ডিয়ার ব্লগার ভাই’জ এন্ড বোন,আই হেভ আ লাভ স্টোরি অব মাই ও’ন :!> :!> :#> :#> । ইহা এমন একটি স্টোরি যাহা শুনিলে আমার মত পেয়ারা বাচ্চাকে একটুখানি সাহারা দেয়ার জন্য আপনাদের হৃদয় তোলপাড় হইয়া যাইবে

।
এইখানে আপনারা জানিতে পারিবেন কিভাবে আমার প্রথম প্রেম, শুরু হইবার পূর্বেই খতম হইয়া গেল

।
আরও জানিবেন আমরা তিন বন্ধু কিভাবে একসাথে ছেঁকা খাইয়া প্রথমে বেঁকা ও তারপরে একা হইয়া গিয়াছিলাম

যাইহোক কথা বাসী হইবার পূর্বেই আসল কোথায় আসি। সে অনেককাল আগের কথা, আমার মত পেয়ারা বাচ্চা তখন কলেজে পড়িত ।কলেজে উঠিয়া আমি আবিস্কার করিলাম ‘ইফ ইউ হেভ নো প্রেম, দ্যাট ইজ আ রিয়েল শেম,ইউর লাইফ বিকাম’স হেল, এন্ড ইউ লস্ট ইউর বেল’।
ফলে আমার মনে পিরিতির আগুন জ্বলিয়া দ্বিগুণ হইল। এমন অবস্থায় উপরওয়ালাও আমার প্রতি সদয় হইলেন। আমার পাশের বাড়ীর দোতালায় নতুন ভাড়াটিয়া আসিল, আর আসিল তাহাদের ইস্টিং ডিস্টিং ডিজুস সুন্দরি মেয়ে।
তাহাকে দেখিয়া আমার দক্ষিন বাহু স্পন্দিত হইল, আমি গাইয়া উঠিলাম পড়েনা চোখের পলক, কি তোমার রূপের ঝলক...। :#> :#> :#> তখন সে আমার দিকে চাহিল, আর একটুখানি হাসিল। আমি তো মনে মনে কহিলাম, পাইলাম ইহাকে আমি পাইলাম। কিন্তু আমি তখনও জানিতাম না ঘটনা মাত্র শুরু। এই ইস্টিং ডিস্টিং ডিজুস সুন্দরির মন পাইবার জন্য আমাদের এলাকায় ক্রিকেট খেলা বাড়িয়া গেল, আমার রুক্ষ চুলে জেল মাখানো শুরু হইল, সবচেয়ে ভাল জামাকাপড় পরিয়া আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করিলাম।

এইসবের পর আমার নজরে আসিল সেই সুন্দরী প্রায়ই আমার দিকে চাইয়া হাসি দেয়, সাথে আরও লক্ষ করিলাম দিন নাই রাত নাই ২৪ ঘণ্টাই সে বারান্দায় আসিয়া বসিয়া থাকে। আমি ভাবিয়া লইলাম সে আমার প্রেমে দিওয়ানা হইয়াছে :!> :!> :!> ।
এইভাবে কিছুদিন গত হইল, আমি লক্ষ করিলাম শুধু আমারই নয়, আমার বন্ধু বান্ধবদেরও জামায়ও নতুনত্ব আসিয়াছে। তাহারাও চুলে জেল মাখাইতেছে

,জাতির এইরুপ ক্রান্তি লগ্নে একদিন আমার জিগরি দোস্ত হঠাৎ আমাকে বলিয়া বসিল, দোস্ত ওই পাউডার সুন্দরী তো মনে হয় আমারে লাইক করে।

আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে একখানা বন মারিয়া, শ্যেন দৃষ্টি দিয়া কহিলাম ওহে শয়তানের লেজ, উনি তোমার ভাবী হয়, এই নারী প্রায়ই আমার দিকে পেয়ারী দৃষ্টি দেয়, কাজেই তাহার থেকে দূরত্ব বজায় রাখিবে।

আমার দোস্ত আমার দিকে তাকাইয়া, ভুরু নাচাইয়া কহিল অরে বেক্কলের বাটখারা এই দৃষ্টি সে তোর দিকে দেয়না আমার দিকে দেয়।

এখন শুধু ঝোপ বুঝিয়া কোপ মারার অপেক্ষা। এই নিয়া আমরা যখন প্রায় কাইজ্জা লাগিবার উপক্রম তখন আমার আরেক দোস্ত আসিয়া কহিল, তোরা কি লক্ষ্য করিয়াছিস, দোতলার ওই সুন্দরী প্রায়ই আমার দিকে চাহিয়া মুচকি হাসি দেয়। আমি শুনিয়া কহিলাম কস কি মমিন???।
অতঃপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ব্যাপারটা খোলাসা হওয়া দরকার। আমরা ক্রিকেট খেলার উসিলায় তাহার উপর সিক্রেট নজর রাখা শুরু করিলাম। তারপরই ঘটিল সেই ঐতিহাসিক ঘটনা, একদিন ওই বাড়ি র্যাব এর লোকজন আসিয়া ঘিরিয়া ধরিল। আর ওই ডিজুস সুন্দরীর পিতাকে কোমরে কষিয়া দড়ি বাঁধিয়া লইয়া গেল।

আমরা বাড়িওয়ালার ছেলেকে ধরিয়া সবকিছু খুলিয়া বলিতে কহিলাম। সে জানাইল এই লোক নাকি ডাইলের ব্যবসা করিত র্যাব খবর পাইয়া তাহাকে ধরিতে আসিয়াছে। সে আরও জানাইল তাহার ওই ডিজুস সুন্দরী মাইয়া নাকি বারান্দায় বসিয়া সর্বদাই নজর রাখিত, সন্দেহজনক কিছু ঘটে কিনা, তাহা দেখিতে।আর আমরা কিনা ভাবিয়াছিলাম সে আমাদিগের প্রেমে পড়িয়াছে,

কিন্তু আফসোস এত করিয়াও শেষ রক্ষা হইলনা, তাহার পিতাকে সে রক্ষা করিতে পারিলনা। তারপর আর কি তাহাদিগকে বাড়ীওয়ালা একমাসের নোটিশে খেদাইয়া দিল, আর আমার এবং আমার জিগরি দোস্তদের অমর প্রেম ওইখানেই তাহার অমরত্ব বিসর্জন দিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:১০