এক কথায় মানবতা লুন্ঠন। বহু কথায় শিশু নারীসহ সাধারণ মানুষের বা একটি সংখালঘু গোষ্ঠির বেঁচে থাকার আর্তনাদ।শাসক গোষ্ঠির নির্বিচারে হত্যা আর ধর্ষনের মতো জঘন্য হামলার শিকার ওই গোষ্ঠি। মানুষগুলি শোষিত হেচ্ছ চরম বর্বোরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন এ ছাঁড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু আমরা শুরু থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম শব্দটি বলতে বলতে ওই গোষ্ঠির ওপর নির্যাতনের একপেশে হিডেন সমর্থন যোগীয়েছি। যা ছিল সূচীর মনোবাসনা।বর্তমান পৃিথবী ধর্মীয় বিবেধ ভোলার প্রতিজ্ঞা করেছে অনেক আগেই। "যার যার ধর্ম তার তার কছে " "সবার ওপর মানুষ সত্য" এদুটি বাক্যকে প্রধান্য দিয়েছে সব ধর্মই। মানবিকতাকে প্রধান্য দিয়েই গোটা বিশ্ব আজ সন্ত্রাসবাদ সহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তাই আজ যদি কোন মানুষের ওপর অত্যাচার নিপিড়ন শেষ সিমানায় পৌছে সেখানে ওই মানুষটি কোন ধর্মের তাকে প্রধান্য দেয়াটা আধুনিক বিশ্বের নৈতিকতা হতেই পারেনা।
শুরু থেকেই আমারা কেন বারবার বলছি রোহাঙ্গা মুসলিম। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা গোষ্ঠির মানবতা বিপর্যয় এটাইতো সঠিক।মানবতার বিপর্যয়কে ধর্মীয় মোড়কে পেঁচালে নিশ্চই গোটা বিশ্ব বিপদগ্রস্থ হবে।
ধর্মীয় বা জাতীগত গোরামিই যদি মৌলবাদ, কেউ ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষ থেকে হিংস্র হয়ে ওঠলে সেটা অবশ্যই জঙ্গি তৎপড়তা। রোহিঙ্গা মুসলিম,আবার মুসলিম ক্ষমতাসীন দেশগুলো কিছু বলছেনা কেন, কিছু করছেনা কেন এমন মতামত আসবে কেন ? এখানেতো শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়ের পক্ষ থেকে একটা কথাই আসবে "মানবিকতার বিপর্যয়"। মানবিকতার বিচারে কেন মুসলিম -অমুসলিম বা খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ এমন ভাগ করা হবে।
মানবতার চরম বিপর্যয় ঠেকাতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব রাষ্ট্রকেই এক হতে হবে। হাত ভেঙ্গে দিতে হবে জঙ্গিবাদের। কোন রাষ্ট্রের মানবিক বিপর্যয়ের সময় যদি গোটা রাষ্ট্রর জনগণ বিবেকহারা হয় তাহলে বিশ্ব থেকে সেই রাষ্ট্রের মানচিত্র মুছে ফেলতে হবে। অন্যথায় গোটা বিশ্বের উন্নয়নের অগ্র যাত্রায় ভাটা পড়বে।ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের কারনে আবারো বিশ্বযুদ্ধ হাতছানি দেবে।
আমি বলবো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বমানবিকতার ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নিপিড়িত গোষ্ঠির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শ থেকে রোহিঙ্গাদের পক্ষ নিয়েছে আজ।সম্প্রীতির রাষ্ট্র বাংলাদেশ কোন ধর্মীয় গোষ্ঠির পক্ষ নেয়না তার প্রমান এ দেশের সকলেরই জানা। যদি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে মুসলিম গোষ্ঠির পক্ষ নেয় হতো তাহলে অন্যান্য ধর্মীয় প্রধান দেশগুলো অন্তত এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার জন্য ত্রান পৌছে দিতনা। এ সবই হচ্ছে মানবিক বিপর্যয় রুখতে।
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইরান সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইব্রাহিম রাইমপুর। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের কাছে তিনি আহ্বান জানিয়েছন।ইব্রাহিম রাইমপুর বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় ও সহযোগিতা করায় আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। এই পরিস্থিতিতে আমরাও বাংলাদেশ সরকারের মতো ব্যথিত। বাংলাদেশ সরকারের মতো আমরাও একই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা প্রমাণ করতে চাই, যেকোনো ধরনের জুলুম হলে বিশ্ব আজ ঐক্যবদ্ধ। ইরানের নারী এমপি চেনা রানি বলেন, ‘সবার আগে মানবতা। কে মুসলিম, কে হিন্দু, খ্রিষ্টান বা বৌদ্ধ সেটা বড় কথা নয়। আমরা মানবতার পক্ষে। তাই রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাহায্য করতে আমরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেন ত্রান সহযোগীতা দিতে এসে তারা এসব কথা বলেন।গণমাধ্যমগুলো তার প্রমান। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত থেকে , ইন্দোনেশিয়া ও ইরান থেকে চাল,তেল তবু, কম্বল, রান্নার হাঁড়ি,পাতিল, চিনি, চা-পাতা ও ওষুধসহ বিপুল পরিমান ত্রানসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রাম পোড়ানোর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, এতে প্রমাণ হয় মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। এটাও প্রমাণিত যে, মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের সেদেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিয়ানমারে বসবাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক এই সংকটের কারণে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে।
বর্তমান ঘৃণিত এই মানবিক ববিপর্য়ের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, এই সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গারা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। গ্রামবাসীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য। সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টও রাখাইনে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে বলেছে মিয়ানমারকে। রাখাইনে মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে অং সান সু চির শাখারভ পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সু চির নোবেল পুরস্কার নিয়েও। অ্যামনেস্টি বলেছে, নিরাপত্তাবাহিনী গ্রামকে ঘিরে রাখে, পালানোর সময় মানুষকে গুলি করে, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়—এসবই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
অবশ্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত রাখাইনে চলা সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলেছেন, মিয়ানমার এ ধরনের নৃশংসতা কখনো বরদাশত করবে না।
মিয়ানমারের সুচি সরকারের বর্বোররতার প্রতি আন্তর্জাতিক মহল নিন্দা প্রকাশসহ বাংলাদেশ সরকারকে যখন সাধুবাদসহ সহযোগীতা করছে, তখনই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টার বারবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। বাংলাদেশের দেয়া "সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার" আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সেদেশের সরকার।
পক্ষান্তরে বাংলাদশ তার আকাশসীমা লঙ্ঘনের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানায় । পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেছেন উসকানি মুলক সর্ব ভৌমত্ব বিনষ্টের এ ধরনে তৎপড়তার জন্য অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।তার জন্য মিয়ানমারকেই দায়ি থাকতে হবে।
মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক ব্রিটিশ অভিনেত্রীর কথার সুরধরে এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মনভাবের প্রক্ষাপট থেকে বলতে চাই মিয়ানমারে ঘটেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। কোন ধর্মীয় বিপর্যয় সেখানে ঘটেনি।কোন মুসলিম রাষ্ট্রকে নয় বিশ্ববাসির প্রতি আহবান এ মানবিক বিপর্যয় আর বাড়তে দেয়া যায়না।এখনি রুখতে হবে জঙ্গী সু চীকে।মিয়ানমার বাসিকে বলবো বর্বর সুচীকে উৎখাত করতে না পারলে দশটি তার স্বাধীনতা হারাতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট খুব খারাপ দিকে মোড় নিতে চলেছে বলে জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করার পর ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থমসন সু চিকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, ‘আমি জীবনে যে কয়েকজনের কাজে উৎসাহিত হয়েছি, আপনি তাঁদের একজন। কিন্তু যখন নারী ও শিশুরা নিগৃহীত হচ্ছে, তখন আমি চুপ থাকতে পারি না।’৫৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, দুই দশক ধরে গৃহবন্দী থাকার পর ২০১৫ সালে অং সান সু চি যখন মিয়ানমারে শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, তখন তিনি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন। এর আগে ২০১১ সালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে এমা আরও বলেন, তাঁর কর্মচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনায় তিনি বিমোহিত হয়েছিলেন। তখন থেকে মিয়ানমারে কী ঘটছে-না ঘটছে, সে ব্যাপারে তিনি খেয়াল রাখছেন।চিঠিতে সু চির উদ্দেশে আক্ষেপের সুরে এমা বলেন, ‘আপনি আপনার সুন্দর দেশটিতে আলোর ছটা ফেলেছেন। তাই আপনার প্রতি আমার প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু যে লাখ লাখ মানুষ তাঁদের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে অর্পণ করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার এতটুকু প্রতিফলন ঘটেনি।' মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দমনমূলক নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে অং সান সু চিকে তাঁর ‘নৈতিক মূল্যবোধ’-এর প্রয়োগ করতে বলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। মিয়ানমারে ঘটে চলা নৃশংসতাকে এ সময় ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
বরবর সু চী কে বলছি, দীর্ঘদিনের সামরিক জান্তার শাসনের পর গণতন্ত্রের নেত্রী পরিচয়ে মিয়ানমারের নেতৃত্বে এসেছেন । আর এখন গণতন্ত্রের পধান শিক্তি জনগনের ওপর হিংস্র থাবা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে আপনার স্বর্থ হাসিল হবে না। এর আগেও কেউ পারেনি। রাজনৈতিক মোড়কে আপনার ধর্মীয় উন্মাদনার গণহত্যা স্পষ্ট।তাই আপনি মৌলবাদি জঙ্গী।আর বিশ্ববাসি আপনার মতো পাগল নয় ধর্মীয় উন্মাদনায় মানবতার বিপর্যয় মেনে নেব। শেষ কথা, বাংলাদেশ সম্প্রিতির রাষ্ট্র।বাংলার স্বাধীনতার নায়ক বঙ্গবন্ধুর কণ্যা ক্ষমতায়।মিয়ানমারকে মোকাবেলার ক্ষমতা অর্জন করেছে অনেক আগেই। বিশ্ববাসির সমর্থন কারদিকে ভালমতো পর্যবেক্ষন করুন।এ দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কি বুঝাতে চাইছেন। আপনার জন্য শেষে যেন মিয়ানমারের মানিচত্র বিলিন না হয়। ##

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



