হিজড়াদের হাতে ধরা খাইয়া যাহারা ইজ্জতের প্রায় লাল বাতি জ্বালাইয়াছেন, তাহারাই জানেন, পরিবেশ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ইহারা কতটা ভয়ানক হইতে পারে।

এই হিজড়া লইয়াই আজ আমি আপনাদের আমার এক লুল দোস্তের মজার কাহিনী বয়ান করিব,

যাহার লুলগিরি প্রায় সীমা ছাড়াইয়া গিয়াছিল, এবং যাহার লুলের কারনে প্রায়শই আমাদের অপদস্থ হইতে হইত। তাহার লুলগিরিতে আমাদের বন্ধুমহলের রীতিমতো বিরক্তি আসিয়া গিয়াছিল,

এবং আমরা বন্ধুরা তাহাকে শত বুঝাইয়াও যখন তাহার লুলগিরি ছুটাইতে পারিলাম না, তখন উপরওয়ালাই তাহার লুলগিরি ছুটাইবার ব্যাবস্থা করিয়া দিলেন।

কথা না বাড়াইয়া ঘটনাখানা এখন খুলিয়াই বলি। ঘটনা বুঝিতে আমার এই লুল দোস্তের চরিত্র খানা একটু খোলাসা করি, তাহার লুলগিরি করিবার প্রধান পদ্ধতি ছিল, রাস্তাঘাটে কোন নারী দেখিলেই ‘ওয়াও’ বলিয়া ওঠা। কিন্তু বিষয় হইল যদি সে শুধু ওয়াও বলিয়াই চুপ থাকিত, তাহা হইলেও একটা কথা ছিল, কিন্তু সে শুধু ওয়াও বলিয়াই চুপ থাকিতনা, সাথে বলিত ‘ওয়াও সো হট’।
যাইহোক রাস্তাঘাটে নারী দেখিলেই এই কথা বলিতে বলিতে, ব্যাপারটা তাহার মুদ্রা দোষে পরিনত হইয়া গেল। শিশু হইতে বৃদ্ধ কেহই তাহার এই লুলগিরি হইতে রক্ষা পাইতনা। এইরুপ যখন অবস্থা তখনই এক শুক্রবারে ঘটনা ঘটিয়া গেল। আমাদের এলাকায় তখন প্রতি শুক্রবার হিজড়ারা আসিত চাঁদা চাইবার নিমিত্তে। যাইহোক সেই শুক্রবারেও হিজড়ারা চাঁদা চাইতে আসিয়াছিল।

তাহাদের মধ্যে একজনের চেহারা এবং পোশাক মোটামুটি ভালই ছিল, যাহাকে পোশাকের কারনে পিছন হইতে হিজড়া বলিয়া চিনিবার উপায় ছিলনা। কথায় বলে ‘প্রথমে দর্শন ধারী, তারপর গুন বিচারি’।
এই কথা যে কতখানি সত্য, তাহা আমরা সেইদিন হাতে নাতে প্রমান পাইয়া গেলাম, আর আমার লুল দোস্ত প্রথম দর্শনের চক্করে কট খাইয়া গেল।

এই হিজড়া যখন দোকান হইতে পয়সা উশুল করিতেছিল, তখন সে তাহাকে নারী মনে করিয়া, চেহারা না দেখিয়াই, পিছন হইতে কপাল দোষেই মনে হয়, তাহার চির পরিচিত ডায়ালগ, ‘ওয়াও সো হট’ বলিয়া বসিল।

আর যায় কোথায় হিজরাটি তাহার কথা শুনিয়া, তাহার দিকে পিছন ফিরিয়া তাকাইল, আর বাংলা ছবির নায়িকার ন্যায় একখান ভূবন ভুলানো হাসি দিল।

ইহাতে আমার ‘গোল মাটোল’ লুল দোস্তের চেহারাখানা যা হইল তাহা ভাষায় প্রকাশ করিবার মত নয়। তাহাকে দেখিয়া মনে হইতেছিল, তাহার চক্ষু অক্ষিগোলক হইতে বাহির হইয়া মধ্যাকর্ষণ সূত্র অনুযায়ী মাটিতে নিপতিত হইবে।

যাইহোক, হিজরাটি শুধু হাসিতেই ক্ষান্ত না হইয়া লুল দোস্তকে বলিল, ‘তুই খুব ভালোরে, আমারে বিয়া করবি???’ এই প্রশ্ন করিয়া উত্তরের অপেক্ষা না করিয়াই তাহার দিকে একখানা ফ্লাইং কিস ছুড়িয়া দিল।

আমার লুল দোস্ত ততক্ষনে বুঝিয়া ফেলিয়াছে যে, ভুলের সাথে সাথে অনেক বড় মিস্টেক হইয়া গিয়াছে, কাজেই সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করিয়া উল্টা দিকে খরগোশের ন্যায় দৌড় দিয়া পালাইল।

আর আমরা ঘটনা দেখিয়া হাসিতে হাসিতে দিশা হারাইয়া ফেলিলাম। এই ঘটনার পর বন্ধু মহলে সে হিজড়ার জামাই হিসেবে পরিচিতি পাইয়াছিল, এবং তাহার লুলগিরি চিরকালের মত বন্ধ হইয়া গিয়াছিল।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩১