই একখানা বিহাইন্ড দি স্টোরি থাকে, আমার বেলাতেও তাই হইয়াছিল। আপনারা হয়ত জানেননা আমি এরপর থেকেই গরু নামক প্রাণীটা কে দুই চোখে দেখিতে পারিনা, তাহাদের ঘিলু এতই কম যে তাহাদের আমি সহ্যই করিতে পারিনা। কি দরকার ছিল তাহার জবাই হয়ার আগ মুহূর্তে হাম্বা বলিয়া ডাকিয়া উঠার, তাহাতেই তো কসাই বুঝিয়া গেল যে ইহা খাসী নয় গরু, আর তাহাতেই তো সে সুযোগ বুঝিয়া আমাকে ব্ল্যাকমেইল করিয়া ৫০০০ টাকা চাইয়া বসিল, আমি বলিলাম আরে আমার গরুর দাম ৩০০০০ চুক্তি অনুযায়ী হয় ৩০০০ সে কহিল, আপনি আমাকে তেলাপকার সাথে তুলনা দিয়াছেন এর কমে আমার পক্ষে সম্ভব নয়

।
আমি আর কি করিব নতুন কসাই তখন কোথায় পাইব, কাজেই একটু মোচড়ামুচড়ি করিয়া রাজি হইয়া গেলাম, আর এইভাবেই টু পাইস কামাইবার এত বড় সুযোগ হাত ফসকাইয়া উড়িয়া গেল

।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:০৬