আজ আমি আপনাদের এমন একখান কাহিনী শুনাইব, যাহা শুনিলে আপনারা এই নাদান বাচ্চার জন্য একবারে পেরেশান হইয়া যাইবেন। ইহা এমন এক দুঃখের কথা, যাহা চিন্তা করিলে আজও আমার মনে ব্যাথা জাগিয়া ওঠে।

বিপদে বন্ধুর পরিচয়, এই কথাটি যে কতখানি সত্যি তাহা আমি এই ঘটনার মাধ্যমেই উপলব্ধি করিয়াছিলাম। আর বিপদে পড়িলে যে মানুষ প্রয়োজনে খরগোশের চেয়েও দ্রুত দৌড়াইতে পারে তাহাও আমি এই ঘটনার মাধ্যমে জানিয়াছিলাম।

যাইহোক এখন আসল কথায় আসি। সে অনেককাল আগের কথা। নির্বাচনের ডামাডোলে তখন আমাদের এলাকায় শীত নামার কোন সুযোগই পায়না, সর্বদাই নির্বাচনের উত্তাপে এলাকা গরম থাকে। এই রূপ এক গরম দিনে আমি আর আমার জিগরি দোস্ত, রাস্তা দিয়া হাঁটিতেছিলাম, আর মনের সুখে গান গাহিতেছিলাম,

এমন সময় হঠাৎ শুনি শোরগোলের আওয়াজ। আমরা দুইজনই অত্যন্ত সাহসী প্রাণী হওয়ায়, এই গণ্ডগোলের আওয়াজ কে পাত্তা না দিয়া আগাইয়া যাইতে লাগিলাম।

হঠাৎ দেখিলাম আমাদের বিপরীত দিক থেকে জনা পঞ্চাশেক লোক দৌড়াইয়া আসিতেছে। তাহার পরেই শুনিলাম
‘ঠুস ঠুস’ শব্দ। আমি নেহায়েত একেবারেই নাদান ও মাসুম বাচ্চা হওয়ায় ঘটনা না বুঝিতে পারিয়া খাম্বার ন্যায় জায়গাতেই স্টপ হইয়া গেলাম, আর আমার জিগরি দোস্ত রে শুধাইলাম আবুইল্লারে (ছদ্মনাম) ঘটনাটা কি???

কিন্তু উপলব্ধি করিলাম, পিছন হইতে কোন সাউন্ড আসিতেছেনা,কাজেই ব্যাপারখানা বুঝিতে পিছনে তাকাইলাম, পিছনে তাকাইয়া দেখি আমার দোস্ত আবুইল্লা আমারে ফালাইয়া বিপদের আঁচ পাইয়াই উলটা দিকে খরগোশের ন্যায়
‘কাঠি ভাঙ্গা দৌড়’ দিয়াছে।

ভাইসকল কি বলিব সে একটু মোটা হওয়ায় এই বিপদ কালেও তাহার চেগাইয়া চেগাইয়া দৌড় দেখিয়া আমার হাসি পাইয়া গিয়াছিল,

কিন্তু আমার হাসি উপরওয়ালা সহিলেন না, হাসির বদলে কাশি উঠাইবার জন্যই মনে হয়,এরপর আরও দুইবার
ঠুস ঠুস আওয়াজ আসিল, আর আমিও বুঝিতে পারিলাম চারিদিকে গুলি চলিতেছে, তাহার সাথে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত শুরু হইল একের পর এক দোকানের শাটার বন্ধ হইবার আওয়াজ।

আমি আর কি বলিব সিচুয়েশন বুঝিয়া, আমার কলিজা মাথায় উঠিল, আর ব্রেইন মাথা হইতে নামিয়া হাঁটুতে চলিয়া গেল,

অতঃপর জান বাঁচাইতে আমি উসাইন বোল্টের ন্যায়, উল্টা দিকে ফিরিয়া
‘কাঠি ভাঙ্গা দৌড়’ দিলাম।

বোল্ট যেখানে ট্রফি পাইবার নিমিত্তে দৌড় দেয়, আমি সেখানে জান বাচাইতে দৌড় দিলাম, কাজেই আমার স্পীড কেমন হইয়াছিল তাহা আপনারা বুঝিতেই পারিতেছেন। অবশ্য আমার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল দৌড়ে আমার দোস্ত আবুইল্লারে হারাইয়া দেয়া, এবং আপনাদের দোয়ায় আমি ইহাতে পূর্ণ রূপে সফল হইয়াছিলাম।

তো যাইহোক নিরাপদ দূরত্ব আসিয়া আমার দোস্তরে শুধাইলাম শ্লা’র্পো তুই আমারে ফেলিয়া দৌড় দিলি কেন??? আর দৌড় দিয়াছিস ভাল কথা একটা ডাক দিয়া দৌড় দিলে কি তোর পয়সা খরচ হইত???

সে কহিল ডাকিনাই মানে গরুর ন্যায় হাম্বা হাম্বা করিয়া ডাকিয়াছি। আমি রাগিয়া বলিলাম তুই নিজে গরু বলিয়া কি আমারেও গরু মনে করিয়াছিলি??? তুই যদি গরুর ন্যায় না ডাকিয়া মানুষের ন্যায় ডাক দিতি তাহলেই তো আমি আর এরুপ বিপদে পড়িতাম না।

সে আর কিছু কহিলনা উদাস নয়নে আকাশের দিকে তাকাইয়া রহিল, তাহার উত্তর না পাইয়া আমিও চুপ হইয়া গেলাম,

আর একটু পরে আমরা একসাথে হাসিয়া উঠিয়া কহিলাম, আজ একেবারে জানের উপর দিয়া গিয়াছে, বড় বাঁচা বাচিয়া গিয়াছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১০