
কিছু সুসভ্য মানুষেরা আড়াআড়ি প্রায়নগ্ন হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছে চারপাশে। যেন অজস্র মনিমুক্ত আর জাফরানের মাঝে বেমানান আমি আটসাটো হয়ে বসে উপভোগ করছি শীতল সক্ষমতা।
হ্যা, বেশ ঠান্ডা পড়েছে বছরের এই শেষরাতে। তবে লন্ডনে তুষারপাত হয়নি এবার, এখনও। মানুষ কানাকানি করছে গত ২৫ বছরে নাকি এমন ডিসেম্বর আসেনি যে সুর্যের পশরা ম্লান করছে হিমবাহ- বৃষ্টিতে উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ।
হয়ত বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন আর প্রথাগত মানুষের চারপাশের পর্যবেক্ষণ এসব আলোচনাকে উসকে দিচ্ছে।
আমার থেকে একটু তফাতে দু'জন সুঠাম দীর্ঘদেহী তন্বী অতিসংক্ষিপ্ত কাপড়ে কাঁপছে। রিনরিন করছে তাদের সোনালী লোমের অনাবৃত বাহু। আমার পাপাসক্ত চোখ কিন্তু বিভ্রান্ত হলো মদির চাহনীর সহজিকায়, কোন আস্ফালন নেই, আগ্রহ নেই, ভয় নেই এমনকি লজ্জাও নেই ঐ ভাবলেশহীন চোখবৃত্তে, তবে কি মানুষ হারিয়েছে তার যাবতীয় চাওয়ার সুনির্মিত আকাংখা, নাকি মানুষের ভোগের পরিধি আজ মহাকাশের মতো বিভ্রান্ত, অসীম এবং অলিক!
ট্রেনের দুলুনিতে আমার ভাবনার সুর কেটে গেলে আমি মননিবেশ করলাম আমার বিপরীতে বসে থাকা বৃদ্ধ আর বৃদ্ধাযুগলে। তাদের বয়সী ঠোঁটে অপর্যাপ্ত শ্বেদ- পরস্পর আকড়ে আছে যেন বিচ্ছেদের পরবর্তী ভাবনায়। শরীর ঢেকেঢুকে টানটান আমার মতো। তবে কি মানুষের নিয়তিই সবচে বড় শিক্ষক, ভয়ের পর্যালাচনা আর সমাপ্তির রহস্যময় যবনিকাপাত!
এসব ভাবনায় আমাকে নপুংশক করে, এসব ভাবনায় আমাকে ডিসেম্বরের কুয়াশা আর বরফজাত তৃতীয়সন্ধ্যার মতো কুর্নিশ করে। আমি আবারও দেখি; নগ্নতায় নিমগ্ন হয়ে হয়ে কাম ভুলে কল্পনা তুলে নিই মস্তিস্কের কেন্দ্রে। আমার হয়ে যায়!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




